তিস্তার পানি কমলেও বাড়ছে ভাঙ্গন
তিস্তা নদীতে গত ২৪ ঘণ্টায় পানি কমেছে ৪৩ সেন্টিমিটার। তবে, পানি বৃদ্ধি অব্যহত রয়েছে জেলার অন্যসব নদ-নদীতে। একইসঙ্গে অব্যহত রয়েছে ভাঙ্গন।
গাইবান্ধার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সোমবার বিকেল ৩টা থেকে মঙ্গলবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় তিস্তা নদীর পানি কাউনিয়া পয়েন্টে ৪৩ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়ে বিপৎসীমার ৪৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এ ছাড়া ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ফুলছড়ির তিস্তামুখ পয়েন্টে ১৯ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৭০ সেন্টিমিটার, ঘাঘট নদীর পানি জেলা শহরের নতুন ব্রিজ পয়েন্টে ২০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ১৩০ সেন্টিমিটার ও গোবিন্দগঞ্জের করতোয়া নদীর পানি চকরহিমাপুর স্টেশন পয়েন্টে ৫৩ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৩৫৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। চলমান বন্যার মওসুমে এখন পর্যন্ত গাইবান্ধায় কোনো নদ-নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি।
ভাঙ্গন সংশ্লিষ্ট এলাকার স্থানীয় ও জেলার পাউবো সূত্রে জানা গেছে, চলতি মওসুমে গাইবান্ধার প্রধান নদ-নদীগুলোতে পানি বৃদ্ধি ও কমার মধ্যে ভাঙ্গন অব্যহত রয়েছে। ভাঙন এলাকাগুলোতে প্রতিনিয়তই নতুন করে বিলীন হয়ে যাচ্ছে বসতভিটা, আবাদি জমি। গাইবান্ধার পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে চলমান পানি বৃদ্ধি শুরুর থেকে জেলার চার উপজেলার অন্তত ২৫টি পয়েন্টে ভাঙ্গন চলছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার সদর, সুন্দরগঞ্জ ও ফুলছড়ি উপজেলায় গত কয়েকদিনে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে পানি বৃদ্ধির প্রভাবে তীব্র ভাঙ্গনে নদী তীরবর্তী অন্তত আট শতাধিক পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে। নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বিপুল পরিমাণ আবাদী জমি। ভাঙন আতংকে দিন কাটাচ্ছেন নদী পাড়ের মানুষ।
ভাঙ্গন কবলিত এসব এলাকার মধ্যে তীব্র ভাঙ্গনের মুখে পড়েছে ফুলছড়ি উপজেলার ফজলুপুর ইউনিয়নের চৌমহন চর, খাটিয়ামারি ও কাউয়াবাদা এলাকা। ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙ্গনে ইতোমধ্যে এসব এলাকার অন্তত সাড়ে তিন শতাধিক পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কয়েকশত বিঘা আবাদি জমি ও বিপুল সংখ্যাক গাছপালা। এ ছাড়া ভাঙ্গনের শিকার হয়েছে কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের বালাসীঘাট, রসুলপুর, উড়িয়া ইউনিয়নের রতনপুর এলাকা।
তীব্র ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপসিয়া ইউনিয়নের ৩ ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডের লাল চামার ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কেরানীর চর এলাকা। অব্যহত ভাঙনে এখন পর্যন্ত অন্তত দুইশতাধিক পরিবার ভিটেমাটি হারিয়েছে। একশ’র অধিক বিঘা ফসলি জমি বিলিন হয়েছে। এ ছাড়া ভাঙনের শিকার হয়েছে কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়নের কালির খামার গ্রামের শখের বাজার, হরিপুর ইউনিয়নের চর চরিতাবাড়ী, রাঘব, চন্ডিপুর ইউনিয়নের উত্তর সীচা, কাপাসিয়া ইউনিয়নের লালচামার, কেরানির চর, মিন্টু মিয়ার চর ও বাদামের চর এলাকা।
অন্যদিকে, ভাঙ্গনে বসতভিটা হারিয়েছে মোল্লার চরের সিধাইল এলাকা। ইতোমধ্যে ২০ থেকে ৩০টি পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে অন্যত্রে সরিয়ে গেছে। ভাঙনের মুখে রয়েছে আরও অনেক পরিবার। এ ছাড়া সাঘাটা উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রামেও শুরু হয়েছে নদী ভাঙন। ভাঙন অব্যহত রয়েছে সাদুল্লাপুরের ঘাঘট নদীর তীরবর্তী কয়েকটি এলাকায়।
ফজলুপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য আব্দুল হাই বলেন, আমার ওয়ার্ডের দুটি এলাকা পুরোপুরি শেষই বলা চলে। এখানকার কাউয়াবাদা ও চৌমহন চরের ২০০-এর বেশি পরিবার ভিটেমাটি হারিয়েছে। ভাঙ্গন চলছেই। দুই দিক থেকে নদী ভাঙছে।
গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন, পানি বৃদ্ধির প্রভাবে গাইবান্ধার বিশেষ করে ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, তিস্তা ও ঘাঘটের নদী তীরবর্তী ও চরাঞ্চলের অন্তত ২৫টি পয়েন্টে ভাঙন শুরু হয়েছে। ভাঙ্গন ঠেকাতে জিওব্যাগসহ প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়ায় আমরা চেষ্টা করছি। তিনি জানান এখন পর্যন্ত জেলায় বড় বন্যার আশঙ্কা নেই।




















