Dhaka ১২:০১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দাম বাড়ার পরও এলপিজি সংকট কাটেনি, বিক্রি হচ্ছে বেশি দামে

নিজস্ব প্রতিবেদক
8 / 100 SEO Score

 

সরকার নতুন দাম নির্ধারণ করে দেওয়ার পরও বাজারে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সংকট কাটেনি। বরং নির্ধারিত দামের চেয়ে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত বেশি দামে ১২ কেজির সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার খুচরা বাজারে ভোক্তাদের অতিরিক্ত দামে এলপিজি কিনতে হচ্ছে।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) নির্ধারিত নতুন দামে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের মূল্য ১ হাজার ৮৩৭ টাকা। কিন্তু বাস্তবে অনেক এলাকায় এই সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে প্রায় ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায়। ফলে সরকারি দামের তুলনায় একজন ভোক্তাকে অতিরিক্ত গুনতে হচ্ছে প্রায় ৪৬০ থেকে ৬৬০ টাকা।

রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকায় অনেক সময় চাহিদামতো সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। সরবরাহকারী পর্যায় থেকেই বেশি দামে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে বলে দাবি করছেন বিক্রেতারা। তাদের ভাষ্য, বেশি দামে পণ্য কেনার কারণে খুচরা পর্যায়েও নির্ধারিত দামে বিক্রি করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

আমদানিতে বাড়তি চাপ: এলপিজির বাজারে অস্থিরতার পেছনে আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতিও ভূমিকা রাখছে। এলপিজি আমদানিতে জাহাজ ভাড়া, পরিবহন ব্যয় ও ট্রেডার প্রিমিয়াম বেড়ে যাওয়ায় আমদানিকারকদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে ডলার ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের ওঠানামাও আমদানি ব্যয়ে প্রভাব ফেলছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যয় বাড়লেও নির্ধারিত দামের সঙ্গে প্রকৃত আমদানি ব্যয়ের সামঞ্জস্য না থাকলে সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হতে পারে। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত খুচরা বাজারে পড়ে।

চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম: বাজারসংশ্লিষ্টদের আরেকটি অংশ বলছে, দেশে এলপিজির মোট আমদানি পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। তবে বিভিন্ন সময়ে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমে যাওয়ায় স্থানীয় বাজারে সংকটের পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে রান্নার কাজে এলপিজির ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলোকে এর সরাসরি প্রভাব বহন করতে হচ্ছে।

অন্যদিকে, নির্ধারিত দামের চেয়ে কয়েকশ টাকা বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রি হওয়ায় বাজারে মজুতদারি কিংবা কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে কি না, সেই প্রশ্নও উঠেছে। সরবরাহের কোন পর্যায়ে মূল্য বাড়ছে এবং নির্ধারিত দামে বিক্রির নির্দেশনা কেন কার্যকর হচ্ছে না—তা নিয়ে ভোক্তাদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।

ভোক্তার প্রশ্ন, সমাধান কোথায়: দাম নির্ধারণের পরও যদি বাজারে সেই দামে এলপিজি পাওয়া না যায়, তাহলে নতুন মূল্য নির্ধারণের সুফল ভোক্তারা কতটা পাচ্ছেনএ প্রশ্ন এখন সামনে এসেছে।

ভোক্তাদের দাবি, শুধু দাম নির্ধারণ করলেই হবে না; সরবরাহ নিশ্চিত, মজুতদারি বন্ধ এবং নির্ধারিত দামে বিক্রি হচ্ছে কি না—এসব বিষয়েও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।

কারণ, বাড়তি দামের বোঝা শেষ পর্যন্ত গিয়ে পড়ছে সাধারণ মানুষের ওপর। ফলে এলপিজির বাজার স্বাভাবিক করতে আমদানি থেকে খুচরা বিক্রি পর্যন্ত পুরো সরবরাহব্যবস্থায় কার্যকর তদারকি এখন জরুরি হয়ে উঠেছে।

