Dhaka ০৮:২৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১০০ আসনে কারচুপির দাবি: মমতা

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক
12 / 100 SEO Score

 

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি অভিযোগ করেছেন, অন্তত ১০০টি আসনে কারচুপি হয়েছে এবং এতে জড়িত ছিল ভারতের নির্বাচন কমিশন ও ভারতীয় জনতা পার্টি—যা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা।

সোমবার (৪ মে) সন্ধ্যায় কলকাতায় গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি নির্বাচন কমিশন ও বিজেপির বিরুদ্ধে শতাধিক আসন ‘লুটে’র অভিযোগ তোলেন।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশন মিলে ১০০টিরও বেশি আসনে কারচুপি করেছে। তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন এখন বিজেপির কমিশনে পরিণত হয়েছে। আমি এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে অভিযোগ জানালেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

এটি কোনো নৈতিক জয় নয়, বরং কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সহায়তায় যা করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ অবৈধ।’ তৃণমূল সুপ্রিমো পরাজয় মেনে না নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে আরও বলেন, ‘আমরা আবারও ঘুরে দাঁড়াব।’

২০২৬ সালের এই নির্বাচনে বিজেপির এই ঐতিহাসিক জয়কে স্বাগত জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে পদ্ম ফুটেছে। এই নির্বাচনের ফলাফল সুশাসনের রাজনীতির জয় হিসেবে ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’

নির্বাচনের ফলাফল ও গণনার সময় থেকেই তৃণমূল কংগ্রেস নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ডায়মন্ড হারবার, মগরাহাট পূর্ব ও পশ্চিমসহ বেশ কিছু আসনে জয় নিশ্চিত হওয়ার পরও কমিশন শংসাপত্র দিতে দেরি করছে।

গণনা চলাকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও কলকাতার সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গণনা কেন্দ্র পরিদর্শন করেন এবং সেখানেও গণনার পদ্ধতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি আসনের মধ্যে বিজেপি ২০৬টি আসনে জয়ী বা এগিয়ে রয়েছে, যা সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১৪৮টি আসনের চেয়ে অনেক বেশি। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস ৮১টি আসনে সীমাবদ্ধ রয়েছে। এছাড়া কংগ্রেস এবং হুমায়ুন কবিরের এজেইউপি দুটি করে আসনে জয় পেয়েছে।

সিপিআই(এম) ও এআইএসএফ একটি করে আসনে এগিয়ে রয়েছে। এই ফলাফলের মধ্য দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘদিনের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটে নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে।

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

১০০ আসনে কারচুপির দাবি: মমতা

Update Time : ০৬:৪১:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬
12 / 100 SEO Score

 

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি অভিযোগ করেছেন, অন্তত ১০০টি আসনে কারচুপি হয়েছে এবং এতে জড়িত ছিল ভারতের নির্বাচন কমিশন ও ভারতীয় জনতা পার্টি—যা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা।

সোমবার (৪ মে) সন্ধ্যায় কলকাতায় গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি নির্বাচন কমিশন ও বিজেপির বিরুদ্ধে শতাধিক আসন ‘লুটে’র অভিযোগ তোলেন।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশন মিলে ১০০টিরও বেশি আসনে কারচুপি করেছে। তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন এখন বিজেপির কমিশনে পরিণত হয়েছে। আমি এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে অভিযোগ জানালেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

এটি কোনো নৈতিক জয় নয়, বরং কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সহায়তায় যা করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ অবৈধ।’ তৃণমূল সুপ্রিমো পরাজয় মেনে না নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে আরও বলেন, ‘আমরা আবারও ঘুরে দাঁড়াব।’

২০২৬ সালের এই নির্বাচনে বিজেপির এই ঐতিহাসিক জয়কে স্বাগত জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে পদ্ম ফুটেছে। এই নির্বাচনের ফলাফল সুশাসনের রাজনীতির জয় হিসেবে ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’

নির্বাচনের ফলাফল ও গণনার সময় থেকেই তৃণমূল কংগ্রেস নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ডায়মন্ড হারবার, মগরাহাট পূর্ব ও পশ্চিমসহ বেশ কিছু আসনে জয় নিশ্চিত হওয়ার পরও কমিশন শংসাপত্র দিতে দেরি করছে।

গণনা চলাকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও কলকাতার সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গণনা কেন্দ্র পরিদর্শন করেন এবং সেখানেও গণনার পদ্ধতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি আসনের মধ্যে বিজেপি ২০৬টি আসনে জয়ী বা এগিয়ে রয়েছে, যা সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১৪৮টি আসনের চেয়ে অনেক বেশি। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস ৮১টি আসনে সীমাবদ্ধ রয়েছে। এছাড়া কংগ্রেস এবং হুমায়ুন কবিরের এজেইউপি দুটি করে আসনে জয় পেয়েছে।

সিপিআই(এম) ও এআইএসএফ একটি করে আসনে এগিয়ে রয়েছে। এই ফলাফলের মধ্য দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘদিনের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটে নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে।