Dhaka ০৫:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শহর পরিচ্ছন্ন রাখা নাগরিকদেরও দায়িত্ব: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
14 / 100 SEO Score

 

শহর পরিচ্ছন্ন রাখা শুধু সিটি করপোরেশন বা পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের দায়িত্ব নয়, নাগরিকদেরও এ বিষয়ে সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।তিনি বলেন, নগরবাসী যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলা থেকে বিরত থাকলে ঢাকা আরও পরিচ্ছন্ন, বাসযোগ্য ও সুন্দর নগরীতে পরিণত হবে।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক মানবিক সহায়তা কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে দলীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ নাগরিকদের উদ্দেশে বিশেষ আহ্বান জানিয়েছেন।

শনিবার (৩০ মে) বিকেলে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দুস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে বস্ত্র এবং শুকনো খাবার বিতরণ শেষে তিনি বলেন, সমাজের সচ্ছল ব্যক্তি ও সাধারণ নাগরিকেরা যদি যার যার অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেন, তবে দেশের মানুষের ভাগ্যের দ্রুত পরিবর্তন এবং একটি সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব।

নয়াপল্টনের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দলীয় নেতা-কর্মীদের প্রতি অসহায় মানুষের পাশে থাকার জোরালো আহ্বান জানান। দীর্ঘ দিন ধরে দলের সঙ্গে যুক্ত নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ করে তিনি বলেন, প্রতিবছরই এই বিশেষ দিনটিতে বিএনপি অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যেসব মানুষ প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে জীবনযাপন করছেন, দলের পক্ষ থেকে সাধ্যমতো তাদের সহায়তা করা হয়ে থাকে।

দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেবল প্রাতিষ্ঠানিক বা দলীয় কর্মসূচির মধ্যেই এই মানবিক কর্মকাণ্ড সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। সামর্থ্য অনুযায়ী নেতা-কর্মীদের ব্যক্তিগত উদ্যোগেও সমাজের দুস্থ ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। তিনি দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেন, বিপদে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সাহায্য করাই হলো শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মূল আদর্শ এবং শিক্ষা।

দেশ গঠনে এবং সামাজিক সুরক্ষায় সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি উপস্থিত সবার উদ্দেশে বলেন, আসুন আমরা সবাই মিলে এই দিনে নতুন করে শপথ গ্রহণ করি যে, সমাজের কোনো মানুষকে যেন একা কষ্ট পেতে না হয়।

প্রত্যেকে যার যার নিজস্ব অবস্থান ও সামর্থ্য অনুযায়ী যদি অসহায় মানুষের দিকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে পারি, তবে আজকের এই দিনে সেটাই হবে আমাদের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা এবং প্রকৃত অর্জন।

নয়াপল্টনের এই সংক্ষিপ্ত কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিএনপির শীর্ষস্থানীয় এবং অঙ্গ-সংগঠনের একঝাঁক কেন্দ্রীয় নেতা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এবং যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল।

এ ছাড়া ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু, উত্তরের আহ্বায়ক আমিনুল হক, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল আলম মিল্টন, স্বেচ্ছাসেবক দলের রাজীব আহসান এবং ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবসহ আরও অনেকে অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

নয়াপল্টনে আসার আগে প্রধানমন্ত্রী রাজধানীর খিলগাঁও এলাকার জোড়পুকুর মাঠে আয়োজিত অপর এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য দেন। সেখানে তিনি নাগরিক সচেতনতা ও ঢাকা শহরের সার্বিক পরিবেশ নিয়ে কথা বলেন। নিজের মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ তিনি নিজেই গাড়ি নিয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বেশ কয়েকটি এলাকা সরেজমিনে ঘুরে দেখেছেন।

কেবল আসন্ন কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনাই নয়, বরং বছরের অন্যান্য সময়েও শহরের সাধারণ আবর্জনা কতটুকু ও কীভাবে পরিষ্কার করা হচ্ছে, তার কঠোর তদারকি নিশ্চিত করতে হবে।

শহরের পরিবেশ রক্ষায় নাগরিকদের ভূমিকা মনে করিয়ে দিয়ে তারেক রহমান বলেন, আমরা যারা এই মেগাসিটিতে বসবাস করছি এবং যারা এই স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিক, আমাদের সবার মনে রাখতে হবে যে এই দেশ যেমন আমাদের, এই শহরটাও ঠিক তেমনই আমাদের নিজস্ব সম্পদ। এই গভীর সত্যটি কেবল মুখে বলা নয়, বরং প্রত্যেক নাগরিককে নিজের অন্তরে গভীরভাবে উপলব্ধি করতে হবে।

পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে এককভাবে কোনো প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর না করার পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সিটি করপোরেশনের নিজস্ব আইনি ও নৈতিক দায়িত্ব রয়েছে এবং তারা সেই অনুযায়ী কাজ করছে।

এমনকি নগরীর পরিচ্ছন্নতাকর্মীরাও দিনরাত কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। তবে সচেতন নাগরিক হিসেবে আমাদের নিজেদেরও কিছু বড় দায়িত্ব রয়েছে। আমাদের প্রধান চেষ্টা হতে হবে যেন আমরা এই শহরটাকে যতটা সম্ভব কম নোংরা করি। নাগরিকেরা যদি যত্রতত্র ময়লা ফেলা বন্ধ করেন, তবেই এই মহানগরিকে আরও বেশি চমৎকার ও পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব হবে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ঢাকা শহর যদি সার্বিকভাবে পরিষ্কার থাকে, তবে প্রথমত নাগরিকদের দৈনন্দিন যাতায়াত ও হাঁটাচলায় অনেক বড় সুবিধা তৈরি হবে। এর পাশাপাশি, সাধারণ মানুষের জন্য একটি বাসযোগ্য, সুন্দর ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত হবে। নাগরিকদের এই সচেতনতা রাজপথে নিরলস কাজ করে যাওয়া সাধারণ পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কাজটিকেও অনেকখানি সহজ ও নিখুঁত করতে সহায়তা করবে।

বক্তব্যের শেষ অংশে নিজের পরিবার ও দলের রাজনৈতিক দর্শনের কথা স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শাহাদাত বরণ করার পর দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে এই বিশেষ দিনে বিএনপির নেতা-কর্মীরা অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে নিজ নিজ এলাকায় দুস্থ মানুষদের জন্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে আসছেন। এটি দলের একটি দীর্ঘদিনের গৌরবময় ঐতিহ্য।

নিজের প্রয়াত পিতাকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমান সব সময় এ দেশের সুবিধাবঞ্চিত ও দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর দীক্ষা দিয়ে গেছেন। তিনি কেবল কথার রাজনীতি করেননি, বরং কাজের মাধ্যমে কীভাবে একটি স্বনির্ভর দেশ গঠন করা যায়, সেই বাস্তবমুখী প্রক্রিয়া দেশবাসীকে শিখিয়েছেন।

তাঁর গড়া রাজনৈতিক দলের দায়িত্বশীল কর্মী ও আদর্শিক সৈনিক হিসেবে আমাদের সবার উচিত নিজেদের অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা। এর পাশাপাশি, বর্তমান সরকারও দেশের মানুষের সামগ্রিক কল্যাণে বিভিন্ন সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও উন্নয়নমূলক কর্মসূচি গ্রহণ করে তা বাস্তবায়নের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন তরান্বিত করতে সমাজের বিত্তবান ও সচ্ছল ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বিশ্বাস করেন, সমাজের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী ব্যক্তিরা যদি প্রাতিষ্ঠানিক বা ব্যক্তিগত উদ্যোগে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে অবদান রাখেন, তবে অত্যন্ত দ্রুত সময়ের মধ্যে দেশের আপামর জনসাধারণের ভাগ্যের আমূল পরিবর্তন ঘটানো সম্ভব হবে।

জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস—এই রাজনৈতিক তত্ত্ব পুনর্ব্যক্ত করে তারেক রহমান বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমান এ দেশের সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের সুমহান লক্ষ্য নিয়েই রাজনীতি শুরু করেছিলেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে দেশের মানুষ আবারও দেশের উন্নয়ন ও একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার পবিত্র দায়িত্ব বিএনপির ওপর সঁপে দিয়েছেন।

তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, এই দেশের জনগণই আমাদের শক্তির মূল ভিত্তি। কাজেই, সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দেশ গঠনে জনগণের এই অকুণ্ঠ সহযোগিতা ও সমর্থন যদি আগামীতেও অব্যাহত থাকে, তবে বর্তমান সরকার অত্যন্ত দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশের সর্বস্তরের মানুষের ভাগ্যের দীর্ঘমেয়াদী পরিবর্তন নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে।

