Dhaka ০৩:০৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিনা খরচে মালয়েশিয়া যাওয়ার সুযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
4 / 100 SEO Score

 

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আবারও খুলতে যাচ্ছে বাংলাদেশের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। নতুন করে কর্মী নেওয়ার শুরুতেই ১০ হাজার বাংলাদেশিকে বিমানভাড়াসহ কোনো ধরনের অভিবাসন ব্যয় ছাড়াই মালয়েশিয়ায় নেওয়ার বিষয়ে নীতিগত সম্মতি দিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। সরকারি রিক্রুটিং এজেন্সি বোয়েসেলের মাধ্যমে বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে এসব কর্মীকে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস রিলিজে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

মন্ত্রণালয় জানায়, বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়টিকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। এ লক্ষ্যে দুই দেশের মন্ত্রী পর্যায়ে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফরের সময়ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এবং দেশটির রাজা সুলতান ইব্রাহিম ইস্কান্দারের সঙ্গে শ্রমবাজার চালুর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

সরকারের দাবি, এসব আলোচনা ও নেগোসিয়েশনের ফলে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার বড় সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে।

প্রথম বহর যাবে বোয়েসেলের মাধ্যমে
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নতুন করে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর কার্যক্রম ১০ হাজার কর্মী দিয়ে শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই কর্মীদের সম্পূর্ণ বিনা অভিবাসন ব্যয়ে মালয়েশিয়ায় নেওয়ার বিষয়ে দেশটির কর্তৃপক্ষ নীতিগতভাবে সম্মতি দিয়েছে।

এসব কর্মীর বিমানভাড়াসহ কোনো ধরনের অভিবাসন ব্যয় থাকবে না। প্রথম বহর সরকারি রিক্রুটিং এজেন্সি বোয়েসেলের মাধ্যমে বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে তাদের মালয়েশিয়ায় পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তবে কর্মী পাঠানোর সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া এখনো চূড়ান্ত হয়নি। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ বিষয়ে যথাসময়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।

সুযোগ পাচ্ছে ৩৩৮ এজেন্সি
মালয়েশিয়া সরকারের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশটিতে কর্মী সরবরাহকারী প্রধান পাঁচ দেশের জন্য রিক্রুটিং এজেন্সির অনুমোদনের বিষয়টি নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে নেপাল ও বাংলাদেশের জন্য ২৫টি করে এবং ভারত, পাকিস্তান ও মিয়ানমারের জন্য ১০টি করে রিক্রুটিং এজেন্সির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশের জন্য সরাসরি নির্বাচিত ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সির পাশাপাশি আরও ৩১২টি এজেন্সিকে অ্যাসোসিয়েট রিক্রুটমেন্ট এজেন্সি হিসেবে কর্মী পাঠানোর সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। এর সঙ্গে সরকারি প্রতিষ্ঠান বোয়েসেলও থাকবে। সব মিলিয়ে মোট ৩৩৮টি বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সি মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে কর্মী পাঠানোর সুযোগ পাবে।

মন্ত্রণালয় বলছে, মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ, পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, দুর্নীতি দমন কমিশন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত উচ্চপর্যায়ের যৌথ কমিটি এজেন্সিগুলো যাচাই-বাছাই করেছে।

মেডিকেল সেন্টার থাকবে ১৬টি
শ্রমবাজার দ্রুত চালুর লক্ষ্যে বাংলাদেশ বিদ্যমান মেডিকেল সেন্টারের তালিকা পরিবর্তনের অনুরোধ জানিয়েছিল। বাংলাদেশের এ অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে মালয়েশিয়া অনুমোদিত বিদ্যমান তালিকা থেকে বিতর্কিত এবং সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এরপর ১৬টি মেডিকেল সেন্টারের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তবে এটি চূড়ান্ত তালিকা নয়। পরবর্তী সময়ে মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্য, মানবসম্পদ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে গঠিত একটি যৌথ প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে এসে এসব মেডিকেল সেন্টার সরেজমিনে পরিদর্শন করবে। এরপর নতুন নীতিমালার আলোকে পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়ন করা হবে।

শ্রমবাজার চালু নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও গুজবে কান না দিতে কর্মপ্রত্যাশীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি বা নির্দেশনা জারি না হওয়া পর্যন্ত কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন না করার পাশাপাশি মেডিকেল পরীক্ষা বা পাসপোর্ট জমা না দেওয়ার জন্য কর্মপ্রত্যাশীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

একই সঙ্গে মধ্যস্বত্বভোগী, দালাল ও প্রতারক চক্রের ব্যাপারেও কর্মপ্রত্যাশীদের সতর্ক করেছে সরকার। কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিমানবন্দরে হয়রানি বন্ধ, সরাসরি সংশ্লিষ্ট কোম্পানিতে কাজে যোগদান এবং মালয়েশিয়ার শ্রম আইন অনুযায়ী নিয়মিত বেতন-ভাতা, আবাসন ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এ ছাড়া অভিবাসন-সংক্রান্ত অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ২৪ ঘণ্টার মনিটরিং সেল ও হেল্প ডেস্ক স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

