প্রতারণা ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড: আইপিটিভি ব্যবসার আড়ালে টিপু দুলাল
রাজধানী ঢাকায় আইপিটিভি ব্যবসার আড়ালে প্রতারণা, ব্ল্যাকমেইল ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে টিপু দুলাল মিঝি ওরফে রানা নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
ভুয়া সনদ ব্যবহার থেকে শুরু করে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ইতোমধ্যে নড়েচড়ে বসেছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়।
ফুটপাত থেকে আইপিটিভি মালিক
জানা গেছে, ২০১১ সালে কাজের সন্ধানে চাঁদপুর থেকে ঢাকায় আসেন টিপু দুলাল। শুরুতে ফুটপাতে জুতা বিক্রি করলেও অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন—এমন অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।

২০১৩ সালে ‘ম্যারেজ মিডিয়া’র নামে পত্রিকায় “পাত্র চাই” বিজ্ঞাপন দিয়ে নারীদের ব্যবহার করে দেহব্যবসা পরিচালনা এবং পরবর্তীতে আগত ব্যক্তিদের ব্ল্যাকমেইল করে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, এসব কর্মকাণ্ড গোপন রাখতে তিনি নিয়মিত বাসা পরিবর্তন করতেন।
ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও বিতর্ক
তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও নানা অভিযোগ রয়েছে। প্রথম স্ত্রী শিমুলের সংসারে দুই সন্তান থাকা অবস্থায় ২০১৬ সালে রুনা নামে আরেক নারীকে বিয়ে করেন তিনি।
অভিযোগ আছে, ঢাকার চিটাগাং রোড এলাকায় ভাড়া বাসায় ওই নারীকে দিয়ে দেহব্যবসা পরিচালনা করতেন।
আইপিটিভি ব্যবসায় প্রবেশ
পরবর্তীতে ‘আলোর জগত’ নামের একটি কথিত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মিডিয়ায় যুক্ত হন টিপু দুলাল। পরে ‘নিউজ টুয়েন্টি ওয়ান বাংলা’ নামে একটি আইপিটিভি চালু করেন।
গুরুতর অভিযোগ
- তার বিরুদ্ধে ওঠা প্রধান অভিযোগগুলো হলো—
- অন্যের মাধ্যমিক সনদ জাল করে নিজের নামে ব্যবহার।
- ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে মন্ত্রণালয়ে নিবন্ধনের চেষ্টা।
- জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগের নামে অর্থ আদায়।
- নারী উপস্থাপিকাদের ব্যবহার করে অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, আইপিটিভির ডিরেক্টর পদ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে চিটাগাং রোড এলাকার বহু মানুষের কাছ থেকে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, আইপিটিভির ডিরেক্টর পদ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে চিটাগাং রোড এলাকার বহু মানুষের কাছ থেকে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।প্রতারণার শিকারদের মধ্যে তার আত্মীয়স্বজনও রয়েছেন বলে জানা গেছে।
রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ
এছাড়া রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন সুবিধা আদায় করেছেন তিনি।

রার নামে প্রায় ৩৭ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সেই অর্থ দিয়ে নিজ গ্রামে বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণ করেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
মন্ত্রণালয়ের নজরে জাল সনদ
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, টিপু দুলালের জাল সনদের বিষয়টি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নজরে এসেছে। অভিযোগের প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শুরু হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
ভুক্তভোগীদের বক্তব্য
একাধিক ভুক্তভোগী বলেন,“মিডিয়ায় চাকরি ও পদ দেওয়ার কথা বলে আমাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে। পরে তার সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ পাওয়া যায়নি।”
অভিযুক্তের বক্তব্য পাওয়া যায়নি
এই বিষয়ে টিপু দুলালের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
তদন্তের অপেক্ষা
ফুটপাতের ব্যবসায়ী থেকে আইপিটিভি মালিক—টিপু দুলালের উত্থান যেমন দ্রুত, তেমনি তার কর্মকাণ্ড নিয়ে উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন।
এখন তদন্ত শেষে অভিযোগগুলোর সত্যতা কতটুকু প্রমাণিত হয় এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কী ব্যবস্থা নেয়, সেদিকেই নজর সবার।






















