Dhaka ০৪:৩০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রেমিট্যান্সে এলো নতুন সুবিধা

নিজস্ব প্রতিবেদক
12 / 100 SEO Score

 

প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য রেমিট্যান্স ব্যবস্থায় নতুন সুবিধা চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ‘অনিবাসী বিনিময়যোগ্য টাকা হিসাব’ চালুর মাধ্যমে প্রবাসীরা এখন দেশে পাঠানো অর্থ সহজে সঞ্চয়, বিনিয়োগ ও প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন আর্থিক কাজে ব্যবহার করতে পারবেন, পাশাপাশি অর্জিত মুনাফাসহ অর্থ বিদেশে ফেরত নেওয়ার সুযোগও পাবেন।

এ বিষয়ে মঙ্গলবার (২৩ জুন) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি ও বিনিয়োগ বিভাগ একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

নতুন ব্যবস্থার আওতায় প্রবাসী বাংলাদেশিরা ব্যাংকিং চ্যানেলে পাঠানো বৈদেশিক মুদ্রার বিপরীতে তফসিলি ব্যাংকের অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের মাধ্যমে অনিবাসী বিনিময়যোগ্য টাকা হিসাব খুলতে পারবেন। এসব হিসাব সঞ্চয়ী, চলতি কিংবা স্থায়ী আমানত (এফডিআর) আকারে পরিচালনা করা যাবে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, এসব হিসাবে ব্যাংকিং চ্যানেলে পাঠানো রেমিট্যান্স ছাড়াও অন্যান্য অনিবাসী বিনিময়যোগ্য টাকা হিসাব থেকে স্থানান্তরিত অর্থ, সুদ বা মুনাফা, অনুমোদিত বিনিয়োগ থেকে অর্জিত আয়, শেয়ার সাবস্ক্রিপশনের ফেরত এবং বৈদেশিক মুদ্রা-সংক্রান্ত অন্যান্য অনুমোদিত অর্থ জমা রাখা যাবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, হিসাবে জমাকৃত মূল অর্থ এবং এর বিপরীতে অর্জিত সুদ বা মুনাফা সম্পূর্ণভাবে বিদেশে প্রত্যাবাসনযোগ্য থাকবে। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী স্থানীয় অর্থ পরিশোধ, অন্য অনিবাসী হিসাবের মধ্যে অর্থ স্থানান্তর, বৈদেশিক মুদ্রা হিসাবে রূপান্তর এবং বাংলাদেশে বিদেশি প্রত্যক্ষ বা পোর্টফোলিও বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও এ অর্থ ব্যবহার করা যাবে।

নতুন নীতিমালার আওতায় অনিবাসী বিনিময়যোগ্য টাকা হিসাবের তহবিল ব্যবহার করে বিশেষায়িত অঞ্চলের টাইপ-এ শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে টাকায় ঋণ দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে এ ঋণ শুধুমাত্র অনুমোদিত চলতি ব্যয় যেমন বেতন-ভাতা, মজুরি ও ইউটিলিটি বিল পরিশোধে ব্যবহার করা যাবে এবং তা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের রপ্তানি আয় থেকে পরিশোধ করতে হবে।

এ ছাড়া ডমেস্টিক ব্যাংকিং ইউনিটের মাধ্যমে এ হিসাবের অর্থ জামানত রেখে প্রবাসী বাংলাদেশি বা তাদের মনোনীত ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত কিংবা ব্যবসায়িক প্রয়োজনে ঋণ নেওয়ার সুযোগ থাকবে। তবে কৃষি, প্ল্যান্টেশন এবং রিয়েল এস্টেট খাতে এ ঋণের অর্থ বিনিয়োগ করা যাবে না। একই সঙ্গে এ অর্থ অ-প্রত্যাবাসনযোগ্য বিনিয়োগ বা নিজস্ব ব্যবহারের জন্য আবাসিক সম্পত্তি কেনার ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা যাবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন এ হিসাবব্যবস্থা রেমিট্যান্সের আর্থিক মধ্যস্থতা আরও শক্তিশালী করবে, অফশোর ব্যাংকিং কার্যক্রমে গতি আনবে এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেশের বিনিয়োগ খাতে অংশগ্রহণের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে। পাশাপাশি বিশেষায়িত অঞ্চলের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য স্থানীয় মুদ্রায় তারল্য সহায়তা বাড়াতেও এটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

14 + seventeen =

About Author Information

রেমিট্যান্সে এলো নতুন সুবিধা

Update Time : ০৬:৩৯:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
12 / 100 SEO Score

 

প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য রেমিট্যান্স ব্যবস্থায় নতুন সুবিধা চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ‘অনিবাসী বিনিময়যোগ্য টাকা হিসাব’ চালুর মাধ্যমে প্রবাসীরা এখন দেশে পাঠানো অর্থ সহজে সঞ্চয়, বিনিয়োগ ও প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন আর্থিক কাজে ব্যবহার করতে পারবেন, পাশাপাশি অর্জিত মুনাফাসহ অর্থ বিদেশে ফেরত নেওয়ার সুযোগও পাবেন।

এ বিষয়ে মঙ্গলবার (২৩ জুন) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি ও বিনিয়োগ বিভাগ একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

নতুন ব্যবস্থার আওতায় প্রবাসী বাংলাদেশিরা ব্যাংকিং চ্যানেলে পাঠানো বৈদেশিক মুদ্রার বিপরীতে তফসিলি ব্যাংকের অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের মাধ্যমে অনিবাসী বিনিময়যোগ্য টাকা হিসাব খুলতে পারবেন। এসব হিসাব সঞ্চয়ী, চলতি কিংবা স্থায়ী আমানত (এফডিআর) আকারে পরিচালনা করা যাবে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, এসব হিসাবে ব্যাংকিং চ্যানেলে পাঠানো রেমিট্যান্স ছাড়াও অন্যান্য অনিবাসী বিনিময়যোগ্য টাকা হিসাব থেকে স্থানান্তরিত অর্থ, সুদ বা মুনাফা, অনুমোদিত বিনিয়োগ থেকে অর্জিত আয়, শেয়ার সাবস্ক্রিপশনের ফেরত এবং বৈদেশিক মুদ্রা-সংক্রান্ত অন্যান্য অনুমোদিত অর্থ জমা রাখা যাবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, হিসাবে জমাকৃত মূল অর্থ এবং এর বিপরীতে অর্জিত সুদ বা মুনাফা সম্পূর্ণভাবে বিদেশে প্রত্যাবাসনযোগ্য থাকবে। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী স্থানীয় অর্থ পরিশোধ, অন্য অনিবাসী হিসাবের মধ্যে অর্থ স্থানান্তর, বৈদেশিক মুদ্রা হিসাবে রূপান্তর এবং বাংলাদেশে বিদেশি প্রত্যক্ষ বা পোর্টফোলিও বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও এ অর্থ ব্যবহার করা যাবে।

নতুন নীতিমালার আওতায় অনিবাসী বিনিময়যোগ্য টাকা হিসাবের তহবিল ব্যবহার করে বিশেষায়িত অঞ্চলের টাইপ-এ শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে টাকায় ঋণ দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে এ ঋণ শুধুমাত্র অনুমোদিত চলতি ব্যয় যেমন বেতন-ভাতা, মজুরি ও ইউটিলিটি বিল পরিশোধে ব্যবহার করা যাবে এবং তা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের রপ্তানি আয় থেকে পরিশোধ করতে হবে।

এ ছাড়া ডমেস্টিক ব্যাংকিং ইউনিটের মাধ্যমে এ হিসাবের অর্থ জামানত রেখে প্রবাসী বাংলাদেশি বা তাদের মনোনীত ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত কিংবা ব্যবসায়িক প্রয়োজনে ঋণ নেওয়ার সুযোগ থাকবে। তবে কৃষি, প্ল্যান্টেশন এবং রিয়েল এস্টেট খাতে এ ঋণের অর্থ বিনিয়োগ করা যাবে না। একই সঙ্গে এ অর্থ অ-প্রত্যাবাসনযোগ্য বিনিয়োগ বা নিজস্ব ব্যবহারের জন্য আবাসিক সম্পত্তি কেনার ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা যাবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন এ হিসাবব্যবস্থা রেমিট্যান্সের আর্থিক মধ্যস্থতা আরও শক্তিশালী করবে, অফশোর ব্যাংকিং কার্যক্রমে গতি আনবে এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেশের বিনিয়োগ খাতে অংশগ্রহণের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে। পাশাপাশি বিশেষায়িত অঞ্চলের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য স্থানীয় মুদ্রায় তারল্য সহায়তা বাড়াতেও এটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।