Dhaka ০৩:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ছুটির আনন্দে ঘরমুখী মানুষের ঢল, গাজীপুরে মহাসড়কে তীব্র চাপ

নিজস্ব প্রতিবেদক
8 / 100 SEO Score

 

টানা তিন দিনের ছুটি পেয়ে শিল্প অধ্যুষিত গাজীপুর ছেড়ে উত্তরাঞ্চলে ফিরছেন লাখো কর্মজীবী মানুষ। একরকম ঈদের আনন্দ, উচ্ছ্বাস দেখা যাচ্ছে তাদের মাঝে। তবে বাড়তি ভাড়া আর পথের ভোগান্তি পিছু ছাড়ছে না কোনো ক্রমেই।

বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে গাজীপুরের ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা ত্রিমোড় ও ঢাকা- ময়মনসিংহ মহাসড়কের চান্দনা চৌরাস্তা, মাওনা চৌরাস্তা এলাকায় ঘরমুখী যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে।

শিল্প পুলিশ জানায়, জুলাই গণঅভ্যুত্থান উপলক্ষ্যে দুই দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। সেই সাথে সাপ্তাহিক বন্ধের দিন শুক্রবার মিলিয়ে টানা তিনদিন ছুটি পেয়েছেন সব শিল্প কারখানার শ্রমিকরা। যার কারণে কর্মজীবী মানুষ ঘরে ফিরছে।

উত্তরাঞ্চলের ২৬ জেলার প্রবেশদ্বার চন্দ্রা ত্রিমোড়ে ভোর থেকে কর্মজীবী মানুষের চাপ বাড়তে থাকে। বেলা বাড়লে সড়কে ২ কিলোমিটার অংশে যানজট সৃষ্টি হয়। এ জেলায় বসবাসরত নানা পেশার মানুষ তিন দিনের ছুটিতে পরিবার নিয়ে গ্রামে ফিরছেন।

এদিকে এই সুযোগে হঠাৎ পরিবহনের ভাড়াও দ্বিগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। চন্দ্রা এলাকার বেশ কিছু বাস কাউন্টারে টিকিটের কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে অধিক ভাড়া আদায় করছেন কর্তৃপক্ষ। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।

অপরদিকে, ঢাকা- ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে যাত্রীদের চাপ রয়েছে। কাঙ্ক্ষিত পরিবহন না পেয়ে অনেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে আছেন। বিভিন্ন স্থানে সড়কের জটিলতা থাকায় যানজটও পোহাতে হচ্ছে।

চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় কাউন্টারে দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রী জেরিন আক্তার বলেন, তিন দিনের ছুটি পেয়েছি। খামোখা বসে থাকবো কেন, তার চেয়ে বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সাথে সময় কাটিয়ে আসি। কিন্তু বাস কাউন্টারে এসে দেখি টিকিট নেই। দুইটা বাসে উঠার চেষ্টা করলাম ৭০০ টাকার ভাড়া এক হাজার টাকা চাচ্ছে।

ইকলাছুর রহমান নামে এক যাত্রী বলেন, উত্তরবঙ্গের মানুষের জন্য সব চেয়ে কষ্টের বিষয় হলো যখন আমরা ঘরমুখী হই, তখনই আমাদের গলার কাটা হয়ে দাঁড়ায় বাস ভাড়া। এই দেখেন আজ বহু মানুষ ঘরে ফিরছে সেইটা দেখেই বাস মালিকরা এক লাফে ৫০০ টাকার ভাড়া ৮০০ টাকা করে ফেলেছে।

চন্দ্রা এলাকার শাহ ফাতেহ আলী পরিবহন বাস কাউন্টারের মালিক ইলিয়াস হোসেন বলেন, আমাদের তো কিছু করার নেই। পরিবহনের তুলনায় যাত্রীর চাপ বেশি থাকলে সংকট হবেই। তাছাড়া যাত্রীদের চাপ বাড়লে কিছু যানবাহন কাউন্টারের নিয়ন্ত্রণে থাকে না। উল্টাপাল্টা যাত্রী উঠানো শুরু করে। এমন নানা কারণেই ভাড়া বেড়ে যায়।

তবে এ বিষয়ে হাইওয়ে পুলিশ গাজীপুর রিজিয়নের নাওজোড় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাফর হোসেন বলেন, আজ ভোর বেলা থেকেই যাত্রীদের তীব্র চাপ দেখা দিয়েছে। আমরা সড়কের শৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করছি। এছাড়াও পরিবহনের অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়েও আমরা সতর্ক করেছি।

 

Tag :

