Dhaka ১১:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিতর্কিত দ্বীপ সফরে পুতিন, ক্ষুব্ধ জাপান

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক
4 / 100 SEO Score

 

বিতর্কিত কুরিল দ্বীপপুঞ্জের ইতুরুপ দ্বীপ সফর করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তার এই সফরকে ‘একেবারেই অগ্রহণযোগ্য’ উল্লেখ করে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে জাপান। দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বলেছেন, পুতিনের সফর জাপানি জনগণের অনুভূতিতে আঘাত করেছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, পুতিন ইতুরুপ পরিদর্শন করেছেন। এটি জাপানে এতোরোফু নামে পরিচিত এবং কুরিল দ্বীপপুঞ্জের চারটি দ্বীপের মধ্যে একটি। রাশিয়া ও জাপান উভয়ই এসব দ্বীপের মালিকানা দাবি করে আসছে।

তাকাইচি বলেন, পুতিনের সফর রাশিয়ার প্রতি জাপানিদের মনোভাবকে আরও খারাপ করেছে। দ্বীপপুঞ্জটি ‘ঐতিহাসিকভাবে এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে জাপানের ভূখণ্ড’।

দুই দেশ কয়েক দশক ধরে কুরিল দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে বিবাদে জড়িয়ে রয়েছে। এ বিরোধের কারণে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মস্কো ও টোকিও কোনো শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর করেনি। কুরিল দ্বীপপুঞ্জ উত্তর জাপানের হোক্কাইডো ও রাশিয়ার কামচাটকা উপদ্বীপের মাঝে অবস্থিত। এর দক্ষিণের চারটি দ্বীপের ওপর জাপান মালিকানা দাবি করে আসছে। দেশটি সেগুলোকে ‘উত্তরাঞ্চলীয় ভূখণ্ড’ বলে অভিহিত করে।

বিবিসি জানিয়েছে, এসব দ্বীপ রাশিয়া শাসন করে আসছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষে সোভিয়েত ইউনিয়ন দ্বীপপুঞ্জটি দখল করে নেয় এবং প্রায় ১৭ হাজার জাপানিকে নির্বাসিত করে।

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, সফরকালে পুতিন মাছের ডিম চেখে দেখেছেন এবং দ্বীপের স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেছেন।

বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে তাকাইচি বলেন, তার এই সফর ‘জাপানি জনগণের অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে। এটি উত্তরাঞ্চলীয় ভূখণ্ডের বিষয়ে জাপানের ধারাবাহিক অবস্থানের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।’

এর আগে জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তোশিমিতসু মোতেগি বলেন, দ্বীপগুলো ‘ঐতিহাসিকভাবে এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুসারেও জাপানের অবিচ্ছেদ্য ভূখণ্ড।’ জাপান সরকার এই সফরের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে।

বছরের পর বছর ধরে ভূখণ্ডগত বিরোধ নিষ্পত্তির প্রচেষ্টা খুব কমই সফল হয়েছে। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কও শীতলই রয়ে গেছে। এর মধ্যে ২০২২ সালে ইউক্রেনে আক্রমণের জন্য জাপান রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

এর আগেও রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মিখাইল মিশুস্তিন এবং দিমিত্রি মেদভেদেভসহ রুশ কর্মকর্তাদের বিতর্কিত দ্বীপপুঞ্জে সফরের বিরুদ্ধে জাপান প্রতিবাদ জানিয়েছে।

কুরিল দ্বীপপুঞ্জ রাশিয়ার জন্য একটি কৌশলগত এলাকা। গত দশকে দেশটি এই দ্বীপগুলোতে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করেছে। ইতুরুপ দ্বীপটি এই অঞ্চলে রাশিয়া নিজেদের প্রধান সামরিক বিমানঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করে আসছে।

গত মাসে চীন ও রাশিয়ার নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজগুলো একটি যৌথ টহলের সময় কুরিল দ্বীপপুঞ্জের একটি প্রণালি দিয়ে অতিক্রম করেছিল। এ ছাড়া রাশিয়া দ্বীপগুলোর কাছে নিয়মিত সামরিক মহড়া চালিয়ে আসছে। অন্যদিকে, দেশটির এসব কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে আসছে জাপান।

