Dhaka ০৩:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শুক্রবার দেশব্যাপী আন্দোলনের ডাক সিজেপির

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক
12 / 100 SEO Score

 

ভারতে চলমান শিক্ষার্থী আন্দোলনের মধ্যে শুক্রবার দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। পুলিশি সহিংসতার শিকার মানুষদের প্রতি সংহতি জানাতে এবং শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে সংগঠনটি দেশজুড়ে এই কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীসহ সাধারণ জনগণকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

এক্সে দেওয়া পোস্টে বিক্ষোভের আয়োজকদের উদ্দেশে সিজেপি বলেছে, ‘‘পুরো সমাবেশের সামনে শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো উচ্চস্বরে পড়ে শোনান। অনুমতি ও আনুষঙ্গিক বিষয়গুলোর জন্য ছাত্র সংগঠন ও অন্যান্য সংগঠনগুলোকে পারস্পরিক সহযোগিতা ও একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’’

এর আগে, বৃহস্পতিবার সকালের দিকে দেশটির আলোচিত এই আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে বলেছেন, তীব্র জ্বর ও শরীর ব্যথার কারণে যন্তর মন্তরের বিক্ষোভস্থল থেকে তাকে কয়েক ঘণ্টার জন্য দূরে থাকতে হচ্ছে।

সিজেপির এই নেতা বলছেন, ‘‘গত কয়েক দিন ধরেই জ্বর ও প্রচণ্ড শারীরিক যন্ত্রণা সহ্য করে ব্যথার ওষুধ খেয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলাম। আজ যন্তর মন্তরে আমাকে না পেলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। শরীর সুস্থ করতে কয়েক ঘণ্টা বিশ্রামের জরুরি প্রয়োজন। সন্ধ্যার মধ্যেই আবারও আন্দোলনের মাঠে ফিরে আসব।’’

• সরকারের আলোচনার প্রস্তাবে সাড়া নেই সিজেপির
দেশটির কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং বলেছেন, আলোচনার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার চারবার সিজেপির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও কোনও সাড়া মেলেনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার দরজা সরকারের পক্ষ থেকে সব সময় খোলা রয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা চার চারবার তাদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেছি, কিন্তু কোনো উত্তর পাইনি। আন্দোলনকারীরা চাইলে আলোচনার জন্য জে পি নাড্ডার বাসভবন কিংবা কার্যালয়ে আসতে পারেন।

• প্রশ্ন ফাঁসকারীদের কড়া শাস্তির হুঁশিয়ারি মোদির
এর আগে, একই দিন সকালে প্রথমবারের মতো প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িতদের কঠোর ও দ্রুততম শাস্তির আশ্বাস দেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, আমাদের তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলার চেষ্টা করা কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে তিনি বলেন, প্রশ্ন ফাঁসে জড়িত অপরাধীদের দ্রুত সাজা নিশ্চিত করতে আমরা দ্রুত বিচার আদালত গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ বিষয়ে দ্রুত ও কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

দেশটির প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণার পরপরই শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অবিলম্বে বরখাস্ত করার দাবি নতুন করে স্মরণ করিয়ে দেয় সিজেপি। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে শিক্ষামন্ত্রীকে খোঁচা দিতেও ছাড়েননি সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে।

• মোদির প্রতিশ্রুতিকে ‘ভণ্ডামি’ আখ্যা কংগ্রেসের
ভারতের এই প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার কড়া সমালোচনা করে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী মোদিই আসলে দেশের তরুণদের ভবিষ্যতের সবচেয়ে বড় ক্ষতি করেছেন।

শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং গত ২০ জুলাই আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি হামলার ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিসহ ৩ দফা দাবি তুলে ধরেন তিনি।

রাহুল গান্ধী বলেন, ‘‘আমাদের তরুণদের ভবিষ্যৎ ধ্বংসের প্রধান কারিগর আপনি নিজেই। আপনার আমলেই গোটা শিক্ষাব্যবস্থাকে দখল ও পঙ্গু করে দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এর পেছনে থাকা প্রতিটি অপরাধীকে আপনিই সুরক্ষা দিয়েছেন।’’

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবি অত্যন্ত পরিষ্কার : ১. ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অবিলম্বে বরখাস্ত করতে হবে, ২. সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে এবং ৩. আন্দোলনকারীদের ওপর হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।

সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

7 − six =

About Author Information

শুক্রবার দেশব্যাপী আন্দোলনের ডাক সিজেপির

Update Time : ০১:৩৩:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
12 / 100 SEO Score

 

ভারতে চলমান শিক্ষার্থী আন্দোলনের মধ্যে শুক্রবার দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। পুলিশি সহিংসতার শিকার মানুষদের প্রতি সংহতি জানাতে এবং শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে সংগঠনটি দেশজুড়ে এই কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীসহ সাধারণ জনগণকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

এক্সে দেওয়া পোস্টে বিক্ষোভের আয়োজকদের উদ্দেশে সিজেপি বলেছে, ‘‘পুরো সমাবেশের সামনে শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো উচ্চস্বরে পড়ে শোনান। অনুমতি ও আনুষঙ্গিক বিষয়গুলোর জন্য ছাত্র সংগঠন ও অন্যান্য সংগঠনগুলোকে পারস্পরিক সহযোগিতা ও একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’’

এর আগে, বৃহস্পতিবার সকালের দিকে দেশটির আলোচিত এই আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে বলেছেন, তীব্র জ্বর ও শরীর ব্যথার কারণে যন্তর মন্তরের বিক্ষোভস্থল থেকে তাকে কয়েক ঘণ্টার জন্য দূরে থাকতে হচ্ছে।

সিজেপির এই নেতা বলছেন, ‘‘গত কয়েক দিন ধরেই জ্বর ও প্রচণ্ড শারীরিক যন্ত্রণা সহ্য করে ব্যথার ওষুধ খেয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলাম। আজ যন্তর মন্তরে আমাকে না পেলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। শরীর সুস্থ করতে কয়েক ঘণ্টা বিশ্রামের জরুরি প্রয়োজন। সন্ধ্যার মধ্যেই আবারও আন্দোলনের মাঠে ফিরে আসব।’’

• সরকারের আলোচনার প্রস্তাবে সাড়া নেই সিজেপির
দেশটির কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং বলেছেন, আলোচনার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার চারবার সিজেপির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও কোনও সাড়া মেলেনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার দরজা সরকারের পক্ষ থেকে সব সময় খোলা রয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা চার চারবার তাদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেছি, কিন্তু কোনো উত্তর পাইনি। আন্দোলনকারীরা চাইলে আলোচনার জন্য জে পি নাড্ডার বাসভবন কিংবা কার্যালয়ে আসতে পারেন।

• প্রশ্ন ফাঁসকারীদের কড়া শাস্তির হুঁশিয়ারি মোদির
এর আগে, একই দিন সকালে প্রথমবারের মতো প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িতদের কঠোর ও দ্রুততম শাস্তির আশ্বাস দেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, আমাদের তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলার চেষ্টা করা কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে তিনি বলেন, প্রশ্ন ফাঁসে জড়িত অপরাধীদের দ্রুত সাজা নিশ্চিত করতে আমরা দ্রুত বিচার আদালত গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ বিষয়ে দ্রুত ও কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

দেশটির প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণার পরপরই শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অবিলম্বে বরখাস্ত করার দাবি নতুন করে স্মরণ করিয়ে দেয় সিজেপি। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে শিক্ষামন্ত্রীকে খোঁচা দিতেও ছাড়েননি সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে।

• মোদির প্রতিশ্রুতিকে ‘ভণ্ডামি’ আখ্যা কংগ্রেসের
ভারতের এই প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার কড়া সমালোচনা করে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী মোদিই আসলে দেশের তরুণদের ভবিষ্যতের সবচেয়ে বড় ক্ষতি করেছেন।

শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং গত ২০ জুলাই আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি হামলার ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিসহ ৩ দফা দাবি তুলে ধরেন তিনি।

রাহুল গান্ধী বলেন, ‘‘আমাদের তরুণদের ভবিষ্যৎ ধ্বংসের প্রধান কারিগর আপনি নিজেই। আপনার আমলেই গোটা শিক্ষাব্যবস্থাকে দখল ও পঙ্গু করে দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এর পেছনে থাকা প্রতিটি অপরাধীকে আপনিই সুরক্ষা দিয়েছেন।’’

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবি অত্যন্ত পরিষ্কার : ১. ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অবিলম্বে বরখাস্ত করতে হবে, ২. সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে এবং ৩. আন্দোলনকারীদের ওপর হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।

সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।