Dhaka ০৮:২৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মা ও তিন বোনের একসঙ্গে দাফন, বাকরুদ্ধ একমাত্র সন্তান সিফাত

নিজস্ব প্রতিবেদক
8 / 100 SEO Score

 

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে হত্যাকাণ্ডের শিকার মা ও তিন মেয়েকে কুমিল্লার হোমনা উপজেলায় নিজ গ্রামে পাশাপাশি কবরে সমাহিত করা হয়েছে। শুক্রবার (২৬ জুন) রাত সাড়ে ১০টার দিকে দ্বিতীয় দফা জানাজা শেষে পাশাপাশি চারটি কবরে তাদের দাফন সম্পন্ন হয়। হোমনা থানার ওসি টমাস বড়ুয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

এর আগে, এদিন রাত সাড়ে ৯টায় শাহীনুর বেগম (৩৮), তার মেয়ে সায়মা আক্তার (২১), নাফিসা আক্তার ইকরা (১৭) ও ছোট মেয়ে ফাতেমা আক্তার শিফার (১০) মরদেহ উপজেলার লটিয়া গ্রামে পৌঁছায়। এ সময় স্বজনদের কান্নায় ভারি হয়ে ওঠে চারপাশ। পরে জানাজা শেষে শাহীনুর বেগমের স্বামী প্রয়াত মো. কামালের বাড়ির পাশে তাদের দাফন হয়। তাদের জানাজা পড়িয়েছেন মুফতি সামসুল হক আরিফী। মর্মান্তিক এই ট্র্যাজেডিতে পুরো উপজেলায় এখন গভীর শোকের ছায়া।

জানাজায় রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে হোমনা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান মোল্লা এবং উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি কাজী মো. ইব্রাহিমসহ সর্বস্তরের হাজারো মানুষ অংশ নেন। তবে জানাজাস্থলে স্থানীয় প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তাকে দেখা যায়নি।

এদিকে এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডে পুরো পরিবার হারিয়ে এখন সম্পূর্ণ একা হয়ে গেছে একমাত্র জীবিত সন্তান মো. সিফাত। ঘটনার সময় সে বাসার বাইরে থাকায় অলৌকিকভাবে বেঁচে যায়। এবার এসএসসি পরীক্ষা দেওয়া এই কিশোরই ঢাকা ও লক্ষ্মীপুর থেকে একা হাতে মা ও তিন বোনের মরদেহ হোমনায় নিয়ে আসে। মরদেহগুলো বাড়িতে এলে পুরো গ্রামবাসী ও স্বজনেরা জানাজা ও দাফনের ব্যবস্থা করেন। মা-বোনদের হারিয়ে সিফাত এখন পুরোপুরি বাকরুদ্ধ।
দাফনে অংশ নেওয়া স্থানীয় বাসিন্দা আজিজুর রহমান মোল্লা বলেন, “এমন দুঃসহ ঘটনার মুখোমুখি আমরা আর কখনো হইনি। যারা নিহত হয়েছেন তাদের রুহের মাগফেরাত কামনা করি এবং হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করি।”

এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে রায়পুর পৌরসভার ধানহাটা নদীর পাড় সড়কের আমির হোসেন মাস্টারের পাঁচ তলা ভবনের নিচতলার বাসায় ঢুকে শাহীনুর বেগম, সায়মা আক্তার, নাফিসা আক্তার ইকরা ও ছোট মেয়ে ফাতেমা আক্তার শিফাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

তাদের চিৎকার শুনে জানালা দিয়ে বাসায় এক লোককে দেখতে পেয়ে স্থানীয় এক নারী বাহির থেকে বাসার গেইট বন্ধ করে দেন। এতে সেখানে অন্তর মজুমদার নামের এক ফল ব্যবসায়ী ভবনের ভেতরে আটকা পড়েন।

পরে ওই নারী আশাপাশের লোকজনকে ডেকে নিয়ে বাসায় ঢুকে চারজনকে রক্তাক্ত অবস্থায় ঘরের মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। এ সময় অন্তর বাসার ছাদে উঠে পার্শ্ববর্তী বাসার ছাদ দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। তবে স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করে গণপিটুনি দেন। পরে তিনিও মারা যান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দেড় বছর একই ভবনের পাঁচ তলায় ভাড়া থাকতেন অন্তর। প্রায় আট মাস আগে তিনি বাসা ছেড়ে চলে যায়। অন্তর জানতো বাসা ভাড়ার টাকা শাহীনুরের কাছে জমা হয় এবং তার কিছু স্বর্ণালংকারও ছিল। ডাকাতির উদ্দেশে অন্তর ঘটনাটি ঘটিয়েছেন বলে ধারণা স্বজনদের।

শাহীনুরের ছোট ভাই ছানা উল্লাহ বলেন, আমার বোনের স্বর্ণালংকার ছিল। সেগুলো লুট করতেই ঘটনাটি ঘটিয়েছে। ঘটনাটির মূল ঘটনা উদঘাটনসহ অন্য কেউ জড়িত আছে কি-না তা বের করার দাবি জানাচ্ছি।

