Dhaka ১২:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঘরহীন হয়ে পড়েছে লেবাননের অসংখ্য পরিবার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
8 / 100 SEO Score

 

সাম্প্রতিক ভয়াবহ সামরিক সংঘাতের কারণে দক্ষিণ লেবাননের ১১ হাজারের বেশি আবাসিক ভবন সম্পূর্ণ ধূলিসাৎ হয়ে গেছে যার ফলে বাস্তুচ্যুত হওয়া বহু পরিবারের এখন আর নিজেদের ঘরে ফিরে যাওয়ার কোনো পথ বা উপায় অবশিষ্ট নেই।

জাতিসংঘের একটি নতুন ক্ষয়ক্ষতির জরিপের বরাতে বিশ্ব সংস্থার মহাসচিবের প্রধান মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘের প্রধান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক লেবাননের বর্তমান যুদ্ধোত্তর পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরেন। তিনি জানান যে দক্ষিণ লেবাননের সীমান্ত এলাকায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া ওই বিশাল আবাসন ছাড়াও আরও প্রায় ২ হাজার ২০০টি আবাসিক ভবন আংশিক বা আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ধ্বংসযজ্ঞের সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরে সাংবাদিকদের সামনে তিনি সরাসরি বলেন, ‘বহু পরিবারের জন্য এর সহজ অর্থ হলো এখন তাদের ফিরে যাওয়ার মতো কোনো ঘরবাড়িই আর অবশিষ্ট নেই।’

মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক আরও ব্যাখ্যা করেন যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকাগুলোতে এখনও স্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরে আসেনি। তিনি বলেন যে, ‘টানা অনিশ্চয়তা, ব্যাপক ধ্বংসলীলা এবং মাটির নিচে বা ধ্বংসস্তূপে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা অবিস্ফোরিত বোমার মারাত্মক হুমকি এখনও সাধারণ মানুষের জন্য নিজ এলাকায় নিরাপদ এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রত্যাবর্তনের পথে একটি বড় ধরনের অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।’ এই অদৃশ্য মাইন বা বোমার কারণে যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

অবশ্য এই চরম বৈরী পরিস্থিতি ও জীবনের ঝুঁকি থাকার পরেও বহু সাধারণ নাগরিক নিজেদের জন্মভিটায় ফিরে যাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং অস্থায়ী আশ্রয়শিবিরগুলো ছাড়ছেন। জাতিসংঘের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী গত রাতের মধ্যেই প্রায় ১৯ হাজার মানুষ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি আশ্রয়কেন্দ্র ত্যাগ করে নিজেদের এলাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। এর ফলে সাময়িকভাবে তৈরি করা বিভিন্ন আশ্রয়শিবিরে বর্তমানে অবস্থান করা মোট শরণার্থীর সংখ্যা হ্রাস পেয়ে প্রায় ৯০ হাজারে এসে দাঁড়িয়েছে।

সূত্র: ডন

 

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

six + 9 =

About Author Information

ঘরহীন হয়ে পড়েছে লেবাননের অসংখ্য পরিবার

Update Time : ০৮:০৩:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
8 / 100 SEO Score

 

সাম্প্রতিক ভয়াবহ সামরিক সংঘাতের কারণে দক্ষিণ লেবাননের ১১ হাজারের বেশি আবাসিক ভবন সম্পূর্ণ ধূলিসাৎ হয়ে গেছে যার ফলে বাস্তুচ্যুত হওয়া বহু পরিবারের এখন আর নিজেদের ঘরে ফিরে যাওয়ার কোনো পথ বা উপায় অবশিষ্ট নেই।

জাতিসংঘের একটি নতুন ক্ষয়ক্ষতির জরিপের বরাতে বিশ্ব সংস্থার মহাসচিবের প্রধান মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘের প্রধান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক লেবাননের বর্তমান যুদ্ধোত্তর পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরেন। তিনি জানান যে দক্ষিণ লেবাননের সীমান্ত এলাকায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া ওই বিশাল আবাসন ছাড়াও আরও প্রায় ২ হাজার ২০০টি আবাসিক ভবন আংশিক বা আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ধ্বংসযজ্ঞের সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরে সাংবাদিকদের সামনে তিনি সরাসরি বলেন, ‘বহু পরিবারের জন্য এর সহজ অর্থ হলো এখন তাদের ফিরে যাওয়ার মতো কোনো ঘরবাড়িই আর অবশিষ্ট নেই।’

মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক আরও ব্যাখ্যা করেন যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকাগুলোতে এখনও স্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরে আসেনি। তিনি বলেন যে, ‘টানা অনিশ্চয়তা, ব্যাপক ধ্বংসলীলা এবং মাটির নিচে বা ধ্বংসস্তূপে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা অবিস্ফোরিত বোমার মারাত্মক হুমকি এখনও সাধারণ মানুষের জন্য নিজ এলাকায় নিরাপদ এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রত্যাবর্তনের পথে একটি বড় ধরনের অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।’ এই অদৃশ্য মাইন বা বোমার কারণে যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

অবশ্য এই চরম বৈরী পরিস্থিতি ও জীবনের ঝুঁকি থাকার পরেও বহু সাধারণ নাগরিক নিজেদের জন্মভিটায় ফিরে যাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং অস্থায়ী আশ্রয়শিবিরগুলো ছাড়ছেন। জাতিসংঘের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী গত রাতের মধ্যেই প্রায় ১৯ হাজার মানুষ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি আশ্রয়কেন্দ্র ত্যাগ করে নিজেদের এলাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। এর ফলে সাময়িকভাবে তৈরি করা বিভিন্ন আশ্রয়শিবিরে বর্তমানে অবস্থান করা মোট শরণার্থীর সংখ্যা হ্রাস পেয়ে প্রায় ৯০ হাজারে এসে দাঁড়িয়েছে।

সূত্র: ডন