1 × 1 =

About Author Information

বিনা খরচে মালয়েশিয়া যাওয়ার সুযোগ

Update Time : ০৭:১৩:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬
4 / 100 SEO Score

 

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আবারও খুলতে যাচ্ছে বাংলাদেশের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। নতুন করে কর্মী নেওয়ার শুরুতেই ১০ হাজার বাংলাদেশিকে বিমানভাড়াসহ কোনো ধরনের অভিবাসন ব্যয় ছাড়াই মালয়েশিয়ায় নেওয়ার বিষয়ে নীতিগত সম্মতি দিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। সরকারি রিক্রুটিং এজেন্সি বোয়েসেলের মাধ্যমে বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে এসব কর্মীকে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস রিলিজে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

মন্ত্রণালয় জানায়, বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়টিকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। এ লক্ষ্যে দুই দেশের মন্ত্রী পর্যায়ে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফরের সময়ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এবং দেশটির রাজা সুলতান ইব্রাহিম ইস্কান্দারের সঙ্গে শ্রমবাজার চালুর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

সরকারের দাবি, এসব আলোচনা ও নেগোসিয়েশনের ফলে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার বড় সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে।

প্রথম বহর যাবে বোয়েসেলের মাধ্যমে
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নতুন করে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর কার্যক্রম ১০ হাজার কর্মী দিয়ে শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই কর্মীদের সম্পূর্ণ বিনা অভিবাসন ব্যয়ে মালয়েশিয়ায় নেওয়ার বিষয়ে দেশটির কর্তৃপক্ষ নীতিগতভাবে সম্মতি দিয়েছে।

এসব কর্মীর বিমানভাড়াসহ কোনো ধরনের অভিবাসন ব্যয় থাকবে না। প্রথম বহর সরকারি রিক্রুটিং এজেন্সি বোয়েসেলের মাধ্যমে বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে তাদের মালয়েশিয়ায় পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তবে কর্মী পাঠানোর সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া এখনো চূড়ান্ত হয়নি। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ বিষয়ে যথাসময়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।

সুযোগ পাচ্ছে ৩৩৮ এজেন্সি
মালয়েশিয়া সরকারের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশটিতে কর্মী সরবরাহকারী প্রধান পাঁচ দেশের জন্য রিক্রুটিং এজেন্সির অনুমোদনের বিষয়টি নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে নেপাল ও বাংলাদেশের জন্য ২৫টি করে এবং ভারত, পাকিস্তান ও মিয়ানমারের জন্য ১০টি করে রিক্রুটিং এজেন্সির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশের জন্য সরাসরি নির্বাচিত ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সির পাশাপাশি আরও ৩১২টি এজেন্সিকে অ্যাসোসিয়েট রিক্রুটমেন্ট এজেন্সি হিসেবে কর্মী পাঠানোর সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। এর সঙ্গে সরকারি প্রতিষ্ঠান বোয়েসেলও থাকবে। সব মিলিয়ে মোট ৩৩৮টি বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সি মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে কর্মী পাঠানোর সুযোগ পাবে।

মন্ত্রণালয় বলছে, মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ, পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, দুর্নীতি দমন কমিশন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত উচ্চপর্যায়ের যৌথ কমিটি এজেন্সিগুলো যাচাই-বাছাই করেছে।

মেডিকেল সেন্টার থাকবে ১৬টি
শ্রমবাজার দ্রুত চালুর লক্ষ্যে বাংলাদেশ বিদ্যমান মেডিকেল সেন্টারের তালিকা পরিবর্তনের অনুরোধ জানিয়েছিল। বাংলাদেশের এ অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে মালয়েশিয়া অনুমোদিত বিদ্যমান তালিকা থেকে বিতর্কিত এবং সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এরপর ১৬টি মেডিকেল সেন্টারের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তবে এটি চূড়ান্ত তালিকা নয়। পরবর্তী সময়ে মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্য, মানবসম্পদ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে গঠিত একটি যৌথ প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে এসে এসব মেডিকেল সেন্টার সরেজমিনে পরিদর্শন করবে। এরপর নতুন নীতিমালার আলোকে পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়ন করা হবে।

শ্রমবাজার চালু নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও গুজবে কান না দিতে কর্মপ্রত্যাশীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি বা নির্দেশনা জারি না হওয়া পর্যন্ত কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন না করার পাশাপাশি মেডিকেল পরীক্ষা বা পাসপোর্ট জমা না দেওয়ার জন্য কর্মপ্রত্যাশীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

একই সঙ্গে মধ্যস্বত্বভোগী, দালাল ও প্রতারক চক্রের ব্যাপারেও কর্মপ্রত্যাশীদের সতর্ক করেছে সরকার। কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিমানবন্দরে হয়রানি বন্ধ, সরাসরি সংশ্লিষ্ট কোম্পানিতে কাজে যোগদান এবং মালয়েশিয়ার শ্রম আইন অনুযায়ী নিয়মিত বেতন-ভাতা, আবাসন ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এ ছাড়া অভিবাসন-সংক্রান্ত অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ২৪ ঘণ্টার মনিটরিং সেল ও হেল্প ডেস্ক স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।