Dhaka ০৯:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পের ছয় দিন পর ৩ বছরের শিশু জীবিত উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
8 / 100 SEO Score

 

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পের ছয় দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে তিন বছরের এক শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। জর্ডানের একটি উদ্ধারকারী দল তাকে উদ্ধার করেছে। বুধবার (১ জুলাই) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, লা গুয়াইরা রাজ্যে ধ্বংসস্তূপ থেকে শিশুটিকে টেনে বের করে আনছেন উদ্ধারকারীরা। এ সময় তারা উল্লাসে ফেটে পড়েন। দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, শিশুটির নাম ক্লিবার মোরান। তিনি এ ঘটনাকে আশার আলো হিসেবে অভিহিত করেছেন।

দেশটিতে গত বুধবার ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৯৪৩ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া ১০ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন এবং হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

জাতিসংঘ সতর্ক করেছে, এই মুহূর্তে ভেনেজুয়েলায় হাজার হাজার মানুষের জরুরি ভিত্তিতে খাদ্য ও আশ্রয়ের প্রয়োজন। নাসার স্যাটেলাইট তথ্যের প্রাথমিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ভূমিকম্পে ৫৮ হাজার ৮৭০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।

জর্ডানের বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, ক্লিবারকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। ভেনেজুয়েলার ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির প্রেসিডেন্ট জর্জ রদ্রিগেজ বলেন, রাজধানী কারাকাসে তার চিকিৎসা চলছে।

যেকোনো ভূমিকম্পের পর প্রাথমিক তিন দিন বা ৭২ ঘণ্টাকে ‘গোল্ডেন আওয়ার’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ সময়ের মধ্যেই ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষকে জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে। এরপর ধীরে ধীরে সেই সম্ভাবনা কমতে থাকে।

লা গুয়াইরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর অন্যতম। সেখানে অনেক স্থানীয় বাসিন্দা নিজেরাই উদ্ধারকাজ চালানোর চেষ্টা করছেন।

মঙ্গলবার জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা জানিয়েছে, লা গুয়াইরায় ব্যাপক খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছে। এলাকাটিতে মৌলিক সেবাগুলো ভেঙে পড়েছে এবং যোগাযোগব্যবস্থা বহুলাংশে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, আগামী ছয় মাসে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত ৩০ হাজার মানুষের জন্য সুরক্ষা, মৌলিক ত্রাণসামগ্রী ও অস্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। এ জন্য প্রাথমিকভাবে ১৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রয়োজন।

এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বলেছে, স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা ‘চরম চাপের’ মধ্যে রয়েছে। সংস্থাটির মুখপাত্র ক্রিশ্চিয়ান লিন্ডমেয়ার বলেছেন, টিকাদানের হার কম থাকায় হাম ও ডিপথেরিয়ার মতো টিকায় প্রতিরোধযোগ্য রোগের প্রাদুর্ভাবের ঝুঁকি বেড়েছে।

জর্জ রদ্রিগেজ বলেন, ক্লিবারের উদ্ধার প্রমাণ করে যে এখনও জীবিত মানুষ খুঁজে পাওয়ার আশা রয়েছে। বর্তমানে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলগুলো ধ্বংসস্তূপে অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে। লা গুয়াইরা এবং অন্যান্য রাজ্যে ইতোমধ্যে আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকোসহ বেশ কয়েকটি দেশের আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দল প্রশিক্ষিত কুকুর ও ভারী সরঞ্জাম নিয়ে জীবিতদের সন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে দেশটির মানুষ এখন পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলো দাফন করা শুরু করেছেন। এ ছাড়া অনেকে নিখোঁজ স্বজনদের মরদেহের অপেক্ষায় রয়েছেন।

সূত্র: বিবিসি

 

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পের ছয় দিন পর ৩ বছরের শিশু জীবিত উদ্ধার

Update Time : ০৮:৩৭:২০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬
8 / 100 SEO Score

 

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পের ছয় দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে তিন বছরের এক শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। জর্ডানের একটি উদ্ধারকারী দল তাকে উদ্ধার করেছে। বুধবার (১ জুলাই) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, লা গুয়াইরা রাজ্যে ধ্বংসস্তূপ থেকে শিশুটিকে টেনে বের করে আনছেন উদ্ধারকারীরা। এ সময় তারা উল্লাসে ফেটে পড়েন। দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, শিশুটির নাম ক্লিবার মোরান। তিনি এ ঘটনাকে আশার আলো হিসেবে অভিহিত করেছেন।

দেশটিতে গত বুধবার ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৯৪৩ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া ১০ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন এবং হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

জাতিসংঘ সতর্ক করেছে, এই মুহূর্তে ভেনেজুয়েলায় হাজার হাজার মানুষের জরুরি ভিত্তিতে খাদ্য ও আশ্রয়ের প্রয়োজন। নাসার স্যাটেলাইট তথ্যের প্রাথমিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ভূমিকম্পে ৫৮ হাজার ৮৭০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।

জর্ডানের বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, ক্লিবারকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। ভেনেজুয়েলার ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির প্রেসিডেন্ট জর্জ রদ্রিগেজ বলেন, রাজধানী কারাকাসে তার চিকিৎসা চলছে।

যেকোনো ভূমিকম্পের পর প্রাথমিক তিন দিন বা ৭২ ঘণ্টাকে ‘গোল্ডেন আওয়ার’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ সময়ের মধ্যেই ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষকে জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে। এরপর ধীরে ধীরে সেই সম্ভাবনা কমতে থাকে।

লা গুয়াইরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর অন্যতম। সেখানে অনেক স্থানীয় বাসিন্দা নিজেরাই উদ্ধারকাজ চালানোর চেষ্টা করছেন।

মঙ্গলবার জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা জানিয়েছে, লা গুয়াইরায় ব্যাপক খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছে। এলাকাটিতে মৌলিক সেবাগুলো ভেঙে পড়েছে এবং যোগাযোগব্যবস্থা বহুলাংশে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, আগামী ছয় মাসে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত ৩০ হাজার মানুষের জন্য সুরক্ষা, মৌলিক ত্রাণসামগ্রী ও অস্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। এ জন্য প্রাথমিকভাবে ১৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রয়োজন।

এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বলেছে, স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা ‘চরম চাপের’ মধ্যে রয়েছে। সংস্থাটির মুখপাত্র ক্রিশ্চিয়ান লিন্ডমেয়ার বলেছেন, টিকাদানের হার কম থাকায় হাম ও ডিপথেরিয়ার মতো টিকায় প্রতিরোধযোগ্য রোগের প্রাদুর্ভাবের ঝুঁকি বেড়েছে।

জর্জ রদ্রিগেজ বলেন, ক্লিবারের উদ্ধার প্রমাণ করে যে এখনও জীবিত মানুষ খুঁজে পাওয়ার আশা রয়েছে। বর্তমানে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলগুলো ধ্বংসস্তূপে অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে। লা গুয়াইরা এবং অন্যান্য রাজ্যে ইতোমধ্যে আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকোসহ বেশ কয়েকটি দেশের আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দল প্রশিক্ষিত কুকুর ও ভারী সরঞ্জাম নিয়ে জীবিতদের সন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে দেশটির মানুষ এখন পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলো দাফন করা শুরু করেছেন। এ ছাড়া অনেকে নিখোঁজ স্বজনদের মরদেহের অপেক্ষায় রয়েছেন।

সূত্র: বিবিসি