Dhaka ০৪:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নাটকীয় ম্যাচে কানাডার রেকর্ড জয়

9 / 100 SEO Score

 

বিশ্বকাপে নাটকীয় এক ম্যাচে কাতারকে ৬-০ গোলের বড় ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়ে ইতিহাস গড়েছে স্বাগতিক কানাডা। জোনাথন ডেভিডের দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক, কাতারের দুই লাল কার্ড এবং ইসমায়েল কোনের মর্মান্তিক পা ভাঙার ঘটনায় আলোচিত ম্যাচটিতে রেকর্ড গড়া জয় তুলে নিয়ে ‘বি’ গ্রুপের শীর্ষে উঠে গেছে কানাডা।

র‍্যাঙ্কিংয়ের ২৮তম স্থানে থাকা কানাডার বিপক্ষে ৫৮তম স্থানে থাকা কাতারের লড়াইয়ে মাঠে শক্তির পার্থক্য স্পষ্ট ছিল শুরু থেকেই। ম্যাচের ১৬ মিনিটেই কাইল লারিনের গোলে লিড নেয় কানাডা। এরপর ৩৩ মিনিটে কানাডার ফরোয়ার্ড তেজন বুকাননকে ফাউল করে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন কাতারের ডিফেন্ডার হোমাম আহমেদ। ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া কাতারের বিপক্ষে ২৯ মিনিট ও প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে আরও দুটি গোল করে স্কোরলাইন ৩-০ করেন জোনাথন ডেভিড।

ম্যাচের ৫২ মিনিটে ঘটে সবচেয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি। বল দখলের লড়াইয়ে পেছন থেকে কানাডার মিডফিল্ডার ইসমায়েল কোনেকে মারাত্মক ট্যাকল করেন কাতারের আসিম মাদিবো। এতে কোনের বাঁ পায়ের হাঁটুর নিচের অংশ ভেঙে যায়। মাঠে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাকে স্ট্রেচারে করে বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় কানাডার কোচ জেসে মার্চকে কাঁদতে দেখা যায়। ফাউলের জন্য মাদিবোকে প্রথমে হলুদ কার্ড দেওয়া হলেও, ভিএআর পর্যালোচনার পর তাকে লাল কার্ড দেখানো হয়। ফলে ৯ জনের দলে পরিণত হয় কাতার। অনুতপ্ত মাদিবোকে এ সময় সতীর্থদের সান্ত্বনা দিতে দেখা যায়। চোটের কারণে প্রায় সাড়ে ছয় মিনিট খেলা বন্ধ ছিল।

কোনের বদলি হিসেবে মাঠে নেমে ৬৪ মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে গোল করেন নাথান সালিবা। গোল উদযাপনের সময় তিনি আহত সতীর্থ কোনের জার্সি উঁচিয়ে ধরে মাঠে এক আবেগঘন মুহূর্তের জন্ম দেন। এরপর ৭৫ মিনিটে কাতারের মোহাম্মদ মানাইয়ের আত্মঘাতী গোলে ব্যবধান আরও বাড়ে। সবশেষে দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে জোনাথন ডেভিড নিজের তৃতীয় গোলটি করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করার পাশাপাশি দলের ৬-০ ব্যবধানের বড় জয় নিশ্চিত করেন।

এই জয়ের মাধ্যমে বিশ্বকাপে একাধিক রেকর্ডের জন্ম দিয়েছে কানাডা। ১৯৬৬ সালের ফাইনালে ইংল্যান্ডের জিওফ হার্স্টের পর দীর্ঘ ৬০ বছর পর স্বাগতিক দেশের কোনো খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক করার কীর্তি গড়লেন জোনাথন ডেভিড। সব মিলিয়ে তিনি এই তালিকার ষষ্ঠ খেলোয়াড়। এছাড়া ১৯৩৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ইতালির ৭-১, ১৯৫০ সালে সুইডেনের বিপক্ষে ব্রাজিলের ৭-১ এবং ১৯৭৮ সালে পেরুর বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ৬-০ গোলের জয়ের পর, স্বাগতিক দেশ হিসেবে সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয়ের রেকর্ডেও ভাগ বসিয়েছে কানাডা।

অন্যদিকে, বিশ্বকাপের ইতিহাসে কাতারই প্রথম দল, যারা একই ম্যাচে দুটি লাল কার্ড দেখার পাশাপাশি আত্মঘাতী গোল হজম করার লজ্জার রেকর্ড গড়েছে।

এই জয়ের ফলে ‘বি’ গ্রুপের পয়েন্ট তালিকায় শীর্ষস্থান দখল করেছে কানাডা। দুই ম্যাচ শেষে তাদের সংগ্রহ ৪ পয়েন্ট। আগের ম্যাচে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাকে হারানো সুইজারল্যান্ডের পয়েন্টও সমান ৪ হলেও, গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থাকায় তারা গ্রুপের দ্বিতীয় স্থানে নেমে গেছে।

