Dhaka ১১:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জ্বালানির ঘাটতিতে গাড়িবহর কমাচ্ছেন মোদি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
8 / 100 SEO Score

 

বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার পরিস্থিতিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তার সরকারি গাড়িবহরের সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রশাসনিক খরচ কমানো এবং জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

একই সঙ্গে তিনি তার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা স্পেশাল প্রটেকশন গ্রুপকে (এসপিজি) নির্দেশ দিয়েছেন যেন প্রধানমন্ত্রীর কারকেড বা গাড়িবহরে বৈদ্যুতিক যানবাহনের (ইভি) সংখ্যা বাড়ানো হয়। তবে এই পরিবর্তনের জন্য নতুন কোনো গাড়ি কেনা যাবে না বলে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশনার পর এসপিজি তার নিরাপত্তার জন্য নির্ধারিত ‘ব্লু বুক’ এর সুরক্ষা মানদণ্ড অক্ষুণ্ণ রেখেই তা বাস্তবায়ন শুরু করেছে।

প্রধানমন্ত্রীর এই ব্যয় সংকোচন নীতি ইতিমধ্যেই বিজেপিশাসিত অন্যান্য রাজ্যেও প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা, রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী ভজন লাল শর্মা এবং মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবও তাদের সরকারি গাড়িবহরের সংখ্যা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এই সম্মিলিত পদক্ষেপকে জ্বালানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতা এবং প্রশাসনিক মিতব্যয়িতার একটি বৃহত্তর প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ বর্জন এবং জাতীয় সম্পদ সংরক্ষণের যে আহ্বান জানানো হয়েছিল, এই সিদ্ধান্ত তারই একটি বাস্তব প্রতিফলন।

মূলত ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের আকাশচুম্বী দাম এবং ক্রমবর্ধমান জ্বালানি সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে গত রবিবার প্রধানমন্ত্রী মোদি দেশবাসীর প্রতি বিশেষ আহ্বান জানান।

তিনি বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়া এবং মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলায় সম্মিলিত অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। মোদি নাগরিকদের ‘জাতীয়ভাবে দায়িত্বশীল’ জীবনযাপন বেছে নেওয়ার এবং আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় পণ্য ব্যবহারের পরামর্শ দেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন যে, সবকিছুর জন্য যদি বিদেশের ওপর নির্ভর করতে হয়, তবে জাতির অগ্রগতি কীভাবে সম্ভব।

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে আগামী এক বছর অপ্রয়োজনীয় সোনা কেনা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন। এ ছাড়া বৈদেশিক মুদ্রার বহিঃপ্রবাহ কমাতে তিনি দেশের বাইরে ভ্রমণে নিরুৎসাহিত করেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর মতে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রক্ষা করা এক ধরনের দেশপ্রেম। তাই তিনি পর্যটকদের দেশের বাইরে ছুটি কাটাতে না গিয়ে অথবা বিদেশে ‘ডেস্টিনেশন ওয়েডিং’ এর আয়োজন না করে দেশের অভ্যন্তরে পর্যটন ও উৎসব উদযাপনের পরামর্শ দেন। বর্তমান কঠিন পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এই আত্মত্যাগ অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি মনে করেন।

সূত্র: এনডিটিভি

 

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জ্বালানির ঘাটতিতে গাড়িবহর কমাচ্ছেন মোদি

Update Time : ০৭:৪৫:২৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
8 / 100 SEO Score

 

বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার পরিস্থিতিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তার সরকারি গাড়িবহরের সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রশাসনিক খরচ কমানো এবং জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

একই সঙ্গে তিনি তার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা স্পেশাল প্রটেকশন গ্রুপকে (এসপিজি) নির্দেশ দিয়েছেন যেন প্রধানমন্ত্রীর কারকেড বা গাড়িবহরে বৈদ্যুতিক যানবাহনের (ইভি) সংখ্যা বাড়ানো হয়। তবে এই পরিবর্তনের জন্য নতুন কোনো গাড়ি কেনা যাবে না বলে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশনার পর এসপিজি তার নিরাপত্তার জন্য নির্ধারিত ‘ব্লু বুক’ এর সুরক্ষা মানদণ্ড অক্ষুণ্ণ রেখেই তা বাস্তবায়ন শুরু করেছে।

প্রধানমন্ত্রীর এই ব্যয় সংকোচন নীতি ইতিমধ্যেই বিজেপিশাসিত অন্যান্য রাজ্যেও প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা, রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী ভজন লাল শর্মা এবং মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবও তাদের সরকারি গাড়িবহরের সংখ্যা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এই সম্মিলিত পদক্ষেপকে জ্বালানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতা এবং প্রশাসনিক মিতব্যয়িতার একটি বৃহত্তর প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ বর্জন এবং জাতীয় সম্পদ সংরক্ষণের যে আহ্বান জানানো হয়েছিল, এই সিদ্ধান্ত তারই একটি বাস্তব প্রতিফলন।

মূলত ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের আকাশচুম্বী দাম এবং ক্রমবর্ধমান জ্বালানি সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে গত রবিবার প্রধানমন্ত্রী মোদি দেশবাসীর প্রতি বিশেষ আহ্বান জানান।

তিনি বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়া এবং মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলায় সম্মিলিত অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। মোদি নাগরিকদের ‘জাতীয়ভাবে দায়িত্বশীল’ জীবনযাপন বেছে নেওয়ার এবং আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় পণ্য ব্যবহারের পরামর্শ দেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন যে, সবকিছুর জন্য যদি বিদেশের ওপর নির্ভর করতে হয়, তবে জাতির অগ্রগতি কীভাবে সম্ভব।

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে আগামী এক বছর অপ্রয়োজনীয় সোনা কেনা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন। এ ছাড়া বৈদেশিক মুদ্রার বহিঃপ্রবাহ কমাতে তিনি দেশের বাইরে ভ্রমণে নিরুৎসাহিত করেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর মতে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রক্ষা করা এক ধরনের দেশপ্রেম। তাই তিনি পর্যটকদের দেশের বাইরে ছুটি কাটাতে না গিয়ে অথবা বিদেশে ‘ডেস্টিনেশন ওয়েডিং’ এর আয়োজন না করে দেশের অভ্যন্তরে পর্যটন ও উৎসব উদযাপনের পরামর্শ দেন। বর্তমান কঠিন পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এই আত্মত্যাগ অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি মনে করেন।

সূত্র: এনডিটিভি