Dhaka ০৬:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সংসদে পোশাক নিয়ে মন্তব্য, আপত্তিকর অংশ এক্সপাঞ্জ

নিজস্ব প্রতিবেদক
12 / 100 SEO Score

 

জামায়াতে ইসলামীর নারী সংসদ সদস্যদের পোশাক নিয়ে কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর মন্তব্যের ঘটনায় জাতীয় সংসদে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে একপর্যায়ে স্পিকার তার বক্তব্যের আপত্তিকর অংশ কার্যবিবরণী থেকে এক্সপাঞ্জ করেন এবং তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে সব সংসদ সদস্যকে সংসদের মর্যাদা রক্ষার আহ্বান জানান।

রোববার (১৪ জুন) বাজেট অধিবেশনের আলোচনার সময় এ ঘটনা ঘটে।অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।

অধিবেশনে মনিরুল হক চৌধুরী জামায়াতে ইসলামীর কঠোর সমালোচনা করে ২০০৪ সালের একটি পারিবারিক দাওয়াতের গল্প টেনে আনেন। তিনি নারী সংসদ সদস্যদের ইঙ্গিত করে তাদের পোশাক ও পর্দা নিয়ে মন্তব্য করেন।

তার মুখে এমন কথা শোনার সঙ্গে সঙ্গেই বিরোধীদলের সংসদ সদস্যরা আসন ছেড়ে দাঁড়িয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানান ও চিৎকার শুরু করেন। পুরো অধিবেশন কক্ষজুড়ে শুরু হয় চরম হট্টগোল। স্পিকার বারবার সংসদ সদস্যদের শান্ত হওয়ার অনুরোধ জানালেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

মনিরুল হক চৌধুরীর এমন মন্তব্যে স্পিকার তাকে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা নিয়ে কথা না বলার জন্য কঠোরভাবে সতর্ক করেন। স্পিকার অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, আমরা সবাই জনগণের ভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্য। আমরা যদি নিজেদের ডিসেন্সি এবং ডিগনিটি ধরে রাখতে না পারি, তবে দেশের মানুষের কাছে আমাদের লজ্জিত হতে হবে। এই মহান সংসদ কোনো ব্যক্তিগত আক্রমণ বা কারও ব্যক্তিগত স্বাধীনতা নিয়ে কথা বলার চারণক্ষেত্র নয়।

তীব্র সমালোচনার মুখে মনিরুল হক চৌধুরী সংসদে দুঃখ প্রকাশ করতে বাধ্য হন এবং তার কোনো শব্দে কারও আত্মসম্মানে আঘাত লেগে থাকলে তা এক্সপাঞ্জ করার অনুরোধ জানান।

এদিকে নারী এমপিদের পোশাকের প্রতি ইঙ্গিত করে কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর দেওয়া বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন সংসদের বিরোধীদলীয় হুইপ নাহিদ ইসলাম।

সংসদে নাহিদ দাবি করেন, এমপি মনিরুল বিরোধীদলীয় উপনেতার স্ত্রীকে কটাক্ষ এবং নারী সংসদ সদস্যদের পোশাক ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে আপত্তিকর বক্তব্য দিয়েছেন। এ ধরনের বক্তব্যকে ‘অমার্জনীয় অপরাধ’ ও ‘বর্ণবাদী আচরণ’ আখ্যা দিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন নাহিদ।

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সংসদে পোশাক নিয়ে মন্তব্য, আপত্তিকর অংশ এক্সপাঞ্জ

Update Time : ০৬:৪১:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
12 / 100 SEO Score

 

জামায়াতে ইসলামীর নারী সংসদ সদস্যদের পোশাক নিয়ে কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর মন্তব্যের ঘটনায় জাতীয় সংসদে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে একপর্যায়ে স্পিকার তার বক্তব্যের আপত্তিকর অংশ কার্যবিবরণী থেকে এক্সপাঞ্জ করেন এবং তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে সব সংসদ সদস্যকে সংসদের মর্যাদা রক্ষার আহ্বান জানান।

রোববার (১৪ জুন) বাজেট অধিবেশনের আলোচনার সময় এ ঘটনা ঘটে।অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।

অধিবেশনে মনিরুল হক চৌধুরী জামায়াতে ইসলামীর কঠোর সমালোচনা করে ২০০৪ সালের একটি পারিবারিক দাওয়াতের গল্প টেনে আনেন। তিনি নারী সংসদ সদস্যদের ইঙ্গিত করে তাদের পোশাক ও পর্দা নিয়ে মন্তব্য করেন।

তার মুখে এমন কথা শোনার সঙ্গে সঙ্গেই বিরোধীদলের সংসদ সদস্যরা আসন ছেড়ে দাঁড়িয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানান ও চিৎকার শুরু করেন। পুরো অধিবেশন কক্ষজুড়ে শুরু হয় চরম হট্টগোল। স্পিকার বারবার সংসদ সদস্যদের শান্ত হওয়ার অনুরোধ জানালেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

মনিরুল হক চৌধুরীর এমন মন্তব্যে স্পিকার তাকে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা নিয়ে কথা না বলার জন্য কঠোরভাবে সতর্ক করেন। স্পিকার অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, আমরা সবাই জনগণের ভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্য। আমরা যদি নিজেদের ডিসেন্সি এবং ডিগনিটি ধরে রাখতে না পারি, তবে দেশের মানুষের কাছে আমাদের লজ্জিত হতে হবে। এই মহান সংসদ কোনো ব্যক্তিগত আক্রমণ বা কারও ব্যক্তিগত স্বাধীনতা নিয়ে কথা বলার চারণক্ষেত্র নয়।

তীব্র সমালোচনার মুখে মনিরুল হক চৌধুরী সংসদে দুঃখ প্রকাশ করতে বাধ্য হন এবং তার কোনো শব্দে কারও আত্মসম্মানে আঘাত লেগে থাকলে তা এক্সপাঞ্জ করার অনুরোধ জানান।

এদিকে নারী এমপিদের পোশাকের প্রতি ইঙ্গিত করে কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর দেওয়া বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন সংসদের বিরোধীদলীয় হুইপ নাহিদ ইসলাম।

সংসদে নাহিদ দাবি করেন, এমপি মনিরুল বিরোধীদলীয় উপনেতার স্ত্রীকে কটাক্ষ এবং নারী সংসদ সদস্যদের পোশাক ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে আপত্তিকর বক্তব্য দিয়েছেন। এ ধরনের বক্তব্যকে ‘অমার্জনীয় অপরাধ’ ও ‘বর্ণবাদী আচরণ’ আখ্যা দিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন নাহিদ।