Dhaka ০৮:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বড় ঋণে অডিট প্রতিবেদন বাধ্যতামূলক

নিজস্ব প্রতিবেদক
8 / 100 SEO Score

 

অনিয়ম ও অর্থের অপব্যবহার ঠেকাতে বড় অঙ্কের ঋণে নজরদারি বাড়াচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে ৫০ কোটি টাকা বা তার বেশি ঋণ বিতরণের পর অর্থের সঠিক ব্যবহার যাচাইয়ে বহিঃনিরীক্ষক প্রতিষ্ঠানের অডিট প্রতিবেদন নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে সেই প্রতিবেদন কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা দিতে হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ঋণের টাকা নির্ধারিত খাতে ব্যবহার হয়েছে কি না, এক খাতের নামে ঋণ নিয়ে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে কি না কিংবা ভুয়া ও বেনামি ঋণের মাধ্যমে অর্থ বের করে নেওয়া হয়েছে কি না এসব বিষয় যাচাই করা হবে। ব্যাংকিং খাতে এটি ‘এন্ড ইউজ মনিটরিং’ হিসেবে পরিচিত।

শিগগির এ বিষয়ে নীতিমালা জারি করে ব্যাংকগুলোকে তা পরিপালনের নির্দেশ দেওয়া হবে। বহিঃনিরীক্ষকের প্রতিবেদনে অনিয়ম ধরা পড়লে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, দেশে খেলাপি ঋণ বাড়ার অন্যতম কারণ বেনামি ও ভুয়া ঋণ। অনেক ক্ষেত্রে জামানতের সম্পদের মূল্য অতিরিক্ত দেখিয়ে ঋণ নেওয়া হয়েছে। আবার ব্যবসার নামে ঋণ নিয়ে তা জমি কেনা, শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ কিংবা বিদেশে পাচারের অভিযোগও রয়েছে। ব্যাংকের কিছু পরিচালক ও কর্মকর্তার যোগসাজশে এসব অনিয়ম হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মতে, তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে ঋণের ব্যবহার যাচাই করা হলে এসব ঝুঁকি অনেকটাই কমবে। একই সঙ্গে ব্যাংক ও ঋণগ্রহীতা, দুই পক্ষের জবাবদিহিও বাড়বে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও বড় ঋণের ক্ষেত্রে এ ধরনের ব্যবস্থা রয়েছে। ভারতে বড় ঋণ বিতরণের পর চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ‘ইউটিলাইজেশন রিপোর্ট’ নেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। ঋণের অর্থ অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার সন্দেহ হলে ফরেনসিক অডিটও করা হয়।

এদিকে, বড় ঋণের অনিয়ম খুঁজে বের করতে এরইমধ্যে তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত মে মাসে ব্যাংকগুলোকে ২০২৫ সালের জুলাই থেকে চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত ২০ কোটি টাকা বা তার বেশি বিতরণ ও পুনঃতফশিল করা ঋণের তথ্য দিতে বলা হয়। এতে ঋণগ্রহীতা, ঋণের খাত ও পুনঃতফশিলের তথ্য নেওয়া হয়।

তথ্য যাচাইয়ে কয়েকটি ব্যাংকে অনিয়মেরও সন্ধান পেয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর মধ্যে জনতা ব্যাংকে বেনামি ঋণের ঘটনা এবং পর্যাপ্ত ডাউনপেমেন্ট ও জামানত ছাড়াই বড় ঋণ পুনঃতফশিলের বিষয় উঠে এসেছে। এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের সতর্ক করে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, একদিকে বিনিয়োগ ও ঋণের চাহিদা কমে ব্যাংকে উদ্বৃত্ত তারল্য বাড়ছে, অন্যদিকে খেলাপি ও দুর্দশাগ্রস্ত ঋণ বাড়ছে। গত জুন শেষে ব্যাংক খাতে উদ্বৃত্ত তারল্য দাঁড়িয়েছে রেকর্ড ৪ লাখ ৮ হাজার কোটি টাকা। একই সময়ে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে ৪ দশমিক ৪৭ শতাংশে।

অন্যদিকে, ২০২৫ সালের শেষে দুর্দশাগ্রস্ত ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ৮৭ হাজার ৫৯০ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৫৯ দশমিক ৭৩ শতাংশ। এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে ঋণের মান খারাপ হওয়া ঠেকাতে ব্যবহার পর্যায়ে নজরদারি বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

fourteen − eight =

About Author Information

বড় ঋণে অডিট প্রতিবেদন বাধ্যতামূলক

Update Time : ০৭:৪৬:৫৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
8 / 100 SEO Score

