Dhaka ০১:৫১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রতি মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুতে বছরে সাশ্রয় ৫ কোটির বেশি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
8 / 100 SEO Score

 

জাতীয় গ্রিডে যুক্ত প্রতিটি নতুন মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ বছরে ৫ কোটিরও বেশি টাকা সাশ্রয় করছে বলে জানিয়েছে উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশ কর্মজোট (ক্লিন)।

বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং ব্যয়বহুল জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানির প্রয়োজনীয়তা কমানোর মাধ্যমে এ সাশ্রয় সম্ভব হচ্ছে বলে সংগঠনটির নতুন গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। রোববার (২৮ জুন) এক বার্তায় এ তথ্য জানায় সংগঠনটি।

গবেষণা অনুযায়ী, গত আট বছরে সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৩ হাজার ২৩০ গিগাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছে। এর ফলে ২ হাজার ৬৪২ কোটি টাকা বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় এবং ৫ হাজার ৩১৩ কোটি টাকা জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানি ব্যয় সাশ্রয় হয়েছে। সব মিলিয়ে দেশের অর্থনীতিতে ৭ হাজার ৯৫৫ কোটি টাকার সুবিধা এসেছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, প্রতি মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ বছরে গড়ে ২ কোটি টাকা বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় কমায় এবং ৩ দশমিক ১১ কোটি টাকা জ্বালানি আমদানি ব্যয় সাশ্রয় করে। একই সঙ্গে প্রায় ৯৮০ টন কার্বন নিঃসরণ ও ২৫ টনের বেশি ক্ষতিকর বায়ুদূষণ প্রতিরোধ করে।

গবেষণায় দেখা গেছে, বিদ্যমান সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো গত আট বছরে ২২ লাখ ৫০ হাজার টনের বেশি কার্বন নিঃসরণ এবং ৪৮ হাজার ৪০৩ টন ক্ষতিকর বায়ুদূষণ এড়িয়েছে। এসব দূষণের মধ্যে সালফার অক্সাইড, নাইট্রোজেন অক্সাইড, সূক্ষ্ম বস্তুকণা, সিসা ও ক্যাডমিয়ামের মতো বিষাক্ত উপাদান রয়েছে, যা শ্বাসকষ্ট, হৃদ্‌রোগ, ক্যানসার এবং অকালমৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ায়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে সৌরবিদ্যুৎ বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রতিযোগিতামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রযুক্তিগুলোর একটি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় ইউনিটপ্রতি ১৫ দশমিক ৫৪ টাকা, যেখানে এইচএফও-ভিত্তিক বিদ্যুতের ব্যয় ছিল ইউনিটপ্রতি ২৭ দশমিক ৩৬ টাকা। ফলে জীবাশ্ম জ্বালানির পরিবর্তে সৌরবিদ্যুতে বিনিয়োগ বিদ্যুৎ খাতের আর্থিক চাপ কমানোর পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ক্লিনের প্রধান নির্বাহী হাসান মেহেদী বলেন, প্রতিটি নতুন মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় কমায়, জ্বালানি আমদানি ও বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ হ্রাস করে এবং জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় অবদান রাখে। সৌরবিদ্যুতে বিনিয়োগ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও ভবিষ্যতের বিনিয়োগ।

বার্তায় ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুতের অন্তত ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের বাধ্যতামূলক লক্ষ্য নির্ধারণ, নতুন কয়লা ও এলএনজি প্রকল্প বন্ধ, অনাবাদি সরকারি জমিতে বিশেষ সৌর অঞ্চল (সোলার জোন) গড়ে কমপক্ষে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন, জাতীয় গ্রিড আধুনিকায়ন, সৌর সরঞ্জামের ওপর আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তর কাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছে ক্লিন।

 

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

16 − six =

About Author Information

প্রতি মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুতে বছরে সাশ্রয় ৫ কোটির বেশি টাকা

Update Time : ০৬:৪০:০৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
8 / 100 SEO Score

 

জাতীয় গ্রিডে যুক্ত প্রতিটি নতুন মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ বছরে ৫ কোটিরও বেশি টাকা সাশ্রয় করছে বলে জানিয়েছে উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশ কর্মজোট (ক্লিন)।

বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং ব্যয়বহুল জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানির প্রয়োজনীয়তা কমানোর মাধ্যমে এ সাশ্রয় সম্ভব হচ্ছে বলে সংগঠনটির নতুন গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। রোববার (২৮ জুন) এক বার্তায় এ তথ্য জানায় সংগঠনটি।

গবেষণা অনুযায়ী, গত আট বছরে সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৩ হাজার ২৩০ গিগাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছে। এর ফলে ২ হাজার ৬৪২ কোটি টাকা বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় এবং ৫ হাজার ৩১৩ কোটি টাকা জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানি ব্যয় সাশ্রয় হয়েছে। সব মিলিয়ে দেশের অর্থনীতিতে ৭ হাজার ৯৫৫ কোটি টাকার সুবিধা এসেছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, প্রতি মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ বছরে গড়ে ২ কোটি টাকা বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় কমায় এবং ৩ দশমিক ১১ কোটি টাকা জ্বালানি আমদানি ব্যয় সাশ্রয় করে। একই সঙ্গে প্রায় ৯৮০ টন কার্বন নিঃসরণ ও ২৫ টনের বেশি ক্ষতিকর বায়ুদূষণ প্রতিরোধ করে।

গবেষণায় দেখা গেছে, বিদ্যমান সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো গত আট বছরে ২২ লাখ ৫০ হাজার টনের বেশি কার্বন নিঃসরণ এবং ৪৮ হাজার ৪০৩ টন ক্ষতিকর বায়ুদূষণ এড়িয়েছে। এসব দূষণের মধ্যে সালফার অক্সাইড, নাইট্রোজেন অক্সাইড, সূক্ষ্ম বস্তুকণা, সিসা ও ক্যাডমিয়ামের মতো বিষাক্ত উপাদান রয়েছে, যা শ্বাসকষ্ট, হৃদ্‌রোগ, ক্যানসার এবং অকালমৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ায়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে সৌরবিদ্যুৎ বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রতিযোগিতামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রযুক্তিগুলোর একটি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় ইউনিটপ্রতি ১৫ দশমিক ৫৪ টাকা, যেখানে এইচএফও-ভিত্তিক বিদ্যুতের ব্যয় ছিল ইউনিটপ্রতি ২৭ দশমিক ৩৬ টাকা। ফলে জীবাশ্ম জ্বালানির পরিবর্তে সৌরবিদ্যুতে বিনিয়োগ বিদ্যুৎ খাতের আর্থিক চাপ কমানোর পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ক্লিনের প্রধান নির্বাহী হাসান মেহেদী বলেন, প্রতিটি নতুন মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় কমায়, জ্বালানি আমদানি ও বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ হ্রাস করে এবং জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় অবদান রাখে। সৌরবিদ্যুতে বিনিয়োগ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও ভবিষ্যতের বিনিয়োগ।

বার্তায় ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুতের অন্তত ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের বাধ্যতামূলক লক্ষ্য নির্ধারণ, নতুন কয়লা ও এলএনজি প্রকল্প বন্ধ, অনাবাদি সরকারি জমিতে বিশেষ সৌর অঞ্চল (সোলার জোন) গড়ে কমপক্ষে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন, জাতীয় গ্রিড আধুনিকায়ন, সৌর সরঞ্জামের ওপর আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তর কাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছে ক্লিন।