Dhaka ০৮:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাম প্রতিরোধে আরও ১৬ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক
8 / 100 SEO Score

 

দেশের যেসব ছোট ছোট এলাকায় হাম-রুবেলার টিকা থেকে কিছু শিশু বাদ পড়েছে, সেসব এলাকায় বিশেষভাবে টিকাদান কার্যক্রম চালানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ জন্য মজুত থাকা ১৬ লাখ টিকা ব্যবহার করা হবে। পাশাপাশি হামে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা আরও কার্যকর করতে চিকিৎসা নির্দেশিকা ব্যাপকভাবে প্রচার এবং চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

গত রোববার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত টিকাবিষয়ক আন্তসংস্থা সমন্বয় কমিটির সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্যসচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী।

সোমবার (১৭ আগস্ট) মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, হাম নিয়ে আইসিসি গুরুত্বপূর্ণ সভা করেছে। প্রায় সব ধরনের অংশীজন সভায় উপস্থিত ছিলেন, তারা বর্তমান সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেছেন। কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়েছে।

কিছু পকেটে (ছোট ছোট এলাকা) ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী সব শিশু টিকা পায়নি। তাদের সবাইকে টিকা দেওয়া হবে। আমাদের কাছে এখনো ১৬ লাখ টিকা আছে। এছাড়া আইসিসির সভায় কারা হামে আক্রান্ত হচ্ছে, তা নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় বলা হয়, আক্রান্ত রোগীর ১০ শতাংশের বয়স ছয় মাসের কম। ৭৪ শতাংশের বয়স ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস। ৫ বছর থেকে ১০ বছর বয়স ১৪ শতাংশের। বাকি ২ শতাংশের বয়স ১০ থেকে ১৪ বছর বা তার বেশি।

মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী আরও বলেন, ‘কিছু পকেটে (ছোট ছোট এলাকা) ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী সব শিশু টিকা পায়নি। তাদের সবাইকে টিকা দেওয়া হবে। আমাদের কাছে এখনো ১৬ লাখ টিকা আছে।’

নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির টিকা মজুত নিয়েও সভায় আলোচনা হয়েছে। আগামী বছর যাতে টিকার কোনো সংকট তৈরি না হয়, সে জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। মাঠপর্যায়ে টিকাদান কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে শূন্য পদে জনবল নিয়োগের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ৫ এপ্রিল থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী ১ কোটি ৯৩ লাখ ৬৩ হাজার ৯১২ শিশুকে হামের এক ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে।

চলতি বছর হামের উপসর্গে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮১৫। পাশাপাশি এসময় নিশ্চিত হামে মারা গেছে ৯৯ জন। সব মিলিয়ে এ বছর হাম ও হামের উপসর্গে ৯১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের বড় অংশের বয়স পাঁচ বছরের কম এবং তাদের বড় অংশ কোনো টিকাই পায়নি।

 

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

four × 1 =

About Author Information

হাম প্রতিরোধে আরও ১৬ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত

Update Time : ০৪:৩৬:১১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬
8 / 100 SEO Score

 

দেশের যেসব ছোট ছোট এলাকায় হাম-রুবেলার টিকা থেকে কিছু শিশু বাদ পড়েছে, সেসব এলাকায় বিশেষভাবে টিকাদান কার্যক্রম চালানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ জন্য মজুত থাকা ১৬ লাখ টিকা ব্যবহার করা হবে। পাশাপাশি হামে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা আরও কার্যকর করতে চিকিৎসা নির্দেশিকা ব্যাপকভাবে প্রচার এবং চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

গত রোববার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত টিকাবিষয়ক আন্তসংস্থা সমন্বয় কমিটির সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্যসচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী।

সোমবার (১৭ আগস্ট) মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, হাম নিয়ে আইসিসি গুরুত্বপূর্ণ সভা করেছে। প্রায় সব ধরনের অংশীজন সভায় উপস্থিত ছিলেন, তারা বর্তমান সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেছেন। কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়েছে।

কিছু পকেটে (ছোট ছোট এলাকা) ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী সব শিশু টিকা পায়নি। তাদের সবাইকে টিকা দেওয়া হবে। আমাদের কাছে এখনো ১৬ লাখ টিকা আছে। এছাড়া আইসিসির সভায় কারা হামে আক্রান্ত হচ্ছে, তা নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় বলা হয়, আক্রান্ত রোগীর ১০ শতাংশের বয়স ছয় মাসের কম। ৭৪ শতাংশের বয়স ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস। ৫ বছর থেকে ১০ বছর বয়স ১৪ শতাংশের। বাকি ২ শতাংশের বয়স ১০ থেকে ১৪ বছর বা তার বেশি।

মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী আরও বলেন, ‘কিছু পকেটে (ছোট ছোট এলাকা) ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী সব শিশু টিকা পায়নি। তাদের সবাইকে টিকা দেওয়া হবে। আমাদের কাছে এখনো ১৬ লাখ টিকা আছে।’

নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির টিকা মজুত নিয়েও সভায় আলোচনা হয়েছে। আগামী বছর যাতে টিকার কোনো সংকট তৈরি না হয়, সে জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। মাঠপর্যায়ে টিকাদান কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে শূন্য পদে জনবল নিয়োগের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ৫ এপ্রিল থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী ১ কোটি ৯৩ লাখ ৬৩ হাজার ৯১২ শিশুকে হামের এক ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে।

চলতি বছর হামের উপসর্গে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮১৫। পাশাপাশি এসময় নিশ্চিত হামে মারা গেছে ৯৯ জন। সব মিলিয়ে এ বছর হাম ও হামের উপসর্গে ৯১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের বড় অংশের বয়স পাঁচ বছরের কম এবং তাদের বড় অংশ কোনো টিকাই পায়নি।