Dhaka ০৫:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৪ বছর বন্ধ থাকার পর বাংলাদেশিদের জন্য খুললো মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার

নিজস্ব প্রতিবেদক
8 / 100 SEO Score

 

অবশেষে চালু হয়েছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। দীর্ঘ প্রায় ৪ বছর বন্ধ থাকা শ্রমবাজারটি আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়াই নীরবে খুলে গেল বাংলাদেশিদের জন্য।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) মালয়েশিয়ার সুপারমার্কেট চেইন এনএসকে ট্রেড সিটির চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে ২৮ বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের চাহিদাপত্র বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে সত্যায়নের মধ্য দিয়েই মূলত ফের চালু হয় বাংলাদেশিদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। হাইকমিশন সূত্র নিশ্চিত করেছে, বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সি গুডনেস সার্ভিসেস লিমিটেডের অধীনে চাহিদাপত্রের সত্যায়ন দেওয়া হয়েছে।

যদিও সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়াই বহুল প্রত্যাশিত বাজারটি চালু হওয়ায় তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।

এদিকে শ্রমবাজারটি ফের চালু করতে দুই দেশের মন্ত্রী পর্যায়ে একাধিক বৈঠক, দীর্ঘ আলোচনা ও কূটনৈতিক তৎপরতার পরেও কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় বাড়তে থাকে শঙ্কা। এরপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম বিদেশ সফর করেন মালয়েশিয়ায়। সফরকালে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগ পুনরায় শুরুর বিষয়ে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে আলোচনা করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরের মধ্যে দিয়েই নতুন করে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের পথ আবার উন্মুক্ত হয়। তবে এখন পর্যন্ত দুই দেশের কোনো পক্ষ থেকেই নতুন করে শ্রমবাজার চালুর বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

এদিকে মালয়েশিয়া সরকার প্রায় এক মাস আগে বাংলাদেশসহ বিদেশি কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া ও ধাপ প্রকাশ করলেও বাংলাদেশ থেকে কোন প্রক্রিয়ায় এবং কার মাধ্যমে, কত টাকা খরচে তারা মালয়েশিয়ায় যেতে পারবেন সে বিষয়ে এখনো কোনো ঘোষণা আসেনি। ফলে এ সুযোগে কিছু রিক্রুটিং এজেন্সি, দালাল ও মধ্যস্বত্বভোগী সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের প্রচারণা, চাকরির আশ্বাস এবং দ্রুত মালয়েশিয়া পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে চাকরিপ্রত্যাশীদের আকৃষ্ট করা হচ্ছে। এতে বাড়ছে প্রতারিত হওয়ার ঝুঁকি। এর আগে সরকার নির্ধারিত অভিবাসন খরচের কয়েকগুণ বেশি অর্থ দিয়ে মালয়েশিয়ায় যেতে হয়েছে কর্মীদের। আশঙ্কা করা হচ্ছে, এবারও সেই ধারা অব্যাহত থাকবে। তবে কর্মীদের স্বার্থ রক্ষাসহ কম খরচে অভিবাসন নিশ্চিতে কঠোর নজরদারির কথা বলা হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে।

অন্যদিকে এবারের শ্রমবাজার কতটা স্বচ্ছ ও নিরাপদ হবে, তার ওপরই অনেকটা নির্ভর করবে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের কর্মসংস্থানের ভবিষ্যৎ। অতীতের অনিয়মের পুনরাবৃত্তি ঠেকানো এবং চাকরিপ্রত্যাশীদের দালালচক্রের হাত থেকে রক্ষা করাই এখন সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।

 

Tag :

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

1 × five =

About Author Information

৪ বছর বন্ধ থাকার পর বাংলাদেশিদের জন্য খুললো মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার

Update Time : ০৬:৩২:০৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
8 / 100 SEO Score

 

অবশেষে চালু হয়েছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। দীর্ঘ প্রায় ৪ বছর বন্ধ থাকা শ্রমবাজারটি আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়াই নীরবে খুলে গেল বাংলাদেশিদের জন্য।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) মালয়েশিয়ার সুপারমার্কেট চেইন এনএসকে ট্রেড সিটির চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে ২৮ বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের চাহিদাপত্র বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে সত্যায়নের মধ্য দিয়েই মূলত ফের চালু হয় বাংলাদেশিদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। হাইকমিশন সূত্র নিশ্চিত করেছে, বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সি গুডনেস সার্ভিসেস লিমিটেডের অধীনে চাহিদাপত্রের সত্যায়ন দেওয়া হয়েছে।

যদিও সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়াই বহুল প্রত্যাশিত বাজারটি চালু হওয়ায় তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।

এদিকে শ্রমবাজারটি ফের চালু করতে দুই দেশের মন্ত্রী পর্যায়ে একাধিক বৈঠক, দীর্ঘ আলোচনা ও কূটনৈতিক তৎপরতার পরেও কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় বাড়তে থাকে শঙ্কা। এরপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম বিদেশ সফর করেন মালয়েশিয়ায়। সফরকালে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগ পুনরায় শুরুর বিষয়ে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে আলোচনা করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরের মধ্যে দিয়েই নতুন করে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের পথ আবার উন্মুক্ত হয়। তবে এখন পর্যন্ত দুই দেশের কোনো পক্ষ থেকেই নতুন করে শ্রমবাজার চালুর বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

এদিকে মালয়েশিয়া সরকার প্রায় এক মাস আগে বাংলাদেশসহ বিদেশি কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া ও ধাপ প্রকাশ করলেও বাংলাদেশ থেকে কোন প্রক্রিয়ায় এবং কার মাধ্যমে, কত টাকা খরচে তারা মালয়েশিয়ায় যেতে পারবেন সে বিষয়ে এখনো কোনো ঘোষণা আসেনি। ফলে এ সুযোগে কিছু রিক্রুটিং এজেন্সি, দালাল ও মধ্যস্বত্বভোগী সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের প্রচারণা, চাকরির আশ্বাস এবং দ্রুত মালয়েশিয়া পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে চাকরিপ্রত্যাশীদের আকৃষ্ট করা হচ্ছে। এতে বাড়ছে প্রতারিত হওয়ার ঝুঁকি। এর আগে সরকার নির্ধারিত অভিবাসন খরচের কয়েকগুণ বেশি অর্থ দিয়ে মালয়েশিয়ায় যেতে হয়েছে কর্মীদের। আশঙ্কা করা হচ্ছে, এবারও সেই ধারা অব্যাহত থাকবে। তবে কর্মীদের স্বার্থ রক্ষাসহ কম খরচে অভিবাসন নিশ্চিতে কঠোর নজরদারির কথা বলা হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে।

অন্যদিকে এবারের শ্রমবাজার কতটা স্বচ্ছ ও নিরাপদ হবে, তার ওপরই অনেকটা নির্ভর করবে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের কর্মসংস্থানের ভবিষ্যৎ। অতীতের অনিয়মের পুনরাবৃত্তি ঠেকানো এবং চাকরিপ্রত্যাশীদের দালালচক্রের হাত থেকে রক্ষা করাই এখন সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।