১৭ বছরের বঞ্চনা পেরিয়ে অতিরিক্ত আইজিপি হলেন ফারুক আহমেদ
দীর্ঘ ১৭ বছরের পদোন্নতি বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) পদে উন্নীত হয়েছেন র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ফারুক আহমেদ।
রবিবার সকালে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির এবং অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (প্রশাসন) এ কে এম আওলাদ হোসেন তাকে নতুন পদমর্যাদার র্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেন।
১৭তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের কর্মকর্তা ফারুক আহমেদের বাড়ি বগুড়া জেলার নন্দীগ্রাম উপজেলার কৈডালা (রণবাঘা) গ্রামে। কর্মজীবনের শুরু থেকেই তিনি সৎ, দক্ষ ও পেশাদার পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে সহকর্মী ও সাধারণ মানুষের কাছে পরিচিত ছিলেন। তবে রাজনৈতিক বিবেচনায় বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি দীর্ঘ সময় পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত ছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা রয়েছে।
২০০৯ সালে ময়মনসিংহ জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ১৭ দিনের মাথায় তাকে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করা হয়। জানা যায়, তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের হস্তক্ষেপে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ সময় গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করলেও কাঙ্ক্ষিত পদোন্নতি পাননি তিনি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পুলিশের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে ব্যাপক পদোন্নতি ও রদবদলের মধ্যে ফারুক আহমেদও পদোন্নতি লাভ করেন। পরবর্তীতে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (অ্যাডমিন) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ওই পদে থেকে প্রশাসনিক দক্ষতা, শৃঙ্খলা রক্ষা এবং পেশাদারিত্বের মাধ্যমে তিনি প্রশংসা অর্জন করেন।
তবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়) খোদা বকশ চৌধুরীর অসন্তোষের মুখে পড়েন বলে জানা যায়। পরবর্তীতে তাকে ডিএমপি থেকে র্যাবে বদলি করা হয়।
সর্বশেষ গত ৪ জুন সরকার তাকে পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (গ্রেড-২) পদে পদোন্নতি প্রদান করে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এই পদোন্নতিকে তার সততা, পেশাদারিত্ব ও কর্মনিষ্ঠার স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন সহকর্মী ও সংশ্লিষ্টরা।



















