Dhaka ০৮:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শুধু মনে মনে তালাক ভাবলেই কি তালাক হয়ে যায়?

8 / 100 SEO Score

 

প্রশ্ন: স্ত্রীর কোনো কথা বা কাজে ক্ষুব্ধ হয়ে আমি যদি মনে মনে তার উদ্দেশ্যে তালাক বলি, তাহলে কি আমার স্ত্রী তালাক হয়ে যাবে?

উত্তর: মনে মনে ‘তালাক’ বললে তালাক হয় না। তাই স্ত্রীর কোনো কাজে ক্ষুব্ধ হয়ে মনে মনে তালাক বলে থাকলে তালাক হয়নি।

তবে আপনি যদি মুখে ‘তালাক’ উচ্চারণ করেন, তাহলে তালাক হয়ে যাবে। একা একা নির্জনে স্ত্রীকে বা অন্য কাউকে না শুনিয়ে ‘তালাক’ বললেও তালাক হয়ে যায়। রাগের মাথায়, ঠাট্টা করে বা তালাক দেওয়ার নিয়ত ছাড়া ‘তালাক’ বললেও তালাক হয়ে যায়। আবু হোরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত রাসুল (সা.) বলেছেন, তিন বিষয়ে ঠাট্টাচ্ছলে কিছু বললেও তা যথার্থভাবে বলা কথার মতোই ধর্তব্য হয়; বিয়ে, তালাক ও তালাক প্রত্যাহার। (সুনানে আবু দাউদ, সুনানে তিরমিজি)

তালাক শব্দের অর্থ বিচ্ছিন্ন করা, ত্যাগ করা ইত্যাদি। ইসলাম ধর্মে বিবাহ বিচ্ছেদকে তালাক বলা হয়। ইসলামে তালাক নিকৃষ্ট কাজ হলেও বৈধ। হাদিসে তালাককে সর্বনিকৃষ্ট বৈধ কাজ বলা হয়েছে। স্বামী স্ত্রীর যদি নিজেদের মধ্যে সুসম্পর্ক না থাকে, মিলে মিশে স্বামী স্ত্রী হিসেবে শান্তিপূর্ণ ও মাধুর্যমণ্ডিত জীবন যাপন একেবারেই অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়, তখন সমাধান হিসেবে তালাকের কথা চিন্তা করা যায়।

মেসেজে ‘তালাক’ লিখে পাঠালে কি তা কার্যকর হবে?
একবার বা দুবার তালাক দেওয়ার পর ইদ্দতের মধ্যে স্বামী চাইলে স্ত্রীকে আবার ফিরিয়ে নিতে পারে, কিন্তু তৃতীয় তালাকের পর ফিরিয়ে নেওয়ার আর সুযোগ থাকে না। আল্লাহর কোরআনে বলেছেন, তালাক দুবার; তারপর স্ত্রীকে ভালোভাবে রাখবে অথবা সুন্দরভাবে ছেড়ে দেবে। (সুরা বাকারা: ২২৯)

পরের আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, যদি সে তাকে আবার তালাক দেয়, তাহলে সে তার জন্য আর হালাল হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত ভিন্ন একজন স্বামী গ্রহণ না করে। তারপর ওই স্বামী যদি তাকে তালাক দেয়, তবে উভয়ের পুনরায় মিলিত হওয়াতে গুনাহ নেই, যদি উভয়ের আস্থা জন্মে যে উভয়ে আল্লাহর আইনসমূহ ঠিক রাখতে পারবে। (সুরা বাকারা: ২৩০)

অর্থাৎ তিন তালাক দিয়ে ফেললে স্ত্রী ওই স্বামীর বিবাহবন্ধন থেকে সম্পূর্ণরূপে বের হয়ে যায়। নতুনভাবে বিয়েও নিষিদ্ধ হয়ে যায়। যদি কখনও ওই নারী অন্য কাউকে বিয়ে করে এবং পরবর্তীতে স্বাভাবিকভাবে তার নতুন স্বামীর মৃত্যু হয় বা তাদের বিয়ে বিচ্ছেদ হয়, তাহলে নারীর সম্মতিক্রমে নতুন মোহর ও আকদে পুরনো স্বামীর সাথে আবার তার বিয়ে হতে পারে। মানে তৃতীয় তালাকের পর তাদের পুনঃসম্পর্ক প্রায় অসম্ভব হয়ে যায়।

তাই স্ত্রীর সাথে কোনো ঝগড়া বা মনোমালিন্য হলে রাগের মাথায় ‘তালাক’ শব্দ উচ্চারণ করা বা তালাক দেওয়ার নিয়তে কিছু বলার ব্যাপারে স্বামীদের সাবধান থাকা কর্তব্য।

 

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

six − 6 =

About Author Information

শুধু মনে মনে তালাক ভাবলেই কি তালাক হয়ে যায়?

Update Time : ০৮:৩৯:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
8 / 100 SEO Score

 

প্রশ্ন: স্ত্রীর কোনো কথা বা কাজে ক্ষুব্ধ হয়ে আমি যদি মনে মনে তার উদ্দেশ্যে তালাক বলি, তাহলে কি আমার স্ত্রী তালাক হয়ে যাবে?

উত্তর: মনে মনে ‘তালাক’ বললে তালাক হয় না। তাই স্ত্রীর কোনো কাজে ক্ষুব্ধ হয়ে মনে মনে তালাক বলে থাকলে তালাক হয়নি।

তবে আপনি যদি মুখে ‘তালাক’ উচ্চারণ করেন, তাহলে তালাক হয়ে যাবে। একা একা নির্জনে স্ত্রীকে বা অন্য কাউকে না শুনিয়ে ‘তালাক’ বললেও তালাক হয়ে যায়। রাগের মাথায়, ঠাট্টা করে বা তালাক দেওয়ার নিয়ত ছাড়া ‘তালাক’ বললেও তালাক হয়ে যায়। আবু হোরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত রাসুল (সা.) বলেছেন, তিন বিষয়ে ঠাট্টাচ্ছলে কিছু বললেও তা যথার্থভাবে বলা কথার মতোই ধর্তব্য হয়; বিয়ে, তালাক ও তালাক প্রত্যাহার। (সুনানে আবু দাউদ, সুনানে তিরমিজি)

তালাক শব্দের অর্থ বিচ্ছিন্ন করা, ত্যাগ করা ইত্যাদি। ইসলাম ধর্মে বিবাহ বিচ্ছেদকে তালাক বলা হয়। ইসলামে তালাক নিকৃষ্ট কাজ হলেও বৈধ। হাদিসে তালাককে সর্বনিকৃষ্ট বৈধ কাজ বলা হয়েছে। স্বামী স্ত্রীর যদি নিজেদের মধ্যে সুসম্পর্ক না থাকে, মিলে মিশে স্বামী স্ত্রী হিসেবে শান্তিপূর্ণ ও মাধুর্যমণ্ডিত জীবন যাপন একেবারেই অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়, তখন সমাধান হিসেবে তালাকের কথা চিন্তা করা যায়।

মেসেজে ‘তালাক’ লিখে পাঠালে কি তা কার্যকর হবে?
একবার বা দুবার তালাক দেওয়ার পর ইদ্দতের মধ্যে স্বামী চাইলে স্ত্রীকে আবার ফিরিয়ে নিতে পারে, কিন্তু তৃতীয় তালাকের পর ফিরিয়ে নেওয়ার আর সুযোগ থাকে না। আল্লাহর কোরআনে বলেছেন, তালাক দুবার; তারপর স্ত্রীকে ভালোভাবে রাখবে অথবা সুন্দরভাবে ছেড়ে দেবে। (সুরা বাকারা: ২২৯)

পরের আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, যদি সে তাকে আবার তালাক দেয়, তাহলে সে তার জন্য আর হালাল হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত ভিন্ন একজন স্বামী গ্রহণ না করে। তারপর ওই স্বামী যদি তাকে তালাক দেয়, তবে উভয়ের পুনরায় মিলিত হওয়াতে গুনাহ নেই, যদি উভয়ের আস্থা জন্মে যে উভয়ে আল্লাহর আইনসমূহ ঠিক রাখতে পারবে। (সুরা বাকারা: ২৩০)

অর্থাৎ তিন তালাক দিয়ে ফেললে স্ত্রী ওই স্বামীর বিবাহবন্ধন থেকে সম্পূর্ণরূপে বের হয়ে যায়। নতুনভাবে বিয়েও নিষিদ্ধ হয়ে যায়। যদি কখনও ওই নারী অন্য কাউকে বিয়ে করে এবং পরবর্তীতে স্বাভাবিকভাবে তার নতুন স্বামীর মৃত্যু হয় বা তাদের বিয়ে বিচ্ছেদ হয়, তাহলে নারীর সম্মতিক্রমে নতুন মোহর ও আকদে পুরনো স্বামীর সাথে আবার তার বিয়ে হতে পারে। মানে তৃতীয় তালাকের পর তাদের পুনঃসম্পর্ক প্রায় অসম্ভব হয়ে যায়।

তাই স্ত্রীর সাথে কোনো ঝগড়া বা মনোমালিন্য হলে রাগের মাথায় ‘তালাক’ শব্দ উচ্চারণ করা বা তালাক দেওয়ার নিয়তে কিছু বলার ব্যাপারে স্বামীদের সাবধান থাকা কর্তব্য।