Dhaka ০৩:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নতুন বাজেটেও অপরিবর্তিত খাদ্যপণ্যের দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক
12 / 100 SEO Score

 

নতুন অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার পরও খাদ্যপণ্যের বাজারে তেমন কোনো পরিবর্তন আসেনি। মাছ, মুরগি, ডিমসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আগের মতোই স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানিয়েছেন ক্রেতা ও বিক্রেতারা।

ব্রয়লার ও সবজিতে অনেকটাই স্বস্তিতে ফিরেছে। মাছেরও তেমন দাম বাড়েনি। গরুর মাংসের দামও ৮০০ টাকা রয়েছে। অধিকাংশ সবজি ৫০ থেকে ৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি করতে দেখা যায়।

শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।

বিক্রেতারা জানান, বাজেটে ব্রয়লার মুরগি, সোনালি মুরগি, ডিম ও মাছের ওপর সরাসরি এমন কোনো কর বা শুল্ক আরোপ করা হয়নি। দাম ঈদের আগের তুলনায় কিছুটা কমেছে। অন্যান্য বছর বাজেট দিলে এসবের দাম বাড়লেও এবার ব্যতিক্রম হয়েছে।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা, সোনালি মুরগি কেজি ৩২০ টাকা কেজি, ডজনপ্রতি ডিমের দাম রয়েছে ১১০ থেকে ১২০ টাকা।

অন্যদিকে, বিভিন্ন প্রজাতির মাছ আগের দামের কাছাকাছিই বিক্রি হচ্ছে। বাজারভেদে দামে কিছুটা পার্থক্য থাকলেও বাজেট ঘোষণার পর উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি।

মাছের বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি পাঙাশ ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০ থেকে ২৩০ টাকা (জীবিত ও মৃত উপরে দাম নির্ধারণ), রুই ২৬০ থেকে ৩৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, দেশি টেংরা ৬০০ টাকা, বেলে ৩৫০ টাকা, বাইম ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, পাবদা ৩৫০ টাকা, কই ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, শিং ৪০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা, শোল ৭০০ টাকা, টাকি ৪০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। তবে চিংড়ির দাম বেশি দেখা গেছে। আকার ও জাতভেদে প্রতি কেজিতে খরচ করতে হচ্ছে ৫৫০ থেকে ৯০০ টাকা।

এদিকে কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, সবজিতে ভরপুর কাঁচা বাজার। হাতের নাগালে আসতে শুরু করেছে অনেক সবজির দাম। অধিকাংশ সবজির দাম ৫০ থেকে ৮০ টাকা। তার উপরে বিক্রি হচ্ছে হাতেগোনা কয়েকটি সবজি।

বাজারে বড় আকারের লেবু প্রতি হালি বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকায়। আর ১০ টাকায় মিলছে ছোট লেবু। গোল বেগুনের কেজি ৬০ টাকা। লম্বা বেগুনের দাম ৬০ টাকা কেজি। শসা কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়। আর কাঁচামরিচ ৮০ টাকা কেজি।

ব্যবসায়ীরা জানান, শীতের পরে বাজারের অনেক সবজি চাষ করা হয়। পটল, কাঁকরোল, বরবটি, লতি, ধুন্দুল। এসব সবজিগুলো পর্যাপ্ত রয়েছে। এসব ৫০ থেকে ৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি করা হয়।

বাজারে করলা ৭০ টাকা, বরবটি ৬০ টাকা, মুলা ৫০ টাকা, লতি ৬০ টাকা, ধুন্দুল ৫০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। আর প্রতি কেজি পেঁপে ৪০ টাকা থেকে ৫০ টাকা, গাজর ১০০ থেকে ১২০ টাকা, কচুরমুখী ৫০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, কাঁকরোল ৬০ থেকে ৭০ টাকা ও বরবটি ৬০ কেজি বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া, লাউ প্রতি পিস ৫০ থেকে ৬০ টাকা, আলু ২৫ টাকা কেজি, ধনেপাতা ১০ টাকা আঁটি বিক্রি হচ্ছে আর কাঁচা মরিচ ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে, পবিত্র ঈদুল আজহার পর গরুর মাংসের দাম বাড়েনি। বর্তমানে ৮০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

রায়ের বাজারের মুরগি বিক্রেতা আবুল হোসেন বলেন, আজকে ১৬০ টাকায় ব্রয়লার বিক্রি করছি। সোনালি ৩২০ টাকা বিক্রি করছি।

মোহাম্মদপুর টাউন হল মার্কেটের মাছ ব্যবসায়ী ফিরোজ মিয়া বলেন, ঈদের পর মাছের বাজার আগের তুলনায় কিছুটা কমেছে। সব মাছের দাম আগের মতোই আছে। আর মাছের বাজার ২০ থেকে ৩০ টাকা ওঠানামা করে। মাছের বাজারে বাজেটের প্রভাব পড়েনি।

রিকশা চালক ইদ্রিস মিয়া বলেন, সবজির দাম কিছুটা কমেছে। এক কেজি ধুন্দুল নিয়েছি ৫০ টাকা। করলা, বরবটি, মুলা, ধুন্দুলসহ বেশিরভাগ সবজি ৫০ থেকে ৭০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। তবে গাজরের দাম এখনও তুলনামূলক বেশি, ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। সব কিছুর দাম সহনীয় পর্যায়ে আছে।