সূত্র : বিবিসি

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

five × 3 =

About Author Information

বিতর্কিত দ্বীপ সফরে পুতিন, ক্ষুব্ধ জাপান

Update Time : ০৭:২৬:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
4 / 100 SEO Score

 

বিতর্কিত কুরিল দ্বীপপুঞ্জের ইতুরুপ দ্বীপ সফর করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তার এই সফরকে ‘একেবারেই অগ্রহণযোগ্য’ উল্লেখ করে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে জাপান। দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বলেছেন, পুতিনের সফর জাপানি জনগণের অনুভূতিতে আঘাত করেছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, পুতিন ইতুরুপ পরিদর্শন করেছেন। এটি জাপানে এতোরোফু নামে পরিচিত এবং কুরিল দ্বীপপুঞ্জের চারটি দ্বীপের মধ্যে একটি। রাশিয়া ও জাপান উভয়ই এসব দ্বীপের মালিকানা দাবি করে আসছে।

তাকাইচি বলেন, পুতিনের সফর রাশিয়ার প্রতি জাপানিদের মনোভাবকে আরও খারাপ করেছে। দ্বীপপুঞ্জটি ‘ঐতিহাসিকভাবে এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে জাপানের ভূখণ্ড’।

দুই দেশ কয়েক দশক ধরে কুরিল দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে বিবাদে জড়িয়ে রয়েছে। এ বিরোধের কারণে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মস্কো ও টোকিও কোনো শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর করেনি। কুরিল দ্বীপপুঞ্জ উত্তর জাপানের হোক্কাইডো ও রাশিয়ার কামচাটকা উপদ্বীপের মাঝে অবস্থিত। এর দক্ষিণের চারটি দ্বীপের ওপর জাপান মালিকানা দাবি করে আসছে। দেশটি সেগুলোকে ‘উত্তরাঞ্চলীয় ভূখণ্ড’ বলে অভিহিত করে।

বিবিসি জানিয়েছে, এসব দ্বীপ রাশিয়া শাসন করে আসছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষে সোভিয়েত ইউনিয়ন দ্বীপপুঞ্জটি দখল করে নেয় এবং প্রায় ১৭ হাজার জাপানিকে নির্বাসিত করে।

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, সফরকালে পুতিন মাছের ডিম চেখে দেখেছেন এবং দ্বীপের স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেছেন।

বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে তাকাইচি বলেন, তার এই সফর ‘জাপানি জনগণের অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে। এটি উত্তরাঞ্চলীয় ভূখণ্ডের বিষয়ে জাপানের ধারাবাহিক অবস্থানের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।’

এর আগে জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তোশিমিতসু মোতেগি বলেন, দ্বীপগুলো ‘ঐতিহাসিকভাবে এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুসারেও জাপানের অবিচ্ছেদ্য ভূখণ্ড।’ জাপান সরকার এই সফরের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে।

বছরের পর বছর ধরে ভূখণ্ডগত বিরোধ নিষ্পত্তির প্রচেষ্টা খুব কমই সফল হয়েছে। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কও শীতলই রয়ে গেছে। এর মধ্যে ২০২২ সালে ইউক্রেনে আক্রমণের জন্য জাপান রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

এর আগেও রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মিখাইল মিশুস্তিন এবং দিমিত্রি মেদভেদেভসহ রুশ কর্মকর্তাদের বিতর্কিত দ্বীপপুঞ্জে সফরের বিরুদ্ধে জাপান প্রতিবাদ জানিয়েছে।

কুরিল দ্বীপপুঞ্জ রাশিয়ার জন্য একটি কৌশলগত এলাকা। গত দশকে দেশটি এই দ্বীপগুলোতে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করেছে। ইতুরুপ দ্বীপটি এই অঞ্চলে রাশিয়া নিজেদের প্রধান সামরিক বিমানঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করে আসছে।

গত মাসে চীন ও রাশিয়ার নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজগুলো একটি যৌথ টহলের সময় কুরিল দ্বীপপুঞ্জের একটি প্রণালি দিয়ে অতিক্রম করেছিল। এ ছাড়া রাশিয়া দ্বীপগুলোর কাছে নিয়মিত সামরিক মহড়া চালিয়ে আসছে। অন্যদিকে, দেশটির এসব কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে আসছে জাপান।

সূত্র : বিবিসি