তিন আইনের পরিবর্তে এক আইনে পরিচালিত হবে আনসার
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীকে আরও সুসংগঠিত, গতিশীল ও আধুনিক কাঠামোর আওতায় আনতে বাহিনীটির বিদ্যমান তিনটি পৃথক আইনকে একীভূত করে একটি সমন্বিত আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন এই আইনের আওতায় বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সাংগঠনিক কাঠামো, দায়িত্ব, ক্ষমতা, সদস্যদের সুযোগ-সুবিধা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরও সুস্পষ্ট ও যুগোপযোগী করা হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বর্তমানে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর কার্যক্রম পরিচালনায় একাধিক আইন বিদ্যমান থাকায় আইনগত কাঠামোকে আরও সহজ, সমন্বিত ও কার্যকর করার প্রয়োজন রয়েছে। এ কারণে তিনটি পৃথক আইনকে পরিবর্তন করে একটি সমন্বিত আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, সময়ের সঙ্গে দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, জনসেবা ও প্রশাসনিক প্রয়োজনীয়তায় পরিবর্তন এসেছে। এসব পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আনসার বাহিনীর আইন ও সাংগঠনিক কাঠামোকেও আধুনিকায়ন করা প্রয়োজন। নতুন আইন প্রণীত হলে বাহিনীর কার্যক্রম পরিচালনায় বিদ্যমান আইনগত জটিলতা ও অস্পষ্টতা কমবে এবং দায়িত্ব পালনে আরও সমন্বয় সৃষ্টি হবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা, নির্বাচন, ধর্মীয় ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং বিভিন্ন
জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করে আসছে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত বাহিনীটির সদস্যদের বিস্তৃত উপস্থিতি রয়েছে। ফলে জাতীয় নিরাপত্তা ও জননিরাপত্তার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে জনসম্পৃক্ত কার্যক্রমেও বাহিনীটির ভূমিকা রয়েছে।
নতুন সমন্বিত আইনে বাহিনীর দায়িত্ব ও কর্তব্য আরও সুনির্দিষ্ট করার পাশাপাশি সদস্যদের প্রশাসনিক অবস্থান, প্রশিক্ষণ, পদোন্নতি, কল্যাণ এবং দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় বিধান অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। একই সঙ্গে আধুনিক নিরাপত্তাব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির সুযোগও তৈরি হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পৃথক পৃথক আইনের পরিবর্তে একটি সমন্বিত আইন থাকলে বাহিনীর বিভিন্ন শাখা ও কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো সহজ হবে। একই সঙ্গে নীতিনির্ধারণ, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন এবং দায়িত্ব বণ্টনের ক্ষেত্রেও একটি সুস্পষ্ট আইনি ভিত্তি তৈরি হবে।
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী দেশের অন্যতম বৃহৎ জনসম্পৃক্ত নিরাপত্তা ও সেবামূলক বাহিনী। এর সদস্যরা বিমানবন্দর, রেলস্টেশন, হাসপাতাল, ব্যাংক, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, বিদ্যুৎ ও গ্যাস স্থাপনাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি নির্বাচন ও বিভিন্ন জাতীয় কর্মসূচিতেও বাহিনীটির সদস্যরা দায়িত্ব পালন করে থাকেন।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পরিবর্তিত বাস্তবতা ও ভবিষ্যৎ চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে আনসার বাহিনীকে আরও আধুনিক, দক্ষ ও কার্যকর প্রতিষ্ঠানে রূপ দেওয়ার অংশ হিসেবেই নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে বাহিনীর দীর্ঘমেয়াদি কার্যক্রমের জন্য একটি সুসংহত ও সময়োপযোগী আইনি কাঠামো প্রতিষ্ঠিত হবে।
নতুন আইন প্রণয়নের ফলে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর কার্যক্রম একটি অভিন্ন আইনগত কাঠামোর অধীনে পরিচালিত হবে। এতে বাহিনীর দায়িত্ব পালনে শৃঙ্খলা, জবাবদিহি ও সমন্বয় আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি সদস্যদের পেশাগত উন্নয়ন ও কল্যাণের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক পরিবর্তনের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
সরকারের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিনের পৃথক আইনভিত্তিক পরিচালন পদ্ধতির পরিবর্তে একটি একক ও সমন্বিত আইনের অধীনে আনসার বাহিনীর কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এর ফলে দেশের নিরাপত্তা ও জনসেবায় বাহিনীটির ভূমিকা আরও কার্যকর ও সময়োপযোগী করার পথ সুগম হবে।




