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

নতুন বাজেটেও অপরিবর্তিত খাদ্যপণ্যের দাম

Update Time : ০৩:৩৮:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
12 / 100 SEO Score

 

নতুন অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার পরও খাদ্যপণ্যের বাজারে তেমন কোনো পরিবর্তন আসেনি। মাছ, মুরগি, ডিমসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আগের মতোই স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানিয়েছেন ক্রেতা ও বিক্রেতারা।

ব্রয়লার ও সবজিতে অনেকটাই স্বস্তিতে ফিরেছে। মাছেরও তেমন দাম বাড়েনি। গরুর মাংসের দামও ৮০০ টাকা রয়েছে। অধিকাংশ সবজি ৫০ থেকে ৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি করতে দেখা যায়।

শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।

বিক্রেতারা জানান, বাজেটে ব্রয়লার মুরগি, সোনালি মুরগি, ডিম ও মাছের ওপর সরাসরি এমন কোনো কর বা শুল্ক আরোপ করা হয়নি। দাম ঈদের আগের তুলনায় কিছুটা কমেছে। অন্যান্য বছর বাজেট দিলে এসবের দাম বাড়লেও এবার ব্যতিক্রম হয়েছে।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা, সোনালি মুরগি কেজি ৩২০ টাকা কেজি, ডজনপ্রতি ডিমের দাম রয়েছে ১১০ থেকে ১২০ টাকা।

অন্যদিকে, বিভিন্ন প্রজাতির মাছ আগের দামের কাছাকাছিই বিক্রি হচ্ছে। বাজারভেদে দামে কিছুটা পার্থক্য থাকলেও বাজেট ঘোষণার পর উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি।

মাছের বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি পাঙাশ ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০ থেকে ২৩০ টাকা (জীবিত ও মৃত উপরে দাম নির্ধারণ), রুই ২৬০ থেকে ৩৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, দেশি টেংরা ৬০০ টাকা, বেলে ৩৫০ টাকা, বাইম ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, পাবদা ৩৫০ টাকা, কই ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, শিং ৪০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা, শোল ৭০০ টাকা, টাকি ৪০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। তবে চিংড়ির দাম বেশি দেখা গেছে। আকার ও জাতভেদে প্রতি কেজিতে খরচ করতে হচ্ছে ৫৫০ থেকে ৯০০ টাকা।

এদিকে কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, সবজিতে ভরপুর কাঁচা বাজার। হাতের নাগালে আসতে শুরু করেছে অনেক সবজির দাম। অধিকাংশ সবজির দাম ৫০ থেকে ৮০ টাকা। তার উপরে বিক্রি হচ্ছে হাতেগোনা কয়েকটি সবজি।

বাজারে বড় আকারের লেবু প্রতি হালি বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকায়। আর ১০ টাকায় মিলছে ছোট লেবু। গোল বেগুনের কেজি ৬০ টাকা। লম্বা বেগুনের দাম ৬০ টাকা কেজি। শসা কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়। আর কাঁচামরিচ ৮০ টাকা কেজি।

ব্যবসায়ীরা জানান, শীতের পরে বাজারের অনেক সবজি চাষ করা হয়। পটল, কাঁকরোল, বরবটি, লতি, ধুন্দুল। এসব সবজিগুলো পর্যাপ্ত রয়েছে। এসব ৫০ থেকে ৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি করা হয়।

বাজারে করলা ৭০ টাকা, বরবটি ৬০ টাকা, মুলা ৫০ টাকা, লতি ৬০ টাকা, ধুন্দুল ৫০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। আর প্রতি কেজি পেঁপে ৪০ টাকা থেকে ৫০ টাকা, গাজর ১০০ থেকে ১২০ টাকা, কচুরমুখী ৫০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, কাঁকরোল ৬০ থেকে ৭০ টাকা ও বরবটি ৬০ কেজি বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া, লাউ প্রতি পিস ৫০ থেকে ৬০ টাকা, আলু ২৫ টাকা কেজি, ধনেপাতা ১০ টাকা আঁটি বিক্রি হচ্ছে আর কাঁচা মরিচ ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে, পবিত্র ঈদুল আজহার পর গরুর মাংসের দাম বাড়েনি। বর্তমানে ৮০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

রায়ের বাজারের মুরগি বিক্রেতা আবুল হোসেন বলেন, আজকে ১৬০ টাকায় ব্রয়লার বিক্রি করছি। সোনালি ৩২০ টাকা বিক্রি করছি।

মোহাম্মদপুর টাউন হল মার্কেটের মাছ ব্যবসায়ী ফিরোজ মিয়া বলেন, ঈদের পর মাছের বাজার আগের তুলনায় কিছুটা কমেছে। সব মাছের দাম আগের মতোই আছে। আর মাছের বাজার ২০ থেকে ৩০ টাকা ওঠানামা করে। মাছের বাজারে বাজেটের প্রভাব পড়েনি।

রিকশা চালক ইদ্রিস মিয়া বলেন, সবজির দাম কিছুটা কমেছে। এক কেজি ধুন্দুল নিয়েছি ৫০ টাকা। করলা, বরবটি, মুলা, ধুন্দুলসহ বেশিরভাগ সবজি ৫০ থেকে ৭০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। তবে গাজরের দাম এখনও তুলনামূলক বেশি, ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। সব কিছুর দাম সহনীয় পর্যায়ে আছে।