Tag :

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

1 × four =

About Author Information

দাম বাড়ার পরও এলপিজি সংকট কাটেনি, বিক্রি হচ্ছে বেশি দামে

Update Time : ০৭:২১:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬
8 / 100 SEO Score

 

সরকার নতুন দাম নির্ধারণ করে দেওয়ার পরও বাজারে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সংকট কাটেনি। বরং নির্ধারিত দামের চেয়ে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত বেশি দামে ১২ কেজির সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার খুচরা বাজারে ভোক্তাদের অতিরিক্ত দামে এলপিজি কিনতে হচ্ছে।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) নির্ধারিত নতুন দামে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের মূল্য ১ হাজার ৮৩৭ টাকা। কিন্তু বাস্তবে অনেক এলাকায় এই সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে প্রায় ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায়। ফলে সরকারি দামের তুলনায় একজন ভোক্তাকে অতিরিক্ত গুনতে হচ্ছে প্রায় ৪৬০ থেকে ৬৬০ টাকা।

রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকায় অনেক সময় চাহিদামতো সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। সরবরাহকারী পর্যায় থেকেই বেশি দামে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে বলে দাবি করছেন বিক্রেতারা। তাদের ভাষ্য, বেশি দামে পণ্য কেনার কারণে খুচরা পর্যায়েও নির্ধারিত দামে বিক্রি করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

আমদানিতে বাড়তি চাপ: এলপিজির বাজারে অস্থিরতার পেছনে আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতিও ভূমিকা রাখছে। এলপিজি আমদানিতে জাহাজ ভাড়া, পরিবহন ব্যয় ও ট্রেডার প্রিমিয়াম বেড়ে যাওয়ায় আমদানিকারকদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে ডলার ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের ওঠানামাও আমদানি ব্যয়ে প্রভাব ফেলছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যয় বাড়লেও নির্ধারিত দামের সঙ্গে প্রকৃত আমদানি ব্যয়ের সামঞ্জস্য না থাকলে সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হতে পারে। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত খুচরা বাজারে পড়ে।

চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম: বাজারসংশ্লিষ্টদের আরেকটি অংশ বলছে, দেশে এলপিজির মোট আমদানি পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। তবে বিভিন্ন সময়ে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমে যাওয়ায় স্থানীয় বাজারে সংকটের পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে রান্নার কাজে এলপিজির ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলোকে এর সরাসরি প্রভাব বহন করতে হচ্ছে।

অন্যদিকে, নির্ধারিত দামের চেয়ে কয়েকশ টাকা বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রি হওয়ায় বাজারে মজুতদারি কিংবা কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে কি না, সেই প্রশ্নও উঠেছে। সরবরাহের কোন পর্যায়ে মূল্য বাড়ছে এবং নির্ধারিত দামে বিক্রির নির্দেশনা কেন কার্যকর হচ্ছে না—তা নিয়ে ভোক্তাদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।

ভোক্তার প্রশ্ন, সমাধান কোথায়: দাম নির্ধারণের পরও যদি বাজারে সেই দামে এলপিজি পাওয়া না যায়, তাহলে নতুন মূল্য নির্ধারণের সুফল ভোক্তারা কতটা পাচ্ছেনএ প্রশ্ন এখন সামনে এসেছে।

ভোক্তাদের দাবি, শুধু দাম নির্ধারণ করলেই হবে না; সরবরাহ নিশ্চিত, মজুতদারি বন্ধ এবং নির্ধারিত দামে বিক্রি হচ্ছে কি না—এসব বিষয়েও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।

কারণ, বাড়তি দামের বোঝা শেষ পর্যন্ত গিয়ে পড়ছে সাধারণ মানুষের ওপর। ফলে এলপিজির বাজার স্বাভাবিক করতে আমদানি থেকে খুচরা বিক্রি পর্যন্ত পুরো সরবরাহব্যবস্থায় কার্যকর তদারকি এখন জরুরি হয়ে উঠেছে।