Dhaka ০৬:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জনগণের ভোটে ক্ষমতায় বিএনপি সরকার,বললেন প্রধানমন্ত্রী

নিজেস্ব প্রতিবেদক
14 / 100 SEO Score

 

জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করেছে বিএনপি—এমন দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন পর দেশের মানুষ তাদের ভোটাধিকার ফিরে পেয়েছে এবং গণরায়ের মাধ্যমেই বিএনপিকে আগামী পাঁচ বছরের জন্য রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে।

সোমবার (২০ এপ্রিল) শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত জনসভায় বিএনপি চেয়ারম্যান এসব কথা বলেন।

বেলা পৌনে ৬টায় প্রধানমন্ত্রী মঞ্চে এসে পৌঁছালে হাজারো সমর্থক মুহুর্মুহু করতালি দিয়ে সরকার প্রধানকে শুভেচ্ছা জানান। হাস্যোজ্জ্বল প্রধানমন্ত্রী হাত নেড়ে তাদের শুভেচ্ছার জবাব দেন। জেলা বিএনপি এ জনসভার আয়োজন করে।

জনসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বিগত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে এই দেশের মানুষের বাক স্বাধীনতা হরণ করা হয়েছিল। সকল প্রকার রাজনৈতিক স্বাধীনতা হরণ করা হয়েছিল, হরণ করা হয়েছিল তাদের ভোটের অধিকার।

আমরা দেখেছি কিভাবে উন্নয়নের নামে প্রতারণা করা হয়েছে, উন্নয়নের নামে লুটপাট করা হয়েছে। অথচ আমরা নির্বাচনের আগে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম সেই কাজের বাস্তবায়ন আমরা শুরু করছি পর্যায়ক্রমিকভাবে।

তিনি বলেন,গত ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের মানুষ তাদের ভোটের অধিকার প্রয়োগ করেছে যা দীর্ঘবছর ধরে কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। ভোটের অধিকারের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষ রায় দিয়েছে। ভোটের মাধ্যমে তারা জাতীয়তাবাদী দল বিএনপিকে আগামী পাঁচ বছরের জন্য দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে।

তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে আমরা দেশের মানুষকে বলেছিলাম আমরা কীভাবে দেশ পরিচালনা করবো। আজকে এই বগুড়ার গাবতলীতে আমরা ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করে এসেছি।

দেশের মানুষের সামনে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম যে, বিএনপি যদি সরকার গঠন করতে সক্ষম হয় আল্লাহর রহমতে তাহলে এই দেশের মায়েদেরকে স্বাবলম্বী করার জন্য আমরা ফ্যামিলি কার্ড চালু করবো। সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ সরকার গঠন করার সাথে সাথে আমরা শুরু করেছি।

তারেক রহমান বলেন, শুধু তাই নয় এইখানে এই মঞ্চে দাঁড়িয়ে আমি বলেছিলাম, বিএনপি যদি সরকার গঠন করতে সক্ষম হয় তাহলে আমরা দেশের কৃষক ভাইদের পাশে দাঁড়াবো, মা বোনদেরকে যেমন ফ্যামিলি কার্ড দেবো কৃষক ভাইদেরকে আমরা কৃষি কার্ড পৌঁছে দেব।

কৃষক ভাইদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ আছে, সেই কৃষি ঋণ সুদসহ আমরা মওকুফ করবো।

তিনি বলেন, ইনশাআল্লাহ আল্লাহর রহমতে আপনাদের দোয়ায় সেই কাজটি সরকার গঠনের প্রথম ১০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করেছি। যার ফলে সারা বাংলাদেশে ১২ লাখ কৃষকের ঋণ মওকুফ হয়ে গেছে সুদসহ।

এদিকে জনসভা শুরুর আগেই দুপুর থেকে ছোট ছোট মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে জনসভায় আসতে শুরু করেন। বিকাল ৩টার মধ্যে পুরো মাঠ প্রাঙ্গণ জনসমুদ্রে রূপ নেয়। মাঠ প্রাঙ্গণ ছাড়িয়ে আশপাশের সড়কগুলোতেও নেতাকর্মীদের অবস্থান নিতে দেখা যায়।

