যুদ্ধবিরতিতে সম্মত ইসরায়েল ও হিজবুল্লা
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা চুক্তির তিন দিন পর লেবাননে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলো ইসরায়েল এবং ইরানের সমর্থনপুষ্ট সশস্ত্র ইসলামি রাজনৈতিক গোষ্ঠী হিজবুল্লা। গতকাল শুক্রবার স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা থেকে (বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টা) থেকে কার্যকর হয়েছে এ যুদ্ধবিরতি।
ইসরায়েলের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এবং হিজবুল্লাহের দু’টি সূত্র রয়টার্সকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। হিজবুল্লার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও প্রায় এক ঘণ্টা দক্ষিণ লেবাননে এক ডজন বিমান অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েলের বিমান বাহিনী, তবে স্থানীয় সময় বিকেল ৫টার পর ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এর তরফ থেকে কোনো ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র কিংবা বিমান হামলা হয়নি।
ইসরায়েলি কর্মকর্তারা অবশ্য এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। এদিকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও রাত ৮টার দিকে দক্ষিণ লেবাননের একটি মহাসড়কে ড্রোনের আঘাতে ২ জন মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এ ব্যাপারে নিশ্চিত তথ্য জানতে আইডিএফের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল রয়টার্স, কিন্তু কোনো মুখপাত্র মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এর আগে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে লেবাননে বিমান অভিযান পরিচালনা করেছিল আইডিএফ। এতে নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ৪৭ জন। সেই অভিযানের ১২ ঘণ্টার মধ্যেই ইসরায়েল ও হিজবুল্লার যুদ্ধবিরতির খবর পাওয়া গেলো।
যুক্তরাষ্ট্রের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন—মার্কিন, কাতারি এবং ইরানি কর্মকর্তাদের তৎপরতার ফলাফল এই যুদ্ধবিরতি। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে ওই কর্মকর্তা বলেন, “হিজবুল্লা এবং ইসরায়েল যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। যদিও আজও লেবাননে দু’পক্ষের মধ্যে গুলি বিনিময় হয়েছে, তবে আমরা বুঝতে পারছি এবং আশা করছি যে এখন থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে।”
ইরানের মদতপুষ্ট শিয়াপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লা ইসরায়েলের পুরোনো শত্রু। লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল এই গোষ্ঠীটির ঘাঁটি। ২০২৪ সালে হিজবুল্লাকে নির্মূল করতে প্রথমবারের মতো লেবাননে সর্বাত্মক অভিযান শুরু করে আইডিএফ। ইসরায়েলি বাহিনীর সেবারের অভিযানে নিহত হন হিজবুল্লার শীর্ষ নেতা হাসান নাসরুল্লাহসহ গোষ্ঠীটির প্রথমসারির অধিকাংশ নেতা এবং কমান্ডার। ফলে তছনছ হয়ে যায় গোষ্ঠীটির সাংগঠনিক চেইন অব কমান্ড। এছাড়া হিজবুল্লার সামরিক স্থাপনাগুলো ও অস্ত্রাগারেরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল সেবার।
টানা ৯ মাস অভিযান চালানোর পর ২০২৫ সালের জুনের দিকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতার ভিত্তিতে যুদ্ধবিরতিতে যায় লেবানন-ইসরায়েল। তবে এই যুদ্ধবিরতি ছিল ভঙ্গুর। কারণ যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরও মাঝেমাঝেই দক্ষিন লেবাননে ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করতো আইডিএফ, পাল্টা জবাব দিতো হিজবুল্লাও।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। তার দু’দিন পর যুদ্ধবিরতি ভেঙ্গে লেবাননে হামলা শুরু করে ইসরায়েলও। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, ইসরায়েলি বাহিনীর সাড়ে ৩ মাসের অভিযানে এ পর্যন্ত লেবাননে নিহত হয়েছেন ৩ হাজার ৯১২ জন মানুষ, এদের মধ্যে ৭৪৬ জন স্বাস্থ্যকর্মী, নারী ও শিশু আছে।
ক্ষয়ক্ষতি অবশ্য ইসরায়েলেরও হয়েছে। হিজবুল্লার সঙ্গে সাড়ে তিন মাসের সংঘাতে প্রাণ হারিয়েছেন আইডিএফের ৩২ জন সেনা এবং ৪ জন সাধারণ বেসামরিক ইসরায়েলি।
সূত্র : রয়টার্স



