 

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মা ও তিন বোনের একসঙ্গে দাফন, বাকরুদ্ধ একমাত্র সন্তান সিফাত

Update Time : ০৭:০৩:৫৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
8 / 100 SEO Score

 

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে হত্যাকাণ্ডের শিকার মা ও তিন মেয়েকে কুমিল্লার হোমনা উপজেলায় নিজ গ্রামে পাশাপাশি কবরে সমাহিত করা হয়েছে। শুক্রবার (২৬ জুন) রাত সাড়ে ১০টার দিকে দ্বিতীয় দফা জানাজা শেষে পাশাপাশি চারটি কবরে তাদের দাফন সম্পন্ন হয়। হোমনা থানার ওসি টমাস বড়ুয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

এর আগে, এদিন রাত সাড়ে ৯টায় শাহীনুর বেগম (৩৮), তার মেয়ে সায়মা আক্তার (২১), নাফিসা আক্তার ইকরা (১৭) ও ছোট মেয়ে ফাতেমা আক্তার শিফার (১০) মরদেহ উপজেলার লটিয়া গ্রামে পৌঁছায়। এ সময় স্বজনদের কান্নায় ভারি হয়ে ওঠে চারপাশ। পরে জানাজা শেষে শাহীনুর বেগমের স্বামী প্রয়াত মো. কামালের বাড়ির পাশে তাদের দাফন হয়। তাদের জানাজা পড়িয়েছেন মুফতি সামসুল হক আরিফী। মর্মান্তিক এই ট্র্যাজেডিতে পুরো উপজেলায় এখন গভীর শোকের ছায়া।

জানাজায় রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে হোমনা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান মোল্লা এবং উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি কাজী মো. ইব্রাহিমসহ সর্বস্তরের হাজারো মানুষ অংশ নেন। তবে জানাজাস্থলে স্থানীয় প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তাকে দেখা যায়নি।

এদিকে এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডে পুরো পরিবার হারিয়ে এখন সম্পূর্ণ একা হয়ে গেছে একমাত্র জীবিত সন্তান মো. সিফাত। ঘটনার সময় সে বাসার বাইরে থাকায় অলৌকিকভাবে বেঁচে যায়। এবার এসএসসি পরীক্ষা দেওয়া এই কিশোরই ঢাকা ও লক্ষ্মীপুর থেকে একা হাতে মা ও তিন বোনের মরদেহ হোমনায় নিয়ে আসে। মরদেহগুলো বাড়িতে এলে পুরো গ্রামবাসী ও স্বজনেরা জানাজা ও দাফনের ব্যবস্থা করেন। মা-বোনদের হারিয়ে সিফাত এখন পুরোপুরি বাকরুদ্ধ।
দাফনে অংশ নেওয়া স্থানীয় বাসিন্দা আজিজুর রহমান মোল্লা বলেন, “এমন দুঃসহ ঘটনার মুখোমুখি আমরা আর কখনো হইনি। যারা নিহত হয়েছেন তাদের রুহের মাগফেরাত কামনা করি এবং হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করি।”

এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে রায়পুর পৌরসভার ধানহাটা নদীর পাড় সড়কের আমির হোসেন মাস্টারের পাঁচ তলা ভবনের নিচতলার বাসায় ঢুকে শাহীনুর বেগম, সায়মা আক্তার, নাফিসা আক্তার ইকরা ও ছোট মেয়ে ফাতেমা আক্তার শিফাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

তাদের চিৎকার শুনে জানালা দিয়ে বাসায় এক লোককে দেখতে পেয়ে স্থানীয় এক নারী বাহির থেকে বাসার গেইট বন্ধ করে দেন। এতে সেখানে অন্তর মজুমদার নামের এক ফল ব্যবসায়ী ভবনের ভেতরে আটকা পড়েন।

পরে ওই নারী আশাপাশের লোকজনকে ডেকে নিয়ে বাসায় ঢুকে চারজনকে রক্তাক্ত অবস্থায় ঘরের মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। এ সময় অন্তর বাসার ছাদে উঠে পার্শ্ববর্তী বাসার ছাদ দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। তবে স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করে গণপিটুনি দেন। পরে তিনিও মারা যান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দেড় বছর একই ভবনের পাঁচ তলায় ভাড়া থাকতেন অন্তর। প্রায় আট মাস আগে তিনি বাসা ছেড়ে চলে যায়। অন্তর জানতো বাসা ভাড়ার টাকা শাহীনুরের কাছে জমা হয় এবং তার কিছু স্বর্ণালংকারও ছিল। ডাকাতির উদ্দেশে অন্তর ঘটনাটি ঘটিয়েছেন বলে ধারণা স্বজনদের।

শাহীনুরের ছোট ভাই ছানা উল্লাহ বলেন, আমার বোনের স্বর্ণালংকার ছিল। সেগুলো লুট করতেই ঘটনাটি ঘটিয়েছে। ঘটনাটির মূল ঘটনা উদঘাটনসহ অন্য কেউ জড়িত আছে কি-না তা বের করার দাবি জানাচ্ছি।