Dhaka ০৯:২২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
হাসপাতালের বাথরুম নিজেই পরিষ্কার করতে চাইলেন কৃষিমন্ত্রী সিগন্যালে ত্রুটি থাকায় তিন ঘণ্টায় ১৮ ট্রেন বিলম্বিত আটলান্টিক মহাসাগরে প্রাণ গেল ৮০ জনেরও বেশি অভিবাসীর পরকীয়ায় বাধা,পার্কে একত্রিত হয়ে বিষপান নতুন সংসার শুরু করেছেন হিরো আলমের সাবেক স্ত্রী রিয়া মনি অর্ধেক ঋণ, অর্ধেক অনুদানে উদ্যোক্তাদের সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা অর্থায়ন তরুণ উদ্যোক্তাদের সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক মানবতাবিরোধী অপরাধ: কাদের-সাদ্দামসহ ৭ জনের মামলার রায় আগামী সপ্তাহে মস্কোর দিয়ে ধেয়ে আসা ৩৭ ড্রোন ধ্বংস করল রাশিয়া সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু নয়, সবাইকে বাংলাদেশি ভাবার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

পাহাড়ি ঢলে সেতু ধসে রাঙ্গামাটি-বান্দরবান সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক
8 / 100 SEO Score

 

টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের তোড়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু ধসে রাঙ্গামাটির সঙ্গে বান্দরবান জেলার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। পাশাপাশি পানির তীব্র চাপে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার একটি রাবার ড্যামের বেড়িবাঁধ ভেঙে রাঙ্গামাটির রাজস্থলীসহ বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে পানিবন্দি হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ি ছড়া ও নদীগুলোতে পানি অস্বাভাবিক হারে বাড়তে শুরু করে। একপর্যায়ে পাহাড়ি ঢলের প্রবল স্রোতে বান্দরবান–রাঙ্গামাটি সড়কের ব্রিজঘাট সেতুর একটি বড় অংশ ধসে যায়। এতে ওই সড়কে সব ধরনের যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে জরুরি রোগী পরিবহন থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ ও সাধারণ মানুষের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিকল্প সড়ক না থাকায় ভোগান্তি আরও তীব্র হয়েছে।

অন্যদিকে, পানির চাপ সামলাতে না পেরে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের সুখবিলাস দুধপুকুরিয়া এলাকার রাবার ড্যামের বেড়িবাঁধটি ধসে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যেই আশপাশের নিম্নাঞ্চল ও রাঙ্গামাটির রাজস্থলী উপজেলার বেশ কিছু এলাকা প্লাবিত হয়। বহু বসতঘরে পানি ঢুকে পড়ায় মানুষ উঁচু স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছে। পাশাপাশি ফসলি জমি ও মাছের ঘেরের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রতি বছর বর্ষা এলেই তাদের এই পাহাড়ি ঢলের শিকার হতে হয়। কিন্তু এ নিয়ে কোনো স্থায়ী সমাধান বা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার বিষয়ে স্থানীয় পথচারী মো. আলী আকবর বলেন, ‘সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় দুই জেলার মানুষের চলাচল পুরোপুরি বন্ধ। রোগী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন। দ্রুত একটি বিকল্প ব্যবস্থা করা খুব জরুরি।’

হঠাৎ প্লাবনের বর্ণনা দিয়ে রাজস্থলী প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় বাসিন্দা মো. সুমন জানান, ‘রাতভর বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে হঠাৎ করেই বাঁধটি ভেঙে যায়। সকালে উঠে দেখি চারদিকে শুধু পানি। ঘরবাড়ি থেকে শুরু করে ফসল—সবই ক্ষতির মুখে পড়েছে। এখন সবচেয়ে বড় সংকট হলো যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া।’

পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে বান্দরবান সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মারুফা সুলতানা খান হীরামনি বলেন, ‘আমি নিজেই পরিবার নিয়ে পানিবন্দি অবস্থায় আছি। এর মধ্যেও সেতুটির বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পরিস্থিতি সার্বক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করছে স্থানীয় প্রশাসন। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে চলা এবং অপ্রয়োজনে পাহাড়ি ঢল বা স্রোতের মধ্যে চলাচল না করার জন্য সাধারণ মানুষকে সতর্ক করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো ইতোমধ্যে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং জরুরি পুনর্বাসন কার্যক্রমের প্রস্তুতি শুরু করেছে।

আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এসব এলাকায় নতুন করে পাহাড়ধস, জলাবদ্ধতা ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাই জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

 

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

nine + 18 =

About Author Information

পাহাড়ি ঢলে সেতু ধসে রাঙ্গামাটি-বান্দরবান সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

Update Time : ০৮:৫২:০৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
8 / 100 SEO Score

 

টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের তোড়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু ধসে রাঙ্গামাটির সঙ্গে বান্দরবান জেলার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। পাশাপাশি পানির তীব্র চাপে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার একটি রাবার ড্যামের বেড়িবাঁধ ভেঙে রাঙ্গামাটির রাজস্থলীসহ বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে পানিবন্দি হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ি ছড়া ও নদীগুলোতে পানি অস্বাভাবিক হারে বাড়তে শুরু করে। একপর্যায়ে পাহাড়ি ঢলের প্রবল স্রোতে বান্দরবান–রাঙ্গামাটি সড়কের ব্রিজঘাট সেতুর একটি বড় অংশ ধসে যায়। এতে ওই সড়কে সব ধরনের যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে জরুরি রোগী পরিবহন থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ ও সাধারণ মানুষের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিকল্প সড়ক না থাকায় ভোগান্তি আরও তীব্র হয়েছে।

অন্যদিকে, পানির চাপ সামলাতে না পেরে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের সুখবিলাস দুধপুকুরিয়া এলাকার রাবার ড্যামের বেড়িবাঁধটি ধসে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যেই আশপাশের নিম্নাঞ্চল ও রাঙ্গামাটির রাজস্থলী উপজেলার বেশ কিছু এলাকা প্লাবিত হয়। বহু বসতঘরে পানি ঢুকে পড়ায় মানুষ উঁচু স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছে। পাশাপাশি ফসলি জমি ও মাছের ঘেরের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রতি বছর বর্ষা এলেই তাদের এই পাহাড়ি ঢলের শিকার হতে হয়। কিন্তু এ নিয়ে কোনো স্থায়ী সমাধান বা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার বিষয়ে স্থানীয় পথচারী মো. আলী আকবর বলেন, ‘সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় দুই জেলার মানুষের চলাচল পুরোপুরি বন্ধ। রোগী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন। দ্রুত একটি বিকল্প ব্যবস্থা করা খুব জরুরি।’

হঠাৎ প্লাবনের বর্ণনা দিয়ে রাজস্থলী প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় বাসিন্দা মো. সুমন জানান, ‘রাতভর বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে হঠাৎ করেই বাঁধটি ভেঙে যায়। সকালে উঠে দেখি চারদিকে শুধু পানি। ঘরবাড়ি থেকে শুরু করে ফসল—সবই ক্ষতির মুখে পড়েছে। এখন সবচেয়ে বড় সংকট হলো যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া।’

পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে বান্দরবান সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মারুফা সুলতানা খান হীরামনি বলেন, ‘আমি নিজেই পরিবার নিয়ে পানিবন্দি অবস্থায় আছি। এর মধ্যেও সেতুটির বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পরিস্থিতি সার্বক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করছে স্থানীয় প্রশাসন। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে চলা এবং অপ্রয়োজনে পাহাড়ি ঢল বা স্রোতের মধ্যে চলাচল না করার জন্য সাধারণ মানুষকে সতর্ক করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো ইতোমধ্যে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং জরুরি পুনর্বাসন কার্যক্রমের প্রস্তুতি শুরু করেছে।

আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এসব এলাকায় নতুন করে পাহাড়ধস, জলাবদ্ধতা ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাই জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।