জুলাই সংস্কার কমিশন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ১১টি কমিশন করেছিল। এর মধ্যে সংবিধান আছে, বিচারের বিষয় আছে, স্বাস্থ্য আছে, নারী আছে।

তিনি বলেন, এখন যারা এই সংস্কার সংস্কার করে জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চাচ্ছে, জুলাই সনদ সম্পর্কে বিভ্রান্ত করতে চাচ্ছে; তারা কিন্তু নারীর স্বাধীনতা অথবা নারীর উন্নয়ন নিয়ে কোনো কথা বলে না।

এ সময় জনসভা মঞ্চে তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান উপস্থিত ছিলেন।

জেলা বিএনপির সভাপতি ও স্থানীয় সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশার সভাপতিত্বে এবং জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য মোশারফ হোসেনের সঞ্চালনায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, জুলাই সনদ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বাস্তবায়নে বিএনপি প্রতিশ্রুতি দিলেও ‘কিছু রাজনৈতিক দল’ জনগণকে বিভ্রান্ত করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘আজ এই হাজারো মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে, এই মিডিয়ার সামনে পরিষ্কারভাবে আমি আবারও বলে দিতে চাই—সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল যে জুলাই সনদে সই করে এসেছে, সেই জুলাই সনদের প্রত্যেকটি শব্দ, প্রত্যেকটি অক্ষর আমরা এক এক করে বাস্তবায়ন করবো ইনশাল্লাহ।’

‘কিন্তু বারবার পরিস্কারভাবে এই কথা বলে দেওয়ার পরেও আমরা দেখলাম যে কিছু রাজনৈতিক দল সংসদে এবং সংসদের বাইরে জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য কিছু কথাবার্তা বলা শুরু করেছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ যাতে ওষুধ সহজে পেতে পারে, চিকিৎসা সহজে পেতে পারে—সেটির ব্যাপারে তারা কোনো কথা বলে না।

কীভাবে প্রশাসনকে ঠিক করতে হবে সেটির কথা তারা বলে না, কীভাবে আইনশৃঙ্খলা ঠিক করতে হবে সেটির কথা তারা বলে না; তারা শুধু সংবিধান সংবিধান করে যাচ্ছে।’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, ‘নির্বাচনের সময় আমি আপনাদের বলেছিলাম যে- কীভাবে তারা বিভ্রান্ত করছে। এই গুপ্ত বিভ্রান্তকারীরা আবারও এই বিভ্রান্তির কাজ শুরু করেছে।

দুদিন আগের ঘটনা, এই গতকালকের ঘটনা— ময়মনসিংহের ওদিকে একটি জেলায় একটি ব্যক্তিগত তুচ্ছ ঘটনা ঘটেছে।’

‘এক ছেলে এক মেয়ের সাথে প্রেম করত, তারা বিয়ে-শাদি করেছে, তাদের পরিবারের সমস্যা; দেখেছেন আপনারা, ফেসবুকে দেখেননি? কিন্তু সাথে কি এটাও দেখেছেন—একটি পারিবারিক, একটি ব্যক্তিগত ঘটনাকে কারা রাজনৈতিক রূপ দিয়ে দেশে অশান্তির সৃষ্টির চেষ্টা করেছে, দেখেছেন আপনারা সবাই?’

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণের পর বগুড়ায় এটিই তারেক রহমানের প্রথম জনসভা। এর আগে গত ২৯ জানুয়ারি আলতাফুন্নেছা মাঠেই নির্বাচনি জনসভা করেছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যান।

দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিএনপি আপনাদের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, আমরা পর্যায়ক্রমিকভাবে তার প্রত্যেকটি কাজ শুরু করেছি।

ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং ইমাম-মোয়াজ্জিনদের সম্মানীর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এসব কাজ বাস্তবায়ন হলে দেশের খেটে খাওয়া মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে।

অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান নিয়ে তারেক রহমান আরও বলেন, স্বল্প খরচে দেশের তরুণ সমাজের জন্য বিদেশে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে আমরা বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছি।

ইনশাআল্লাহ, শিগগিরই আপনারা সুখবর পাবেন। এ ছাড়াও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বিখ্যাত ‘খাল খনন কর্মসূচি’ আমরা আবার দেশব্যাপী শুরু করবো।

আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করার পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে, যাতে কৃষকের ফসল রক্ষা পায় এবং খরা মৌসুমে পানির অভাব না হয়।

বগুড়ার স্থানীয় উন্নয়ন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেন, বগুড়াবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথের কাজ দ্রুত শুরু করা হবে।

এ ছাড়া স্থানীয় কৃষিপণ্য বিদেশে রপ্তানির জন্য বগুড়া বিমানবন্দরকে কার্গো বিমান ওঠানামার উপযোগী করে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। সেই সাথে নবঘোষিত সিটি করপোরেশনকে একটি পরিকল্পিত ও নান্দনিক শহর হিসেবে গড়ে তোলার আশ্বাস দেন।

তারেক রহমানের পৈতৃক ভিটা বগুড়ায় আগমন উপলক্ষে সোমবার জনসভার আয়োজন করে জেলা বিএনপি।

জনসভায় তারেক রহমান বলেন, যখন স্বৈরাচারের ভয়ে অন্য কোনো রাজনৈতিক দল ‘সংস্কার’ এর ‘স’ শব্দটিও উচ্চারণ করার সাহস পায়নি, তখন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ৩১ দফা সংস্কার কর্মসূচি দিয়েছিল।

কারণ আমরা দেখেছিলাম কীভাবে গত ১৬ বছরে দেশের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ব্যাংকিং ও যোগাযোগ ব্যবস্থাকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। মেগা প্রজেক্টের নামে কেবল লুটপাট আর দুর্নীতি করা হয়েছে।

জনসভায় উপস্থিত জনতার উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৫ই আগস্ট দেশ স্বৈরাচারমুক্ত হওয়ার পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সংস্কার কমিশন গঠন করেছে।

জনগণের পক্ষ থেকে আমরা আমাদের স্বচ্ছ প্রস্তাবনা সেখানে জমা দিয়েছি। আমরা সবসময় বলি, আমরা যা করবো স্বচ্ছভাবে করব, কোনো লুকোচুরি নেই। গণতন্ত্রে মতের পার্থক্য থাকবেই, কিন্তু আমাদের লক্ষ্য দেশের মানুষের উন্নয়ন।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনগণের ভোটে ক্ষমতায় বিএনপি সরকার,বললেন প্রধানমন্ত্রী

Update Time : ০৫:৫৯:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
14 / 100 SEO Score

 

জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করেছে বিএনপি—এমন দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন পর দেশের মানুষ তাদের ভোটাধিকার ফিরে পেয়েছে এবং গণরায়ের মাধ্যমেই বিএনপিকে আগামী পাঁচ বছরের জন্য রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে।

সোমবার (২০ এপ্রিল) শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত জনসভায় বিএনপি চেয়ারম্যান এসব কথা বলেন।

বেলা পৌনে ৬টায় প্রধানমন্ত্রী মঞ্চে এসে পৌঁছালে হাজারো সমর্থক মুহুর্মুহু করতালি দিয়ে সরকার প্রধানকে শুভেচ্ছা জানান। হাস্যোজ্জ্বল প্রধানমন্ত্রী হাত নেড়ে তাদের শুভেচ্ছার জবাব দেন। জেলা বিএনপি এ জনসভার আয়োজন করে।

জনসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বিগত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে এই দেশের মানুষের বাক স্বাধীনতা হরণ করা হয়েছিল। সকল প্রকার রাজনৈতিক স্বাধীনতা হরণ করা হয়েছিল, হরণ করা হয়েছিল তাদের ভোটের অধিকার।

আমরা দেখেছি কিভাবে উন্নয়নের নামে প্রতারণা করা হয়েছে, উন্নয়নের নামে লুটপাট করা হয়েছে। অথচ আমরা নির্বাচনের আগে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম সেই কাজের বাস্তবায়ন আমরা শুরু করছি পর্যায়ক্রমিকভাবে।

তিনি বলেন,গত ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের মানুষ তাদের ভোটের অধিকার প্রয়োগ করেছে যা দীর্ঘবছর ধরে কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। ভোটের অধিকারের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষ রায় দিয়েছে। ভোটের মাধ্যমে তারা জাতীয়তাবাদী দল বিএনপিকে আগামী পাঁচ বছরের জন্য দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে।

তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে আমরা দেশের মানুষকে বলেছিলাম আমরা কীভাবে দেশ পরিচালনা করবো। আজকে এই বগুড়ার গাবতলীতে আমরা ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করে এসেছি।

দেশের মানুষের সামনে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম যে, বিএনপি যদি সরকার গঠন করতে সক্ষম হয় আল্লাহর রহমতে তাহলে এই দেশের মায়েদেরকে স্বাবলম্বী করার জন্য আমরা ফ্যামিলি কার্ড চালু করবো। সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ সরকার গঠন করার সাথে সাথে আমরা শুরু করেছি।

তারেক রহমান বলেন, শুধু তাই নয় এইখানে এই মঞ্চে দাঁড়িয়ে আমি বলেছিলাম, বিএনপি যদি সরকার গঠন করতে সক্ষম হয় তাহলে আমরা দেশের কৃষক ভাইদের পাশে দাঁড়াবো, মা বোনদেরকে যেমন ফ্যামিলি কার্ড দেবো কৃষক ভাইদেরকে আমরা কৃষি কার্ড পৌঁছে দেব।

কৃষক ভাইদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ আছে, সেই কৃষি ঋণ সুদসহ আমরা মওকুফ করবো।

তিনি বলেন, ইনশাআল্লাহ আল্লাহর রহমতে আপনাদের দোয়ায় সেই কাজটি সরকার গঠনের প্রথম ১০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করেছি। যার ফলে সারা বাংলাদেশে ১২ লাখ কৃষকের ঋণ মওকুফ হয়ে গেছে সুদসহ।

এদিকে জনসভা শুরুর আগেই দুপুর থেকে ছোট ছোট মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে জনসভায় আসতে শুরু করেন। বিকাল ৩টার মধ্যে পুরো মাঠ প্রাঙ্গণ জনসমুদ্রে রূপ নেয়। মাঠ প্রাঙ্গণ ছাড়িয়ে আশপাশের সড়কগুলোতেও নেতাকর্মীদের অবস্থান নিতে দেখা যায়।

জুলাই সংস্কার কমিশন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ১১টি কমিশন করেছিল। এর মধ্যে সংবিধান আছে, বিচারের বিষয় আছে, স্বাস্থ্য আছে, নারী আছে।

তিনি বলেন, এখন যারা এই সংস্কার সংস্কার করে জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চাচ্ছে, জুলাই সনদ সম্পর্কে বিভ্রান্ত করতে চাচ্ছে; তারা কিন্তু নারীর স্বাধীনতা অথবা নারীর উন্নয়ন নিয়ে কোনো কথা বলে না।

এ সময় জনসভা মঞ্চে তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান উপস্থিত ছিলেন।

জেলা বিএনপির সভাপতি ও স্থানীয় সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশার সভাপতিত্বে এবং জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য মোশারফ হোসেনের সঞ্চালনায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, জুলাই সনদ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বাস্তবায়নে বিএনপি প্রতিশ্রুতি দিলেও ‘কিছু রাজনৈতিক দল’ জনগণকে বিভ্রান্ত করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘আজ এই হাজারো মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে, এই মিডিয়ার সামনে পরিষ্কারভাবে আমি আবারও বলে দিতে চাই—সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল যে জুলাই সনদে সই করে এসেছে, সেই জুলাই সনদের প্রত্যেকটি শব্দ, প্রত্যেকটি অক্ষর আমরা এক এক করে বাস্তবায়ন করবো ইনশাল্লাহ।’

‘কিন্তু বারবার পরিস্কারভাবে এই কথা বলে দেওয়ার পরেও আমরা দেখলাম যে কিছু রাজনৈতিক দল সংসদে এবং সংসদের বাইরে জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য কিছু কথাবার্তা বলা শুরু করেছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ যাতে ওষুধ সহজে পেতে পারে, চিকিৎসা সহজে পেতে পারে—সেটির ব্যাপারে তারা কোনো কথা বলে না।