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

নাটকীয় ম্যাচে কানাডার রেকর্ড জয়

Update Time : ০১:০৮:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
9 / 100 SEO Score

 

বিশ্বকাপে নাটকীয় এক ম্যাচে কাতারকে ৬-০ গোলের বড় ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়ে ইতিহাস গড়েছে স্বাগতিক কানাডা। জোনাথন ডেভিডের দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক, কাতারের দুই লাল কার্ড এবং ইসমায়েল কোনের মর্মান্তিক পা ভাঙার ঘটনায় আলোচিত ম্যাচটিতে রেকর্ড গড়া জয় তুলে নিয়ে ‘বি’ গ্রুপের শীর্ষে উঠে গেছে কানাডা।

র‍্যাঙ্কিংয়ের ২৮তম স্থানে থাকা কানাডার বিপক্ষে ৫৮তম স্থানে থাকা কাতারের লড়াইয়ে মাঠে শক্তির পার্থক্য স্পষ্ট ছিল শুরু থেকেই। ম্যাচের ১৬ মিনিটেই কাইল লারিনের গোলে লিড নেয় কানাডা। এরপর ৩৩ মিনিটে কানাডার ফরোয়ার্ড তেজন বুকাননকে ফাউল করে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন কাতারের ডিফেন্ডার হোমাম আহমেদ। ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া কাতারের বিপক্ষে ২৯ মিনিট ও প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে আরও দুটি গোল করে স্কোরলাইন ৩-০ করেন জোনাথন ডেভিড।

ম্যাচের ৫২ মিনিটে ঘটে সবচেয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি। বল দখলের লড়াইয়ে পেছন থেকে কানাডার মিডফিল্ডার ইসমায়েল কোনেকে মারাত্মক ট্যাকল করেন কাতারের আসিম মাদিবো। এতে কোনের বাঁ পায়ের হাঁটুর নিচের অংশ ভেঙে যায়। মাঠে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাকে স্ট্রেচারে করে বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় কানাডার কোচ জেসে মার্চকে কাঁদতে দেখা যায়। ফাউলের জন্য মাদিবোকে প্রথমে হলুদ কার্ড দেওয়া হলেও, ভিএআর পর্যালোচনার পর তাকে লাল কার্ড দেখানো হয়। ফলে ৯ জনের দলে পরিণত হয় কাতার। অনুতপ্ত মাদিবোকে এ সময় সতীর্থদের সান্ত্বনা দিতে দেখা যায়। চোটের কারণে প্রায় সাড়ে ছয় মিনিট খেলা বন্ধ ছিল।

কোনের বদলি হিসেবে মাঠে নেমে ৬৪ মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে গোল করেন নাথান সালিবা। গোল উদযাপনের সময় তিনি আহত সতীর্থ কোনের জার্সি উঁচিয়ে ধরে মাঠে এক আবেগঘন মুহূর্তের জন্ম দেন। এরপর ৭৫ মিনিটে কাতারের মোহাম্মদ মানাইয়ের আত্মঘাতী গোলে ব্যবধান আরও বাড়ে। সবশেষে দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে জোনাথন ডেভিড নিজের তৃতীয় গোলটি করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করার পাশাপাশি দলের ৬-০ ব্যবধানের বড় জয় নিশ্চিত করেন।

এই জয়ের মাধ্যমে বিশ্বকাপে একাধিক রেকর্ডের জন্ম দিয়েছে কানাডা। ১৯৬৬ সালের ফাইনালে ইংল্যান্ডের জিওফ হার্স্টের পর দীর্ঘ ৬০ বছর পর স্বাগতিক দেশের কোনো খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক করার কীর্তি গড়লেন জোনাথন ডেভিড। সব মিলিয়ে তিনি এই তালিকার ষষ্ঠ খেলোয়াড়। এছাড়া ১৯৩৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ইতালির ৭-১, ১৯৫০ সালে সুইডেনের বিপক্ষে ব্রাজিলের ৭-১ এবং ১৯৭৮ সালে পেরুর বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ৬-০ গোলের জয়ের পর, স্বাগতিক দেশ হিসেবে সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয়ের রেকর্ডেও ভাগ বসিয়েছে কানাডা।

অন্যদিকে, বিশ্বকাপের ইতিহাসে কাতারই প্রথম দল, যারা একই ম্যাচে দুটি লাল কার্ড দেখার পাশাপাশি আত্মঘাতী গোল হজম করার লজ্জার রেকর্ড গড়েছে।

এই জয়ের ফলে ‘বি’ গ্রুপের পয়েন্ট তালিকায় শীর্ষস্থান দখল করেছে কানাডা। দুই ম্যাচ শেষে তাদের সংগ্রহ ৪ পয়েন্ট। আগের ম্যাচে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাকে হারানো সুইজারল্যান্ডের পয়েন্টও সমান ৪ হলেও, গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থাকায় তারা গ্রুপের দ্বিতীয় স্থানে নেমে গেছে।