চাল কম পেয়ে বিক্ষোভ জেলেদের
চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগে পটুয়াখালীর বাউফলে এক ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যানকে দেড় ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রেখেছিলেন জেলেরা। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলার কেশবপুর ইউনিয়নের মমিনপুর বাজারে এ ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে অসুস্থ হয়ে পড়া প্যানেল চেয়ারম্যান শাহজাহান গাজীকে উদ্ধার করে বাড়িতে নেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা চলাকালে সরকারি সহায়তার চাল মঙ্গলবার সকালে মমিনপুর বাজারে শুরু হয়। বরাদ্দ অনুযায়ী প্রতি জেলের ৮০ কেজি করে চাল পাওয়ার কথা। কিন্তু জেলেদের অভিযোগ, তাদের কেউ ৬০ কেজি, কেউ ৬৫ কেজি করে চাল পেয়েছেন। এ ছাড়া অনেক নিবন্ধিত জেলে তালিকাভুক্ত থাকলেও চাল পাননি।
২০২২ সাল থেকে কেশবপুর ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্বে আছেন ওই ইউপির ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য শাহজাহান গাজী। ওই বছর মারা যান তৎকালীন ইউপি চেয়ারম্যান সালেহ উদ্দিন পিকু। পরবর্তী নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে জয়ী জন এনামুল হক। ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে তিনি আত্মগোপনে। এ কারণে আবারও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন শাহজাহান গাজী।
জেলে আফাজ উদ্দীন ও ছালাম খানের ভাষ্য, নিষেধাজ্ঞার সময় সরকার খাদ্য সহায়তা দেয়। কিন্তু চাল বিতরণের সময় ১০০ টাকা করে দিতে হয়। না দিলে চাল পান না। আবার দিলেও নির্ধারিত পরিমাণের চাইতে কম দেওয়া হয়। এসব নিয়ে কথা বলছিলেন তারা, এ সময় চেয়ারম্যান উত্তেজিত হয়ে জেলেদের হুমকি দেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহজাহান গাজীর হুমকির প্রতিবাদে মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে জেলেরা তাঁকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। এলাকার লোকজন সাড়ে ৮টার দিকে তাঁকে উদ্ধার করে বাড়িতে পৌঁছে দেন। এ সময় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন।
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহজাহান গাজীর দাবি, জেলেদের চাল কম দেওয়া হয়নি। তাদের কাছ থেকে কোনো টাকাও নেওয়া হয়নি। স্থানীয় বিরোধের জেরে তাঁকে ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে।
বাউফলের নবাগত উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এম এম পারভেজের ভাষ্য, ১৩০০ জেলের জন্য এবার ১০৪ টন চাল বরাদ্দ হয়েছে। কেশবপুর ইউনিয়নের চাল তোলার জন্য ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহজাহান গাজীকে ডিও দেওয়া হয়েছে। প্রতি জেলেকে দুই মাসের জন্য তিনি ৮০ কেজি করে চাল দেবেন। এর ব্যতিক্রম হলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালেহ আহমেদ বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্তের পর আইনগত ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবেন।



