কীভাবে প্রশাসনকে ঠিক করতে হবে সেটির কথা তারা বলে না, কীভাবে আইনশৃঙ্খলা ঠিক করতে হবে সেটির কথা তারা বলে না; তারা শুধু সংবিধান সংবিধান করে যাচ্ছে।’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, ‘নির্বাচনের সময় আমি আপনাদের বলেছিলাম যে- কীভাবে তারা বিভ্রান্ত করছে। এই গুপ্ত বিভ্রান্তকারীরা আবারও এই বিভ্রান্তির কাজ শুরু করেছে।

দুদিন আগের ঘটনা, এই গতকালকের ঘটনা— ময়মনসিংহের ওদিকে একটি জেলায় একটি ব্যক্তিগত তুচ্ছ ঘটনা ঘটেছে।’

‘এক ছেলে এক মেয়ের সাথে প্রেম করত, তারা বিয়ে-শাদি করেছে, তাদের পরিবারের সমস্যা; দেখেছেন আপনারা, ফেসবুকে দেখেননি? কিন্তু সাথে কি এটাও দেখেছেন—একটি পারিবারিক, একটি ব্যক্তিগত ঘটনাকে কারা রাজনৈতিক রূপ দিয়ে দেশে অশান্তির সৃষ্টির চেষ্টা করেছে, দেখেছেন আপনারা সবাই?’

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণের পর বগুড়ায় এটিই তারেক রহমানের প্রথম জনসভা। এর আগে গত ২৯ জানুয়ারি আলতাফুন্নেছা মাঠেই নির্বাচনি জনসভা করেছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যান।

দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিএনপি আপনাদের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, আমরা পর্যায়ক্রমিকভাবে তার প্রত্যেকটি কাজ শুরু করেছি।

ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং ইমাম-মোয়াজ্জিনদের সম্মানীর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এসব কাজ বাস্তবায়ন হলে দেশের খেটে খাওয়া মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে।

অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান নিয়ে তারেক রহমান আরও বলেন, স্বল্প খরচে দেশের তরুণ সমাজের জন্য বিদেশে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে আমরা বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছি।

ইনশাআল্লাহ, শিগগিরই আপনারা সুখবর পাবেন। এ ছাড়াও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বিখ্যাত ‘খাল খনন কর্মসূচি’ আমরা আবার দেশব্যাপী শুরু করবো।

আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করার পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে, যাতে কৃষকের ফসল রক্ষা পায় এবং খরা মৌসুমে পানির অভাব না হয়।

বগুড়ার স্থানীয় উন্নয়ন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেন, বগুড়াবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথের কাজ দ্রুত শুরু করা হবে।

এ ছাড়া স্থানীয় কৃষিপণ্য বিদেশে রপ্তানির জন্য বগুড়া বিমানবন্দরকে কার্গো বিমান ওঠানামার উপযোগী করে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। সেই সাথে নবঘোষিত সিটি করপোরেশনকে একটি পরিকল্পিত ও নান্দনিক শহর হিসেবে গড়ে তোলার আশ্বাস দেন।

তারেক রহমানের পৈতৃক ভিটা বগুড়ায় আগমন উপলক্ষে সোমবার জনসভার আয়োজন করে জেলা বিএনপি।

জনসভায় তারেক রহমান বলেন, যখন স্বৈরাচারের ভয়ে অন্য কোনো রাজনৈতিক দল ‘সংস্কার’ এর ‘স’ শব্দটিও উচ্চারণ করার সাহস পায়নি, তখন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ৩১ দফা সংস্কার কর্মসূচি দিয়েছিল।

কারণ আমরা দেখেছিলাম কীভাবে গত ১৬ বছরে দেশের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ব্যাংকিং ও যোগাযোগ ব্যবস্থাকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। মেগা প্রজেক্টের নামে কেবল লুটপাট আর দুর্নীতি করা হয়েছে।

জনসভায় উপস্থিত জনতার উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৫ই আগস্ট দেশ স্বৈরাচারমুক্ত হওয়ার পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সংস্কার কমিশন গঠন করেছে।

জনগণের পক্ষ থেকে আমরা আমাদের স্বচ্ছ প্রস্তাবনা সেখানে জমা দিয়েছি। আমরা সবসময় বলি, আমরা যা করবো স্বচ্ছভাবে করব, কোনো লুকোচুরি নেই। গণতন্ত্রে মতের পার্থক্য থাকবেই, কিন্তু আমাদের লক্ষ্য দেশের মানুষের উন্নয়ন।