মধ্যরাতের আগুনে পুড়ে গেল শিশুর প্রাণ
হবিগঞ্জ শহরের সবুজবাগ এলাকায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকার বাড়িতে মধ্যরাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে চারটি ঘর পুড়ে গেছে। এ ঘটনায় ৪ থেকে ৫ বছর বয়সী এক প্রতিবন্ধী শিশুর দগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
গতকাল বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে সবুজবাগ এলাকায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা রুজি বেগমের বাড়িতে আগুনের সূত্রপাত হয়। স্থানীয়রা জানান, মুহূর্তের মধ্যে আগুনের তীব্রতা বেড়ে আশপাশের বাড়িগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে রাত ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। দীর্ঘ সময়ের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।
ফায়ার সার্ভিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বদরুল আলম জানান, দ্রুততম সময়ের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডে মোট চারটি ঘর পুড়ে গেছে। এর মধ্যে শিক্ষিকা রুজি বেগমের ঘরটি বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে ৪ থেকে ৫ বছর বয়সী একটি শিশুর দগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আগুনে দগ্ধ হয়ে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে বলে জানান তিনি।
অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে হবিগঞ্জ সদর থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে সরেজমিনে তদন্ত করে। এ সময় দায়িত্বরত এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, এ ঘটনায় অভিযোগ পাওয়া গেলে তা তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, পূর্বশত্রুতার জের ধরে আব্দুস সাত্তার নামে এক ব্যক্তি তার সহযোগীদের নিয়ে শিক্ষিকা রুজি বেগমের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন। তবে এ অভিযোগের সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশও এ বিষয়ে তদন্তের আগে কোনো মন্তব্য করেনি।
অগ্নিকাণ্ডে চারটি ঘর পুড়ে যাওয়া ও শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। আগুনের প্রকৃত কারণ এবং এর পেছনে কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।



