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

শহর পরিচ্ছন্ন রাখা নাগরিকদেরও দায়িত্ব: প্রধানমন্ত্রী

Update Time : ০৫:২৫:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
14 / 100 SEO Score

 

শহর পরিচ্ছন্ন রাখা শুধু সিটি করপোরেশন বা পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের দায়িত্ব নয়, নাগরিকদেরও এ বিষয়ে সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।তিনি বলেন, নগরবাসী যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলা থেকে বিরত থাকলে ঢাকা আরও পরিচ্ছন্ন, বাসযোগ্য ও সুন্দর নগরীতে পরিণত হবে।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক মানবিক সহায়তা কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে দলীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ নাগরিকদের উদ্দেশে বিশেষ আহ্বান জানিয়েছেন।

শনিবার (৩০ মে) বিকেলে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দুস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে বস্ত্র এবং শুকনো খাবার বিতরণ শেষে তিনি বলেন, সমাজের সচ্ছল ব্যক্তি ও সাধারণ নাগরিকেরা যদি যার যার অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেন, তবে দেশের মানুষের ভাগ্যের দ্রুত পরিবর্তন এবং একটি সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব।

নয়াপল্টনের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দলীয় নেতা-কর্মীদের প্রতি অসহায় মানুষের পাশে থাকার জোরালো আহ্বান জানান। দীর্ঘ দিন ধরে দলের সঙ্গে যুক্ত নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ করে তিনি বলেন, প্রতিবছরই এই বিশেষ দিনটিতে বিএনপি অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যেসব মানুষ প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে জীবনযাপন করছেন, দলের পক্ষ থেকে সাধ্যমতো তাদের সহায়তা করা হয়ে থাকে।

দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেবল প্রাতিষ্ঠানিক বা দলীয় কর্মসূচির মধ্যেই এই মানবিক কর্মকাণ্ড সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। সামর্থ্য অনুযায়ী নেতা-কর্মীদের ব্যক্তিগত উদ্যোগেও সমাজের দুস্থ ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। তিনি দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেন, বিপদে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সাহায্য করাই হলো শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মূল আদর্শ এবং শিক্ষা।

দেশ গঠনে এবং সামাজিক সুরক্ষায় সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি উপস্থিত সবার উদ্দেশে বলেন, আসুন আমরা সবাই মিলে এই দিনে নতুন করে শপথ গ্রহণ করি যে, সমাজের কোনো মানুষকে যেন একা কষ্ট পেতে না হয়।

প্রত্যেকে যার যার নিজস্ব অবস্থান ও সামর্থ্য অনুযায়ী যদি অসহায় মানুষের দিকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে পারি, তবে আজকের এই দিনে সেটাই হবে আমাদের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা এবং প্রকৃত অর্জন।

নয়াপল্টনের এই সংক্ষিপ্ত কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিএনপির শীর্ষস্থানীয় এবং অঙ্গ-সংগঠনের একঝাঁক কেন্দ্রীয় নেতা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এবং যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল।

এ ছাড়া ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু, উত্তরের আহ্বায়ক আমিনুল হক, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল আলম মিল্টন, স্বেচ্ছাসেবক দলের রাজীব আহসান এবং ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবসহ আরও অনেকে অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

নয়াপল্টনে আসার আগে প্রধানমন্ত্রী রাজধানীর খিলগাঁও এলাকার জোড়পুকুর মাঠে আয়োজিত অপর এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য দেন। সেখানে তিনি নাগরিক সচেতনতা ও ঢাকা শহরের সার্বিক পরিবেশ নিয়ে কথা বলেন। নিজের মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ তিনি নিজেই গাড়ি নিয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বেশ কয়েকটি এলাকা সরেজমিনে ঘুরে দেখেছেন।

কেবল আসন্ন কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনাই নয়, বরং বছরের অন্যান্য সময়েও শহরের সাধারণ আবর্জনা কতটুকু ও কীভাবে পরিষ্কার করা হচ্ছে, তার কঠোর তদারকি নিশ্চিত করতে হবে।

শহরের পরিবেশ রক্ষায় নাগরিকদের ভূমিকা মনে করিয়ে দিয়ে তারেক রহমান বলেন, আমরা যারা এই মেগাসিটিতে বসবাস করছি এবং যারা এই স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিক, আমাদের সবার মনে রাখতে হবে যে এই দেশ যেমন আমাদের, এই শহরটাও ঠিক তেমনই আমাদের নিজস্ব সম্পদ। এই গভীর সত্যটি কেবল মুখে বলা নয়, বরং প্রত্যেক নাগরিককে নিজের অন্তরে গভীরভাবে উপলব্ধি করতে হবে।

পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে এককভাবে কোনো প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর না করার পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সিটি করপোরেশনের নিজস্ব আইনি ও নৈতিক দায়িত্ব রয়েছে এবং তারা সেই অনুযায়ী কাজ করছে।

এমনকি নগরীর পরিচ্ছন্নতাকর্মীরাও দিনরাত কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। তবে সচেতন নাগরিক হিসেবে আমাদের নিজেদেরও কিছু বড় দায়িত্ব রয়েছে। আমাদের প্রধান চেষ্টা হতে হবে যেন আমরা এই শহরটাকে যতটা সম্ভব কম নোংরা করি। নাগরিকেরা যদি যত্রতত্র ময়লা ফেলা বন্ধ করেন, তবেই এই মহানগরিকে আরও বেশি চমৎকার ও পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব হবে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ঢাকা শহর যদি সার্বিকভাবে পরিষ্কার থাকে, তবে প্রথমত নাগরিকদের দৈনন্দিন যাতায়াত ও হাঁটাচলায় অনেক বড় সুবিধা তৈরি হবে। এর পাশাপাশি, সাধারণ মানুষের জন্য একটি বাসযোগ্য, সুন্দর ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত হবে। নাগরিকদের এই সচেতনতা রাজপথে নিরলস কাজ করে যাওয়া সাধারণ পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কাজটিকেও অনেকখানি সহজ ও নিখুঁত করতে সহায়তা করবে।

বক্তব্যের শেষ অংশে নিজের পরিবার ও দলের রাজনৈতিক দর্শনের কথা স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শাহাদাত বরণ করার পর দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে এই বিশেষ দিনে বিএনপির নেতা-কর্মীরা অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে নিজ নিজ এলাকায় দুস্থ মানুষদের জন্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে আসছেন। এটি দলের একটি দীর্ঘদিনের গৌরবময় ঐতিহ্য।

নিজের প্রয়াত পিতাকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমান সব সময় এ দেশের সুবিধাবঞ্চিত ও দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর দীক্ষা দিয়ে গেছেন। তিনি কেবল কথার রাজনীতি করেননি, বরং কাজের মাধ্যমে কীভাবে একটি স্বনির্ভর দেশ গঠন করা যায়, সেই বাস্তবমুখী প্রক্রিয়া দেশবাসীকে শিখিয়েছেন।

তাঁর গড়া রাজনৈতিক দলের দায়িত্বশীল কর্মী ও আদর্শিক সৈনিক হিসেবে আমাদের সবার উচিত নিজেদের অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা। এর পাশাপাশি, বর্তমান সরকারও দেশের মানুষের সামগ্রিক কল্যাণে বিভিন্ন সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও উন্নয়নমূলক কর্মসূচি গ্রহণ করে তা বাস্তবায়নের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন তরান্বিত করতে সমাজের বিত্তবান ও সচ্ছল ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বিশ্বাস করেন, সমাজের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী ব্যক্তিরা যদি প্রাতিষ্ঠানিক বা ব্যক্তিগত উদ্যোগে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে অবদান রাখেন, তবে অত্যন্ত দ্রুত সময়ের মধ্যে দেশের আপামর জনসাধারণের ভাগ্যের আমূল পরিবর্তন ঘটানো সম্ভব হবে।

জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস—এই রাজনৈতিক তত্ত্ব পুনর্ব্যক্ত করে তারেক রহমান বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমান এ দেশের সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের সুমহান লক্ষ্য নিয়েই রাজনীতি শুরু করেছিলেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে দেশের মানুষ আবারও দেশের উন্নয়ন ও একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার পবিত্র দায়িত্ব বিএনপির ওপর সঁপে দিয়েছেন।

তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, এই দেশের জনগণই আমাদের শক্তির মূল ভিত্তি। কাজেই, সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দেশ গঠনে জনগণের এই অকুণ্ঠ সহযোগিতা ও সমর্থন যদি আগামীতেও অব্যাহত থাকে, তবে বর্তমান সরকার অত্যন্ত দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশের সর্বস্তরের মানুষের ভাগ্যের দীর্ঘমেয়াদী পরিবর্তন নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে।