Dhaka ০১:৫১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মিছিলে মিছিলে জনস্রোত, কানায় কানায় পূর্ণ প্রধানমন্ত্রীর সমাবেশস্থল

নিজস্ব প্রতিবেদক
8 / 100 SEO Score

 

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন কর্মসূচিতে যোগ দিতে চট্টগ্রামে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (৯ আগস্ট) ভোর থেকেই উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের সমুদ্রসৈকত সংলগ্ন সমাবেশস্থলে মিছিলে মিছিলে যোগ দিচ্ছেন স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা। দুপুর সাড়ে ১০টার মধ্যেই বিশালাকার প্যান্ডেল ও সমাবেশস্থল কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে।

রোববার দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দরের কর্মসূচি শেষে হেলিকপ্টারযোগে বাঁশখালী আসার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।

এ সফরকে কেন্দ্র করে সমুদ্রপাড়ের পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। উপজেলা ও আশপাশের বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে ব্যানার, ফেস্টুন ও স্লোগানসহ মিছিল নিয়ে হাজার হাজার নেতাকর্মী সমাবেশস্থলে জড়ো হয়েছেন।

সমাবেশে উপস্থিত তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ- উদ্দীপনা দেখা গেছে। স্থানীয় যুবদল নেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, আমাদের উপকূলীয় অঞ্চল বন্যায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নিজে এসে ঘরহারা মানুষের হাতে নতুন ঘরের চাবি তুলে দিচ্ছেন, এটি বাঁশখালীবাসীর জন্য অনেক বড় পাওয়া। আমরা ভোর থেকেই খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে মাঠ পূর্ণ করেছি।

দক্ষিণ জেলা বিএনপি নেতা জাগির হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই আগমন কেবল পুনর্বাসনের জন্য নয়, বাঁশখালীর স্থানীয় অর্থনীতি ও বাহারছড়া সৈকতকে নতুনভাবে দেশ-বিদেশে তুলে ধরার ক্ষেত্রেও মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।

সাম্প্রতিক বন্যায় ঘর হারানো ১০০টি অসচ্ছল পরিবারকে নতুন ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে সরকার। সরকারের এই পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় আজ আনুষ্ঠানিকভাবে উপকারভোগীদের হাতে ঘরের চাবি তুলে দেবেন প্রধানমন্ত্রী।

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী প্রথমে সন্তান নিয়ে বসবাসকারী স্বামীহারা এক নারীর হাতে প্রতীকীভাবে নতুন ঘরের চাবি তুলে দেবেন। এর মাধ্যমে ১০০টি পরিবারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘর হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরু হবে।

বিজ্ঞাপন

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, বাঁশখালী পৌরসভা ও উপজেলার নয়টি ইউনিয়ন থেকে সবচেয়ে অসচ্ছল এবং ভিটেমাটি হারানো ১০০টি পরিবারকে বাছাই করা হয়েছে। বিশেষ করে জেলে সম্প্রদায় ও মাটির ঘর হারিয়ে নিঃস্ব হওয়া পরিবারগুলোকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ঘরের দৈর্ঘ্য ১৮ ফুট ও প্রস্থ ১২ ফুট, যাতে রয়েছে দুটি কক্ষ এবং ৫ ফুট বাই ৫ ফুটের সংযুক্ত শৌচাগার। আরসিসি পিলার, টিন ও কাঠ ব্যবহার করে প্রাকৃতিক দুর্যোগসহনশীল করে ঘরগুলো তৈরি করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে পুনর্বাসনের পাশাপাশি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে ১৫ জন প্রতিবন্ধী শিশু ও ব্যক্তিকে আর্থিক সহায়তার চেক প্রদান করা হবে। এছাড়া জেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত আরও ২০০টি পরিবারের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করার কথা রয়েছে।

বাঁশখালীর এই পুনর্বাসন কর্মসূচি ও সুধী সমাবেশ শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঐতিহ্যবাহী বাবুনগর মাদরাসায় যাওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে তিনি মাদরাসার শিক্ষক ও পরিচালনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করবেন। এরপর হাটহাজারীতে গিয়ে কবর জিয়ারত করবেন প্রধানমন্ত্রী।
হাটহাজারীতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৩০টি পরিবারকে ঘর নির্মাণের আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মধ্যে সহায়তা বিতরণ কর্মসূচিতে তার অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। দিনের শেষভাগে চট্টগ্রাম নগরীতে আয়োজিত দলীয় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করবেন তিনি।

 

Tag :

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

3 × five =

About Author Information

মিছিলে মিছিলে জনস্রোত, কানায় কানায় পূর্ণ প্রধানমন্ত্রীর সমাবেশস্থল

Update Time : ০৪:৫৫:১২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬
8 / 100 SEO Score

 

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন কর্মসূচিতে যোগ দিতে চট্টগ্রামে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (৯ আগস্ট) ভোর থেকেই উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের সমুদ্রসৈকত সংলগ্ন সমাবেশস্থলে মিছিলে মিছিলে যোগ দিচ্ছেন স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা। দুপুর সাড়ে ১০টার মধ্যেই বিশালাকার প্যান্ডেল ও সমাবেশস্থল কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে।

রোববার দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দরের কর্মসূচি শেষে হেলিকপ্টারযোগে বাঁশখালী আসার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।

এ সফরকে কেন্দ্র করে সমুদ্রপাড়ের পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। উপজেলা ও আশপাশের বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে ব্যানার, ফেস্টুন ও স্লোগানসহ মিছিল নিয়ে হাজার হাজার নেতাকর্মী সমাবেশস্থলে জড়ো হয়েছেন।

সমাবেশে উপস্থিত তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ- উদ্দীপনা দেখা গেছে। স্থানীয় যুবদল নেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, আমাদের উপকূলীয় অঞ্চল বন্যায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নিজে এসে ঘরহারা মানুষের হাতে নতুন ঘরের চাবি তুলে দিচ্ছেন, এটি বাঁশখালীবাসীর জন্য অনেক বড় পাওয়া। আমরা ভোর থেকেই খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে মাঠ পূর্ণ করেছি।

দক্ষিণ জেলা বিএনপি নেতা জাগির হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই আগমন কেবল পুনর্বাসনের জন্য নয়, বাঁশখালীর স্থানীয় অর্থনীতি ও বাহারছড়া সৈকতকে নতুনভাবে দেশ-বিদেশে তুলে ধরার ক্ষেত্রেও মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।

সাম্প্রতিক বন্যায় ঘর হারানো ১০০টি অসচ্ছল পরিবারকে নতুন ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে সরকার। সরকারের এই পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় আজ আনুষ্ঠানিকভাবে উপকারভোগীদের হাতে ঘরের চাবি তুলে দেবেন প্রধানমন্ত্রী।

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী প্রথমে সন্তান নিয়ে বসবাসকারী স্বামীহারা এক নারীর হাতে প্রতীকীভাবে নতুন ঘরের চাবি তুলে দেবেন। এর মাধ্যমে ১০০টি পরিবারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘর হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরু হবে।

বিজ্ঞাপন

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, বাঁশখালী পৌরসভা ও উপজেলার নয়টি ইউনিয়ন থেকে সবচেয়ে অসচ্ছল এবং ভিটেমাটি হারানো ১০০টি পরিবারকে বাছাই করা হয়েছে। বিশেষ করে জেলে সম্প্রদায় ও মাটির ঘর হারিয়ে নিঃস্ব হওয়া পরিবারগুলোকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ঘরের দৈর্ঘ্য ১৮ ফুট ও প্রস্থ ১২ ফুট, যাতে রয়েছে দুটি কক্ষ এবং ৫ ফুট বাই ৫ ফুটের সংযুক্ত শৌচাগার। আরসিসি পিলার, টিন ও কাঠ ব্যবহার করে প্রাকৃতিক দুর্যোগসহনশীল করে ঘরগুলো তৈরি করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে পুনর্বাসনের পাশাপাশি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে ১৫ জন প্রতিবন্ধী শিশু ও ব্যক্তিকে আর্থিক সহায়তার চেক প্রদান করা হবে। এছাড়া জেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত আরও ২০০টি পরিবারের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করার কথা রয়েছে।

বাঁশখালীর এই পুনর্বাসন কর্মসূচি ও সুধী সমাবেশ শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঐতিহ্যবাহী বাবুনগর মাদরাসায় যাওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে তিনি মাদরাসার শিক্ষক ও পরিচালনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করবেন। এরপর হাটহাজারীতে গিয়ে কবর জিয়ারত করবেন প্রধানমন্ত্রী।
হাটহাজারীতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৩০টি পরিবারকে ঘর নির্মাণের আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মধ্যে সহায়তা বিতরণ কর্মসূচিতে তার অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। দিনের শেষভাগে চট্টগ্রাম নগরীতে আয়োজিত দলীয় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করবেন তিনি।