Dhaka ০২:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

না ফেরার দেশে বাউল সাধক কানাই দাস

নিজেস্ব প্রতিবেদক
12 / 100 SEO Score

 

না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন ভারতীয় বাউল সংগীতের খ্যাতিমান সাধক-শিল্পী কানাই দাস। তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার তারাপীঠ এলাকায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তার মৃত্যুর খবরটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন প্রখ্যাত ভারতীয় চিত্রগ্রাহক ও নির্মাতা রঞ্জন পালিত।

রঞ্জন পালিত জানান, দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন এই বাউল সাধক। বিশেষ করে গত দুই মাস ধরে যক্ষ্মা (টিবি)-তে আক্রান্ত ছিলেন তিনি।

এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে ক্রনিক অ্যাজমা ও ডায়াবেটিসজনিত সমস্যায়ও ভুগছিলেন।

এক সাধারণ পরিবারে জন্ম নেওয়া কানাই দাস ছোটবেলা থেকেই ছিলেন দৃষ্টিহীন। তবে তার সুর আর অন্তর্দৃষ্টি দিয়েই তিনি ছুঁয়ে গেছেন অগণিত মানুষের হৃদয়।

একতারা হাতে গ্রাম থেকে গ্রামে, মেলা থেকে আখড়ায় ঘুরে ঘুরে গান গেয়েছেন তিনি।

এই বাউল সাধকের কণ্ঠে ‘মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি’ কিংবা ‘কে বলে মানুষ মরে, আমি বুঝলাম না ব্যাপার’- গানগুলো শ্রোতাদের হৃদয়ে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে।

দেশ ও দেশের বাইরে নানা গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে বাউল গান পরিবেশন করে খ্যাতি অর্জন করা কানাই দাস বাউল ২০১৯ সালে ‘সহজিয়া সম্মান’ লাভ করেন।

প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ উইলিয়াম ডালরিম্পল তার আলোচিত বই ‘নাইন লাইভস’-এ ‘দ্য সংস অব দ্য ব্লাইন্ড মিনস্ট্রেল’ শিরোনামে একটি অধ্যায় তাকে উৎসর্গ করেছিলেন।

এমন গুণি একজন বাউল শিল্পীর প্রয়াণে বাউল জগতে গভীর শোক নেমে এসেছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

না ফেরার দেশে বাউল সাধক কানাই দাস

Update Time : ০১:১৯:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
12 / 100 SEO Score

 

না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন ভারতীয় বাউল সংগীতের খ্যাতিমান সাধক-শিল্পী কানাই দাস। তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার তারাপীঠ এলাকায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তার মৃত্যুর খবরটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন প্রখ্যাত ভারতীয় চিত্রগ্রাহক ও নির্মাতা রঞ্জন পালিত।

রঞ্জন পালিত জানান, দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন এই বাউল সাধক। বিশেষ করে গত দুই মাস ধরে যক্ষ্মা (টিবি)-তে আক্রান্ত ছিলেন তিনি।

এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে ক্রনিক অ্যাজমা ও ডায়াবেটিসজনিত সমস্যায়ও ভুগছিলেন।

এক সাধারণ পরিবারে জন্ম নেওয়া কানাই দাস ছোটবেলা থেকেই ছিলেন দৃষ্টিহীন। তবে তার সুর আর অন্তর্দৃষ্টি দিয়েই তিনি ছুঁয়ে গেছেন অগণিত মানুষের হৃদয়।

একতারা হাতে গ্রাম থেকে গ্রামে, মেলা থেকে আখড়ায় ঘুরে ঘুরে গান গেয়েছেন তিনি।

এই বাউল সাধকের কণ্ঠে ‘মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি’ কিংবা ‘কে বলে মানুষ মরে, আমি বুঝলাম না ব্যাপার’- গানগুলো শ্রোতাদের হৃদয়ে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে।

দেশ ও দেশের বাইরে নানা গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে বাউল গান পরিবেশন করে খ্যাতি অর্জন করা কানাই দাস বাউল ২০১৯ সালে ‘সহজিয়া সম্মান’ লাভ করেন।

প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ উইলিয়াম ডালরিম্পল তার আলোচিত বই ‘নাইন লাইভস’-এ ‘দ্য সংস অব দ্য ব্লাইন্ড মিনস্ট্রেল’ শিরোনামে একটি অধ্যায় তাকে উৎসর্গ করেছিলেন।

এমন গুণি একজন বাউল শিল্পীর প্রয়াণে বাউল জগতে গভীর শোক নেমে এসেছে।