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

sixteen + thirteen =

About Author Information

ছুটির আনন্দে ঘরমুখী মানুষের ঢল, গাজীপুরে মহাসড়কে তীব্র চাপ

Update Time : ০৫:২৮:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬
8 / 100 SEO Score

 

টানা তিন দিনের ছুটি পেয়ে শিল্প অধ্যুষিত গাজীপুর ছেড়ে উত্তরাঞ্চলে ফিরছেন লাখো কর্মজীবী মানুষ। একরকম ঈদের আনন্দ, উচ্ছ্বাস দেখা যাচ্ছে তাদের মাঝে। তবে বাড়তি ভাড়া আর পথের ভোগান্তি পিছু ছাড়ছে না কোনো ক্রমেই।

বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে গাজীপুরের ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা ত্রিমোড় ও ঢাকা- ময়মনসিংহ মহাসড়কের চান্দনা চৌরাস্তা, মাওনা চৌরাস্তা এলাকায় ঘরমুখী যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে।

শিল্প পুলিশ জানায়, জুলাই গণঅভ্যুত্থান উপলক্ষ্যে দুই দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। সেই সাথে সাপ্তাহিক বন্ধের দিন শুক্রবার মিলিয়ে টানা তিনদিন ছুটি পেয়েছেন সব শিল্প কারখানার শ্রমিকরা। যার কারণে কর্মজীবী মানুষ ঘরে ফিরছে।

উত্তরাঞ্চলের ২৬ জেলার প্রবেশদ্বার চন্দ্রা ত্রিমোড়ে ভোর থেকে কর্মজীবী মানুষের চাপ বাড়তে থাকে। বেলা বাড়লে সড়কে ২ কিলোমিটার অংশে যানজট সৃষ্টি হয়। এ জেলায় বসবাসরত নানা পেশার মানুষ তিন দিনের ছুটিতে পরিবার নিয়ে গ্রামে ফিরছেন।

এদিকে এই সুযোগে হঠাৎ পরিবহনের ভাড়াও দ্বিগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। চন্দ্রা এলাকার বেশ কিছু বাস কাউন্টারে টিকিটের কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে অধিক ভাড়া আদায় করছেন কর্তৃপক্ষ। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।

অপরদিকে, ঢাকা- ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে যাত্রীদের চাপ রয়েছে। কাঙ্ক্ষিত পরিবহন না পেয়ে অনেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে আছেন। বিভিন্ন স্থানে সড়কের জটিলতা থাকায় যানজটও পোহাতে হচ্ছে।

চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় কাউন্টারে দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রী জেরিন আক্তার বলেন, তিন দিনের ছুটি পেয়েছি। খামোখা বসে থাকবো কেন, তার চেয়ে বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সাথে সময় কাটিয়ে আসি। কিন্তু বাস কাউন্টারে এসে দেখি টিকিট নেই। দুইটা বাসে উঠার চেষ্টা করলাম ৭০০ টাকার ভাড়া এক হাজার টাকা চাচ্ছে।

ইকলাছুর রহমান নামে এক যাত্রী বলেন, উত্তরবঙ্গের মানুষের জন্য সব চেয়ে কষ্টের বিষয় হলো যখন আমরা ঘরমুখী হই, তখনই আমাদের গলার কাটা হয়ে দাঁড়ায় বাস ভাড়া। এই দেখেন আজ বহু মানুষ ঘরে ফিরছে সেইটা দেখেই বাস মালিকরা এক লাফে ৫০০ টাকার ভাড়া ৮০০ টাকা করে ফেলেছে।

চন্দ্রা এলাকার শাহ ফাতেহ আলী পরিবহন বাস কাউন্টারের মালিক ইলিয়াস হোসেন বলেন, আমাদের তো কিছু করার নেই। পরিবহনের তুলনায় যাত্রীর চাপ বেশি থাকলে সংকট হবেই। তাছাড়া যাত্রীদের চাপ বাড়লে কিছু যানবাহন কাউন্টারের নিয়ন্ত্রণে থাকে না। উল্টাপাল্টা যাত্রী উঠানো শুরু করে। এমন নানা কারণেই ভাড়া বেড়ে যায়।

তবে এ বিষয়ে হাইওয়ে পুলিশ গাজীপুর রিজিয়নের নাওজোড় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাফর হোসেন বলেন, আজ ভোর বেলা থেকেই যাত্রীদের তীব্র চাপ দেখা দিয়েছে। আমরা সড়কের শৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করছি। এছাড়াও পরিবহনের অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়েও আমরা সতর্ক করেছি।