ঢামেকে ওয়ার্ড বয়দের হামলায় সাংবাদিক আহত
রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (ঢামেক)-এ বিদ্যমান অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম ও দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য নিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন এক সাংবাদিক। আহত সাংবাদিক সালাউদ্দিন “দুর্নীতির বার্তা” নামের একটি অনলাইন পোর্টালের স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে কর্মরত।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, রোগী ভোগান্তি, দালাল চক্রের সক্রিয়তা এবং কিছু অসাধু স্টাফদের সিন্ডিকেট কার্যক্রম নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করেন তিনি। রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে নানা অনিয়মের তথ্য সংগ্রহ করছিলেন সালাউদ্দিন।
ঘটনার দিন তিনি একটি ওয়ার্ডে ভিডিও ধারণ ও তথ্য সংগ্রহের সময় ওয়ার্ড বয় মোজাম্মেল এবং ওয়ার্ড মাস্টার সর্দার আরিফুল ইসলাম তার কাজে বাধা দেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, প্রথমে মৌখিকভাবে বাধা দেওয়া হলেও একপর্যায়ে তা তর্ক-বিতর্কে রূপ নেয়। পরে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে সাংবাদিকের ওপর হামলা চালান।
হামলার সময় সালাউদ্দিনকে ধাক্কা দেওয়া, মারধর করা এবং তার ব্যবহৃত ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে তিনি মুখে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পান। পরে সহকর্মী ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় তিনি সেখান থেকে বের হয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।
আহত সাংবাদিক সালাউদ্দিন বলেন,“আমি পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছি। হাসপাতালের বাস্তব চিত্র তুলে ধরতেই গিয়েছিলাম। কিন্তু কিছু অসাধু ব্যক্তি সত্য প্রকাশে বাধা দিচ্ছে এবং ভয়ভীতি দেখাচ্ছে।”
ঘটনার পর হাসপাতালের ভেতরে উপস্থিত অন্যান্য রোগী ও স্বজনদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই অভিযোগ করেন, ঢামেকে দীর্ঘদিন ধরে দালাল ও অসাধু কর্মচারীদের দৌরাত্ম্য থাকলেও এর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
এদিকে, এ ঘটনায় সাংবাদিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন দ্রুত হামলাকারীদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি হাসপাতালের মতো সংবেদনশীল স্থানে সাংবাদিকদের নিরাপদে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
স্বাস্থ্যখাত বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দেশের অন্যতম বৃহৎ এই সরকারি হাসপাতালে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নতুন নয়। সেবার মান উন্নয়ন, রোগী হয়রানি বন্ধ এবং দালাল চক্র নির্মূলে কঠোর নজরদারি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি।
তাদের মতে, এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে শুধু দায়ীদের শাস্তি নয়, বরং পুরো ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও সংস্কার আনা প্রয়োজন। অন্যথায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়বে এবং জনস্বাস্থ্যের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।




