 

অনিয়ম ও অর্থের অপব্যবহার ঠেকাতে বড় অঙ্কের ঋণে নজরদারি বাড়াচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে ৫০ কোটি টাকা বা তার বেশি ঋণ বিতরণের পর অর্থের সঠিক ব্যবহার যাচাইয়ে বহিঃনিরীক্ষক প্রতিষ্ঠানের অডিট প্রতিবেদন নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে সেই প্রতিবেদন কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা দিতে হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ঋণের টাকা নির্ধারিত খাতে ব্যবহার হয়েছে কি না, এক খাতের নামে ঋণ নিয়ে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে কি না কিংবা ভুয়া ও বেনামি ঋণের মাধ্যমে অর্থ বের করে নেওয়া হয়েছে কি না এসব বিষয় যাচাই করা হবে। ব্যাংকিং খাতে এটি ‘এন্ড ইউজ মনিটরিং’ হিসেবে পরিচিত।

শিগগির এ বিষয়ে নীতিমালা জারি করে ব্যাংকগুলোকে তা পরিপালনের নির্দেশ দেওয়া হবে। বহিঃনিরীক্ষকের প্রতিবেদনে অনিয়ম ধরা পড়লে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, দেশে খেলাপি ঋণ বাড়ার অন্যতম কারণ বেনামি ও ভুয়া ঋণ। অনেক ক্ষেত্রে জামানতের সম্পদের মূল্য অতিরিক্ত দেখিয়ে ঋণ নেওয়া হয়েছে। আবার ব্যবসার নামে ঋণ নিয়ে তা জমি কেনা, শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ কিংবা বিদেশে পাচারের অভিযোগও রয়েছে। ব্যাংকের কিছু পরিচালক ও কর্মকর্তার যোগসাজশে এসব অনিয়ম হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মতে, তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে ঋণের ব্যবহার যাচাই করা হলে এসব ঝুঁকি অনেকটাই কমবে। একই সঙ্গে ব্যাংক ও ঋণগ্রহীতা, দুই পক্ষের জবাবদিহিও বাড়বে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও বড় ঋণের ক্ষেত্রে এ ধরনের ব্যবস্থা রয়েছে। ভারতে বড় ঋণ বিতরণের পর চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ‘ইউটিলাইজেশন রিপোর্ট’ নেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। ঋণের অর্থ অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার সন্দেহ হলে ফরেনসিক অডিটও করা হয়।

এদিকে, বড় ঋণের অনিয়ম খুঁজে বের করতে এরইমধ্যে তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত মে মাসে ব্যাংকগুলোকে ২০২৫ সালের জুলাই থেকে চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত ২০ কোটি টাকা বা তার বেশি বিতরণ ও পুনঃতফশিল করা ঋণের তথ্য দিতে বলা হয়। এতে ঋণগ্রহীতা, ঋণের খাত ও পুনঃতফশিলের তথ্য নেওয়া হয়।

তথ্য যাচাইয়ে কয়েকটি ব্যাংকে অনিয়মেরও সন্ধান পেয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর মধ্যে জনতা ব্যাংকে বেনামি ঋণের ঘটনা এবং পর্যাপ্ত ডাউনপেমেন্ট ও জামানত ছাড়াই বড় ঋণ পুনঃতফশিলের বিষয় উঠে এসেছে। এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের সতর্ক করে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, একদিকে বিনিয়োগ ও ঋণের চাহিদা কমে ব্যাংকে উদ্বৃত্ত তারল্য বাড়ছে, অন্যদিকে খেলাপি ও দুর্দশাগ্রস্ত ঋণ বাড়ছে। গত জুন শেষে ব্যাংক খাতে উদ্বৃত্ত তারল্য দাঁড়িয়েছে রেকর্ড ৪ লাখ ৮ হাজার কোটি টাকা। একই সময়ে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে ৪ দশমিক ৪৭ শতাংশে।

অন্যদিকে, ২০২৫ সালের শেষে দুর্দশাগ্রস্ত ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ৮৭ হাজার ৫৯০ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৫৯ দশমিক ৭৩ শতাংশ। এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে ঋণের মান খারাপ হওয়া ঠেকাতে ব্যবহার পর্যায়ে নজরদারি বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।