Dhaka ০৫:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৯ মার্চ ২০২৬, ২৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নেতানিয়াহুর সঙ্গে আলোচনা করে যুদ্ধ বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে: ট্রাম্প

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৫:৩৫:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬
  • ২ Time View
12 / 100 SEO Score

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ কখন শেষ হবে, সেই সিদ্ধান্ত তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমেই নেবেন।

 

রোববার (৮ মার্চ) এক সংক্ষিপ্ত টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন বলে ‘টাইমস অব ইসরায়েল’-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট স্পষ্টভাবে বলেছেন, এই যুদ্ধ সমাপ্তির বিষয়টি একটি ‘যৌথ’ সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে এবং তিনি ও নেতানিয়াহু এই বিষয়ে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন। ট্রাম্পের মতে, পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সঠিক সময়েই এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

 

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এক চাঞ্চল্যকর দাবি করে বলেন, তিনি এবং নেতানিয়াহু যদি নেতৃত্বে না থাকতেন, তবে ইরান এতক্ষণে ইসরায়েলকে ধ্বংস করে দিত। তিনি বলেন, ‘ইরান ইসরায়েল এবং এর চারপাশের সবকিছু ধ্বংস করতে চেয়েছিল।

 

আমরা একসঙ্গে কাজ করেছি এবং এমন একটি দেশকে ধ্বংস করেছি যারা ইসরায়েলকে মানচিত্র থেকে মুছে দিতে চেয়েছিল।’ ট্রাম্পের এই মন্তব্য থেকে স্পষ্ট, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত ঐক্য কতটা সুগভীর। তিনি মনে করেন, তাঁদের যৌথ পদক্ষেপের কারণেই ইরান এখন অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে।

 

ইরান যুদ্ধের সমাপ্তি কি কেবল ট্রাম্পের একক সিদ্ধান্তে হবে নাকি নেতানিয়াহুরও সেখানে সমান ভূমিকা থাকবে—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি মনে করি এটি অনেকটা যৌথ সিদ্ধান্তের মতোই হবে। আমরা এ নিয়ে আলোচনা করছি। তবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সব ধরনের বাস্তবতা বিবেচনায় রাখা হবে।’

 

যুক্তরাষ্ট্র যদি কোনো কারণে আক্রমণ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে ইসরায়েল এককভাবে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারবে কি না—এমন সম্ভাবনা নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি ট্রাম্প। তবে তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে যোগ করেছেন, এ ধরনের কোনো পরিস্থিতির প্রয়োজন পড়বে বলে তিনি মনে করেন না।

 

বিশ্লেষকরা ট্রাম্পের এই বক্তব্যকে মধ্যপ্রাচ্য সংকটে ইসরায়েলের ওপর ওয়াশিংটনের প্রভাব এবং একই সঙ্গে নেতানিয়াহুর প্রতি ট্রাম্পের আস্থার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন। ট্রাম্প বারবার উল্লেখ করেছেন, বর্তমান সামরিক অভিযানের মাধ্যমে ইরানের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা সম্ভব হয়েছে।

 

এই যুদ্ধ ঠিক কোন পর্যায়ে গিয়ে থামবে এবং এর ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণ কী হবে, তা নিয়ে এখন বিশ্বজুড়ে জল্পনা চলছে। তবে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যকার এই ‘যৌথ সিদ্ধান্ত’ মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র বদলে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

নেতানিয়াহুর সঙ্গে আলোচনা করে যুদ্ধ বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে: ট্রাম্প

Update Time : ০৫:৩৫:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬
12 / 100 SEO Score

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ কখন শেষ হবে, সেই সিদ্ধান্ত তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমেই নেবেন।

 

রোববার (৮ মার্চ) এক সংক্ষিপ্ত টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন বলে ‘টাইমস অব ইসরায়েল’-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট স্পষ্টভাবে বলেছেন, এই যুদ্ধ সমাপ্তির বিষয়টি একটি ‘যৌথ’ সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে এবং তিনি ও নেতানিয়াহু এই বিষয়ে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন। ট্রাম্পের মতে, পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সঠিক সময়েই এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

 

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এক চাঞ্চল্যকর দাবি করে বলেন, তিনি এবং নেতানিয়াহু যদি নেতৃত্বে না থাকতেন, তবে ইরান এতক্ষণে ইসরায়েলকে ধ্বংস করে দিত। তিনি বলেন, ‘ইরান ইসরায়েল এবং এর চারপাশের সবকিছু ধ্বংস করতে চেয়েছিল।

 

আমরা একসঙ্গে কাজ করেছি এবং এমন একটি দেশকে ধ্বংস করেছি যারা ইসরায়েলকে মানচিত্র থেকে মুছে দিতে চেয়েছিল।’ ট্রাম্পের এই মন্তব্য থেকে স্পষ্ট, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত ঐক্য কতটা সুগভীর। তিনি মনে করেন, তাঁদের যৌথ পদক্ষেপের কারণেই ইরান এখন অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে।

 

ইরান যুদ্ধের সমাপ্তি কি কেবল ট্রাম্পের একক সিদ্ধান্তে হবে নাকি নেতানিয়াহুরও সেখানে সমান ভূমিকা থাকবে—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি মনে করি এটি অনেকটা যৌথ সিদ্ধান্তের মতোই হবে। আমরা এ নিয়ে আলোচনা করছি। তবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সব ধরনের বাস্তবতা বিবেচনায় রাখা হবে।’

 

যুক্তরাষ্ট্র যদি কোনো কারণে আক্রমণ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে ইসরায়েল এককভাবে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারবে কি না—এমন সম্ভাবনা নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি ট্রাম্প। তবে তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে যোগ করেছেন, এ ধরনের কোনো পরিস্থিতির প্রয়োজন পড়বে বলে তিনি মনে করেন না।

 

বিশ্লেষকরা ট্রাম্পের এই বক্তব্যকে মধ্যপ্রাচ্য সংকটে ইসরায়েলের ওপর ওয়াশিংটনের প্রভাব এবং একই সঙ্গে নেতানিয়াহুর প্রতি ট্রাম্পের আস্থার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন। ট্রাম্প বারবার উল্লেখ করেছেন, বর্তমান সামরিক অভিযানের মাধ্যমে ইরানের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা সম্ভব হয়েছে।

 

এই যুদ্ধ ঠিক কোন পর্যায়ে গিয়ে থামবে এবং এর ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণ কী হবে, তা নিয়ে এখন বিশ্বজুড়ে জল্পনা চলছে। তবে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যকার এই ‘যৌথ সিদ্ধান্ত’ মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র বদলে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান