Dhaka ০৩:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মৃত স্বামীকে শেষ দেখা দেখতে পারবেন কি দীপু মনি?

8 / 100 SEO Score

 

সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির স্বামী তৌফিক নেওয়াজ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

স্বামীর মৃত্যুতে বর্তমানে মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে বন্দি থাকা ডা. দীপু মনির সাময়িক প্যারোলে মুক্তি চেয়ে আবেদন করা হবে বলে নিশ্চিত করেছেন তার আইনজীবী গাজী ফয়সাল ইসলাম।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ৭৬ বছর বয়সী তৌফিক নেওয়াজ। তিনি দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন এবং চলাফেরার জন্য হুইলচেয়ার ব্যবহার করতেন। পারিবারিক জীবনে এ দম্পতির এক কন্যাসন্তান রয়েছে। তৌফিক নেওয়াজের মৃত্যুতে তার স্বজন ও পরিচিত মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে ডা. দীপু মনির আইনজীবী গাজী ফয়সাল ইসলাম জানান, তৌফিক নেওয়াজ রাতে হাসপাতালে মারা গেছেন। দীপু মনি বর্তমানে মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে বন্দি রয়েছেন। স্বামীর শেষকৃত্য বা জানাজায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পেতে বুধবার মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসন বরাবর তার সাময়িক প্যারোলে মুক্তির আবেদন জমা দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ওই বছরের ১৯ আগস্ট রাতে রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আটক রয়েছেন এবং তার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন স্থানে ৬০টিরও বেশি মামলা দায়ের হয়েছে।

কারাগারে বন্দি কোনো ব্যক্তির নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে স্বল্প সময়ের সাময়িক মুক্তিকে সাধারণত প্যারোল বলা হয়। ফরাসি শব্দ ‘প্যারোল’ (Parole)-এর অর্থ প্রতিশ্রুতি। দেশের বিদ্যমান আইনে প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে সুস্পষ্ট বিধানের পূর্ণ বিবরণ না থাকলেও বন্দীর ক্ষেত্রে জরুরি মানবিক প্রয়োজন দেখা দিলে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্যারোল মঞ্জুর করা হয়। সচরাচর বাবা-মা, স্বামী-স্ত্রী, সন্তান, শ্বশুর-শাশুড়ি কিংবা নিকটাত্মীয়ের মৃত্যুতে জানাজা বা শেষকৃত্যে অংশ নিতে সর্বোচ্চ ১২ ঘণ্টার জন্য এই প্রশাসনিক মুক্তি কার্যকর করা হয়।

প্যারোল আদালতের কোনো বিচারিক আদেশ নয়; এটি সম্পূর্ণরূপে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তথা নির্বাহী বিভাগের একটি প্রশাসনিক আদেশ। সাধারণ প্রক্রিয়ায় কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করার পর বিচারিক আদেশে জামিনে মুক্তি বা কারাগারে পাঠানো হয়। ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী, অপরাধের ধরন ভেদে আদালত নির্দিষ্ট জামানতে জামিন মঞ্জুর করতে পারে কিংবা তদন্ত ১২০ দিনের মধ্যে শেষ না হলে নির্ধারিত শর্তে আদালত জামিন দিতে পারে। তবে প্যারোল কোনো জামিন নয়, এটি নির্বাহী আদেশের একটি প্রক্রিয়া।

২০১৬ সালের ১ জুন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রণীত প্যারোল নীতিমালা অনুযায়ী, ভিআইপি বা সাধারণ যেকোনো বন্দীর নিকটাত্মীয়ের মৃত্যুতে কিংবা বিশেষ কারণে নিরাপত্তা ও দূরত্বের ওপর নির্ভর করে প্যারোল অনুমোদন দেওয়া যায়। এই নীতিমালায় বন্দীকে সার্বক্ষণিক পুলিশ পাহারায় রাখা, সাধারণত ১২ ঘণ্টার মধ্যে পুনরায় কারাগারে ফিরিয়ে আনা এবং জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্যারোল মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

প্রবেশন ও প্যারোলের মধ্যেও স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। ‘প্রবেশন অব অফেন্ডারস অর্ডিন্যান্স, ১৯৬০’ এবং শিশু আইনের আওতায় আদালত বিচারিক আদেশের মাধ্যমে কোনো অপরাধীকে সংশোধনের উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্রবেশন কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে দিতে পারে, যা সম্পূর্ণ একটি বিচারিক সিদ্ধান্ত। অপরদিকে, দেশের সংবিধানের ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি ও সরকার ফৌজদারি কার্যবিধির আওতায় যেকোনো দণ্ড মওকুফ, স্থগিত, হ্রাস কিংবা সাময়িক বিলম্বন ও বিরাম মঞ্জুর করতে পারেন। সার্বিক নীতিমালার আলোকেই বর্তমানে বন্দীদের ক্ষেত্রে প্যারোলের আবেদন ও প্রশাসনিক অনুমোদন প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়।

 

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

1 × three =

About Author Information

মৃত স্বামীকে শেষ দেখা দেখতে পারবেন কি দীপু মনি?

Update Time : ০৪:০৮:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬
8 / 100 SEO Score

 

সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির স্বামী তৌফিক নেওয়াজ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

স্বামীর মৃত্যুতে বর্তমানে মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে বন্দি থাকা ডা. দীপু মনির সাময়িক প্যারোলে মুক্তি চেয়ে আবেদন করা হবে বলে নিশ্চিত করেছেন তার আইনজীবী গাজী ফয়সাল ইসলাম।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ৭৬ বছর বয়সী তৌফিক নেওয়াজ। তিনি দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন এবং চলাফেরার জন্য হুইলচেয়ার ব্যবহার করতেন। পারিবারিক জীবনে এ দম্পতির এক কন্যাসন্তান রয়েছে। তৌফিক নেওয়াজের মৃত্যুতে তার স্বজন ও পরিচিত মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে ডা. দীপু মনির আইনজীবী গাজী ফয়সাল ইসলাম জানান, তৌফিক নেওয়াজ রাতে হাসপাতালে মারা গেছেন। দীপু মনি বর্তমানে মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে বন্দি রয়েছেন। স্বামীর শেষকৃত্য বা জানাজায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পেতে বুধবার মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসন বরাবর তার সাময়িক প্যারোলে মুক্তির আবেদন জমা দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ওই বছরের ১৯ আগস্ট রাতে রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আটক রয়েছেন এবং তার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন স্থানে ৬০টিরও বেশি মামলা দায়ের হয়েছে।

কারাগারে বন্দি কোনো ব্যক্তির নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে স্বল্প সময়ের সাময়িক মুক্তিকে সাধারণত প্যারোল বলা হয়। ফরাসি শব্দ ‘প্যারোল’ (Parole)-এর অর্থ প্রতিশ্রুতি। দেশের বিদ্যমান আইনে প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে সুস্পষ্ট বিধানের পূর্ণ বিবরণ না থাকলেও বন্দীর ক্ষেত্রে জরুরি মানবিক প্রয়োজন দেখা দিলে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্যারোল মঞ্জুর করা হয়। সচরাচর বাবা-মা, স্বামী-স্ত্রী, সন্তান, শ্বশুর-শাশুড়ি কিংবা নিকটাত্মীয়ের মৃত্যুতে জানাজা বা শেষকৃত্যে অংশ নিতে সর্বোচ্চ ১২ ঘণ্টার জন্য এই প্রশাসনিক মুক্তি কার্যকর করা হয়।

প্যারোল আদালতের কোনো বিচারিক আদেশ নয়; এটি সম্পূর্ণরূপে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তথা নির্বাহী বিভাগের একটি প্রশাসনিক আদেশ। সাধারণ প্রক্রিয়ায় কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করার পর বিচারিক আদেশে জামিনে মুক্তি বা কারাগারে পাঠানো হয়। ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী, অপরাধের ধরন ভেদে আদালত নির্দিষ্ট জামানতে জামিন মঞ্জুর করতে পারে কিংবা তদন্ত ১২০ দিনের মধ্যে শেষ না হলে নির্ধারিত শর্তে আদালত জামিন দিতে পারে। তবে প্যারোল কোনো জামিন নয়, এটি নির্বাহী আদেশের একটি প্রক্রিয়া।

২০১৬ সালের ১ জুন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রণীত প্যারোল নীতিমালা অনুযায়ী, ভিআইপি বা সাধারণ যেকোনো বন্দীর নিকটাত্মীয়ের মৃত্যুতে কিংবা বিশেষ কারণে নিরাপত্তা ও দূরত্বের ওপর নির্ভর করে প্যারোল অনুমোদন দেওয়া যায়। এই নীতিমালায় বন্দীকে সার্বক্ষণিক পুলিশ পাহারায় রাখা, সাধারণত ১২ ঘণ্টার মধ্যে পুনরায় কারাগারে ফিরিয়ে আনা এবং জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্যারোল মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

প্রবেশন ও প্যারোলের মধ্যেও স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। ‘প্রবেশন অব অফেন্ডারস অর্ডিন্যান্স, ১৯৬০’ এবং শিশু আইনের আওতায় আদালত বিচারিক আদেশের মাধ্যমে কোনো অপরাধীকে সংশোধনের উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্রবেশন কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে দিতে পারে, যা সম্পূর্ণ একটি বিচারিক সিদ্ধান্ত। অপরদিকে, দেশের সংবিধানের ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি ও সরকার ফৌজদারি কার্যবিধির আওতায় যেকোনো দণ্ড মওকুফ, স্থগিত, হ্রাস কিংবা সাময়িক বিলম্বন ও বিরাম মঞ্জুর করতে পারেন। সার্বিক নীতিমালার আলোকেই বর্তমানে বন্দীদের ক্ষেত্রে প্যারোলের আবেদন ও প্রশাসনিক অনুমোদন প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়।