Dhaka ০৫:৩৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিল্পাঞ্চলে গ্যাস সরবরাহে ফিরেছে স্বস্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক
8 / 100 SEO Score

 

সাভার ও আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চলে গ্যাসের চাপ কিছুটা বাড়ায় কারখানাগুলোতে ফিরতে শুরু করেছে স্বাভাবিক উৎপাদনের গতি। গ্যাস সংকটে দীর্ঘদিন বন্ধ বা সীমিত থাকা বয়লার ও ভারী যন্ত্রপাতি সচল হওয়ায় শ্রমিকদের কর্মব্যস্ততাও বেড়েছে। ফলে জমে থাকা অর্ডারের কাজ দ্রুত শেষ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন শিল্পের শ্রমিকরা।

এসব কারখানার সিংহভাগই তৈরি পোশাক খাতের। এখানে কাজ করেন প্রায় সাড়ে সাত থেকে আট লাখ শ্রমিক। গত কয়েক মাসে গ্যাস ও জ্বালানি সংকটে এসব কারখানার উৎপাদনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে।

উদ্যোক্তারা বলছেন, একটি কারখানায় গড়ে ১০ পিএসআই গ্যাসের চাপ প্রয়োজন। সেখানে এতদিন মাত্র এক থেকে দেড় পিএসআই পাওয়া গেছে। ফলে বন্ধ ছিল বয়লার ও ডাইং ইউনিট। উৎপাদন চালু রাখতে জেনারেটর ব্যবহার করতে গিয়ে বেড়েছে খরচ। কিন্তু গত কয়েকদিনে গ্যাস সরবরাহে কিছুটা উন্নতি হয়েছে। সরকারি সিদ্ধান্তে কোনো কোনো এলাকায় গ্যাসের চাপ ৩ থেকে বেড়ে ৫ পিএসআই পর্যন্ত উঠেছে। এতে কিছুটা স্বাভাবিক পর্যায়ে এসেছে উৎপাদন।

নরসিংহপুরের আল মুসলিম গ্রুপের এজিএম (অ্যাডমিন) সেন্টু তালুকদার জানান, আগের তুলনায় গ্যাসের চাপ কিছুটা বেড়েছে। তবে প্রয়োজনের তুলনায় তা এখনো কম। ধীরে ধীরে এ পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা তার।

ফাউন্টেন গার্মেন্টস লিমিটেডের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আশিক জানান, গ্যাসের চাপ বাড়ায় কারখানার বয়লার ও ভারী যন্ত্রপাতি এখন আগের তুলনায় স্বাভাবিকভাবে চালানো যাচ্ছে। ফলে শ্রমিকদের অলস সময় কাটানোর পরিস্থিতিও কমেছে। দীর্ঘদিন উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় কারখানাগুলোয় জমে থাকা বা বকেয়া অর্ডারের কাজ শেষ করতে এখন জোর দেয়া হচ্ছে।

শিল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, জ্বালানি সরবরাহের এ উন্নতি অব্যাহত থাকলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের সক্ষমতা ধরে রাখা সম্ভব হবে। তবে সাম্প্রতিক উৎপাদন ঘাটতি ও আর্থিক ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে উদ্যোক্তাদের আর্থিক সহায়তাও প্রয়োজন।

তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর (গাজীপুর) ইঞ্জিনিয়ার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, আগের থেকে গ্যাসের চাপ বাড়ায় পরিস্থিতিরও উন্নতি হচ্ছে। তবে সব এলাকায় একই সময়ে গ্যাসের চাপ বাড়ে না। অঞ্চলভেদে ধাপে ধাপে সরবরাহ বাড়ানো হয়। যখন আমাদের চাহিদামতো গ্যাস পাব, তখন সব অঞ্চলে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিকভাবে দিতে পারব।

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

17 − four =

About Author Information

শিল্পাঞ্চলে গ্যাস সরবরাহে ফিরেছে স্বস্তি

Update Time : ০৬:৩৩:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬
8 / 100 SEO Score

 

সাভার ও আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চলে গ্যাসের চাপ কিছুটা বাড়ায় কারখানাগুলোতে ফিরতে শুরু করেছে স্বাভাবিক উৎপাদনের গতি। গ্যাস সংকটে দীর্ঘদিন বন্ধ বা সীমিত থাকা বয়লার ও ভারী যন্ত্রপাতি সচল হওয়ায় শ্রমিকদের কর্মব্যস্ততাও বেড়েছে। ফলে জমে থাকা অর্ডারের কাজ দ্রুত শেষ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন শিল্পের শ্রমিকরা।

এসব কারখানার সিংহভাগই তৈরি পোশাক খাতের। এখানে কাজ করেন প্রায় সাড়ে সাত থেকে আট লাখ শ্রমিক। গত কয়েক মাসে গ্যাস ও জ্বালানি সংকটে এসব কারখানার উৎপাদনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে।

উদ্যোক্তারা বলছেন, একটি কারখানায় গড়ে ১০ পিএসআই গ্যাসের চাপ প্রয়োজন। সেখানে এতদিন মাত্র এক থেকে দেড় পিএসআই পাওয়া গেছে। ফলে বন্ধ ছিল বয়লার ও ডাইং ইউনিট। উৎপাদন চালু রাখতে জেনারেটর ব্যবহার করতে গিয়ে বেড়েছে খরচ। কিন্তু গত কয়েকদিনে গ্যাস সরবরাহে কিছুটা উন্নতি হয়েছে। সরকারি সিদ্ধান্তে কোনো কোনো এলাকায় গ্যাসের চাপ ৩ থেকে বেড়ে ৫ পিএসআই পর্যন্ত উঠেছে। এতে কিছুটা স্বাভাবিক পর্যায়ে এসেছে উৎপাদন।

নরসিংহপুরের আল মুসলিম গ্রুপের এজিএম (অ্যাডমিন) সেন্টু তালুকদার জানান, আগের তুলনায় গ্যাসের চাপ কিছুটা বেড়েছে। তবে প্রয়োজনের তুলনায় তা এখনো কম। ধীরে ধীরে এ পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা তার।

ফাউন্টেন গার্মেন্টস লিমিটেডের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আশিক জানান, গ্যাসের চাপ বাড়ায় কারখানার বয়লার ও ভারী যন্ত্রপাতি এখন আগের তুলনায় স্বাভাবিকভাবে চালানো যাচ্ছে। ফলে শ্রমিকদের অলস সময় কাটানোর পরিস্থিতিও কমেছে। দীর্ঘদিন উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় কারখানাগুলোয় জমে থাকা বা বকেয়া অর্ডারের কাজ শেষ করতে এখন জোর দেয়া হচ্ছে।

শিল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, জ্বালানি সরবরাহের এ উন্নতি অব্যাহত থাকলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের সক্ষমতা ধরে রাখা সম্ভব হবে। তবে সাম্প্রতিক উৎপাদন ঘাটতি ও আর্থিক ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে উদ্যোক্তাদের আর্থিক সহায়তাও প্রয়োজন।

তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর (গাজীপুর) ইঞ্জিনিয়ার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, আগের থেকে গ্যাসের চাপ বাড়ায় পরিস্থিতিরও উন্নতি হচ্ছে। তবে সব এলাকায় একই সময়ে গ্যাসের চাপ বাড়ে না। অঞ্চলভেদে ধাপে ধাপে সরবরাহ বাড়ানো হয়। যখন আমাদের চাহিদামতো গ্যাস পাব, তখন সব অঞ্চলে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিকভাবে দিতে পারব।