Dhaka ০৮:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ৩০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

লিবিয়া থেকে ১৭৫ বাংলাদেশির প্রত্যাবাসন

10 / 100 SEO Score

বাংলাদেশ দূতাবাস, লিবিয়ার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সহযোগিতায় লিবিয়া থেকে ১৭৫ জন বাংলাদেশি নাগরিককে দেশে প্রত্যাবাসন করা হয়েছে। প্রত্যাবাসিত অভিবাসীরা লিবিয়ার বুরাক এয়ারের UZ222 ফ্লাইটযোগে ১ এপ্রিল ভোর ৫টায় ঢাকায় পৌঁছাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।প্রত্যাবাসিতদের মধ্যে ১১৩ জন ত্রিপলীর তাজুরা ডিটেনশন সেন্টার এবং ৬২ জন বেনগাজীর গানফুদা ডিটেনশন সেন্টারে আটক ছিলেন। এছাড়া, তাদের মধ্যে ১৪ জন অভিবাসী শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন।রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল মো. হাবীব উল্লাহ, ত্রিপলীর মেতিগা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে প্রত্যাবাসন কার্যক্রম তদারকি করেন এবং তাজুরা ডিটেনশন সেন্টার থেকে প্রত্যাবাসিতদের বিদায় জানান।রাষ্ট্রদূত প্রত্যাবাসন কার্যক্রমে সহযোগিতার জন্য লিবিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও আইওএমর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান এবং ভবিষ্যতেও এ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

প্রত্যাবাসনকালে রাষ্ট্রদূত অভিবাসীদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় অভিবাসীরা লিবিয়ায় তাদের দুঃখ-দুর্দশার কথা তুলে ধরেন। অনেক অভিবাসী অনিয়মিতভাবে লিবিয়ায় আসার পর বিভিন্ন চক্রের নিকট জিম্মি হওয়া, মুক্তিপণের জন্য শারীরিক নির্যাতনের শিকার হওয়া, খাদ্য ও পানির অভাব, চিকিৎসাহীনতা এবং দেশে তাদের জমি-জমা বিক্রির কথাও উল্লেখ করেন। অনেকে প্রায় অর্ধকোটি টাকা ব্যয়ের কথাও জানান। এ সময় এক আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। রাষ্ট্রদূত তাদের কথা মনোযোগসহকারে শোনেন এবং সান্ত্বনা দেন।রাষ্ট্রদূত তাদের দেশে ফিরে নতুন উদ্যমে জীবন শুরু করার আহ্বান জানান। তিনি সাম্প্রতিক নৌ-দুর্ঘটনার কথা উল্লেখ করে বলেন, অন্তত জীবিত অবস্থায় দেশে ফিরতে পারা তাদের জন্য সৌভাগ্য। তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে কেউ যেন এভাবে ঝুঁকিপূর্ণ পথে না আসে, সে জন্য প্রত্যাবাসিতদের নিজ নিজ এলাকায় তাদের দুঃখ-কষ্ট, দুর্বিষহ অভিজ্ঞতা ও মানবেতর জীবনযাপনের করুণ অভিজ্ঞতা তুলে ধরার অনুরোধ জানান। তিনি উল্লেখ করেন, অনিয়মিত অভিবাসন ব্যক্তি ও পরিবারের ক্ষতির পাশাপাশি সামাজিক ও জাতীয় পর্যায়ে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

এ প্রেক্ষিতে রাষ্ট্রদূত সবাইকে বৈধ ও নিরাপদ অভিবাসনের পথ অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং বিদেশে যাওয়ার পূর্বে সরকারি অনুমোদিত প্রক্রিয়া অনুসরণ, সঠিক তথ্য যাচাই এবং দালালচক্র থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেন।একইসঙ্গে তিনি প্রত্যাবাসিতদের সরকারি ও বেসরকারি পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ গ্রহণের জন্য উৎসাহিত করেন, যাতে তারা পুনরায় স্বনির্ভর জীবন গড়ে তুলতে পারেন। এছাড়া, রাষ্ট্রদূত দালালচক্রের মাধ্যমে প্রতারিত হওয়া অভিবাসীদের দেশে ফিরে প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান, যাতে ভবিষ্যতে তারা আর কাউকে এ ধরনের প্রতারণার শিকার করতে না পারে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

লিবিয়া থেকে ১৭৫ বাংলাদেশির প্রত্যাবাসন

Update Time : ০৭:১৬:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬
10 / 100 SEO Score

বাংলাদেশ দূতাবাস, লিবিয়ার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সহযোগিতায় লিবিয়া থেকে ১৭৫ জন বাংলাদেশি নাগরিককে দেশে প্রত্যাবাসন করা হয়েছে। প্রত্যাবাসিত অভিবাসীরা লিবিয়ার বুরাক এয়ারের UZ222 ফ্লাইটযোগে ১ এপ্রিল ভোর ৫টায় ঢাকায় পৌঁছাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।প্রত্যাবাসিতদের মধ্যে ১১৩ জন ত্রিপলীর তাজুরা ডিটেনশন সেন্টার এবং ৬২ জন বেনগাজীর গানফুদা ডিটেনশন সেন্টারে আটক ছিলেন। এছাড়া, তাদের মধ্যে ১৪ জন অভিবাসী শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন।রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল মো. হাবীব উল্লাহ, ত্রিপলীর মেতিগা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে প্রত্যাবাসন কার্যক্রম তদারকি করেন এবং তাজুরা ডিটেনশন সেন্টার থেকে প্রত্যাবাসিতদের বিদায় জানান।রাষ্ট্রদূত প্রত্যাবাসন কার্যক্রমে সহযোগিতার জন্য লিবিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও আইওএমর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান এবং ভবিষ্যতেও এ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

প্রত্যাবাসনকালে রাষ্ট্রদূত অভিবাসীদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় অভিবাসীরা লিবিয়ায় তাদের দুঃখ-দুর্দশার কথা তুলে ধরেন। অনেক অভিবাসী অনিয়মিতভাবে লিবিয়ায় আসার পর বিভিন্ন চক্রের নিকট জিম্মি হওয়া, মুক্তিপণের জন্য শারীরিক নির্যাতনের শিকার হওয়া, খাদ্য ও পানির অভাব, চিকিৎসাহীনতা এবং দেশে তাদের জমি-জমা বিক্রির কথাও উল্লেখ করেন। অনেকে প্রায় অর্ধকোটি টাকা ব্যয়ের কথাও জানান। এ সময় এক আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। রাষ্ট্রদূত তাদের কথা মনোযোগসহকারে শোনেন এবং সান্ত্বনা দেন।রাষ্ট্রদূত তাদের দেশে ফিরে নতুন উদ্যমে জীবন শুরু করার আহ্বান জানান। তিনি সাম্প্রতিক নৌ-দুর্ঘটনার কথা উল্লেখ করে বলেন, অন্তত জীবিত অবস্থায় দেশে ফিরতে পারা তাদের জন্য সৌভাগ্য। তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে কেউ যেন এভাবে ঝুঁকিপূর্ণ পথে না আসে, সে জন্য প্রত্যাবাসিতদের নিজ নিজ এলাকায় তাদের দুঃখ-কষ্ট, দুর্বিষহ অভিজ্ঞতা ও মানবেতর জীবনযাপনের করুণ অভিজ্ঞতা তুলে ধরার অনুরোধ জানান। তিনি উল্লেখ করেন, অনিয়মিত অভিবাসন ব্যক্তি ও পরিবারের ক্ষতির পাশাপাশি সামাজিক ও জাতীয় পর্যায়ে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

এ প্রেক্ষিতে রাষ্ট্রদূত সবাইকে বৈধ ও নিরাপদ অভিবাসনের পথ অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং বিদেশে যাওয়ার পূর্বে সরকারি অনুমোদিত প্রক্রিয়া অনুসরণ, সঠিক তথ্য যাচাই এবং দালালচক্র থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেন।একইসঙ্গে তিনি প্রত্যাবাসিতদের সরকারি ও বেসরকারি পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ গ্রহণের জন্য উৎসাহিত করেন, যাতে তারা পুনরায় স্বনির্ভর জীবন গড়ে তুলতে পারেন। এছাড়া, রাষ্ট্রদূত দালালচক্রের মাধ্যমে প্রতারিত হওয়া অভিবাসীদের দেশে ফিরে প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান, যাতে ভবিষ্যতে তারা আর কাউকে এ ধরনের প্রতারণার শিকার করতে না পারে।