Dhaka ০৯:৪৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পুড়ে গেছে মুখ-ঠোঁট, প্লাস্টিক সার্জারির প্রয়োজন হতে পারে মোজতবার

12 / 100 SEO Score

 

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথ বাহিনীর হামলার শিকার ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির মুখ এবং ঠোঁট দগ্ধ হয়ে গেছে। এই অবস্থায় তার প্লাস্টিক সার্জারির প্রয়োজন বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা।

মোজতবা খামেনির ঘনিষ্ঠ কয়েকজন কর্মকর্তা এবং ইরানি রাজনীতিবিদ আবদোলরেজা দাভারির বরাত দিয়ে শুক্রবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন-ইসরায়েলি বাহিনীর বোমায় মোজতবার একটি পা উড়ে গেছে, একটি বাহু গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, মুখমণ্ডল এবং ঠোঁট গুরুতরভাবে পুড়ে গেছে, ফলে কথা বলতে কষ্ট হচ্ছে তার। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য মোজতবা খামেনির প্লাস্টিক সার্জারি প্রয়োজন।

ইরানের পরমাণু প্রকল্প ও ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দেশটিতে যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। অভিযানের প্রথম দিনই মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হন ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, তার স্ত্রী এবং মোজতবা খামেনির স্ত্রী এবং সন্তান। মোজতবা নিজে হন গুরুতর আহত।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোতে খবর প্রকাশিত হয়েছিল যে খামেনি আহত হওয়ার ১১ দিন পর রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের আমন্ত্রণ ও উদ্যোগে রুশ সামরিক বাহিনীর একটি বিমানে মোজতবাকে মস্কো নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে নিউিইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে এ তথ্যের কোনো উল্লেখ নেই।

অবশ্য বর্তমানে খামেনি কোথায় চিকিৎসাধীন আছেন— সে সম্পর্কেও কিছু বলেনি দ্য নিউইয়র্ক টাইমস। তবে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরালের গোয়েন্দা নজরদারি এবং সম্ভাব্য থেকে বাঁচাতে খুব গোপন কোনো স্থানে রাখা হয়েছে তাকে।

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বর্তমানে তার চিকিৎসা দেখভালের দায়িত্বে আাছেন ইরানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, ‍যিনি নিজে একজন হার্ট সার্জন।

গুরুতর আহত অবস্থা, কথা বলার অসুবিধা এবং চিকিৎসাধীন থাকার কারণে মোজতবা ভিডিওবার্তা দেওয়া বন্ধ রেখেছেন। বার্তা তিনি দেন, তবে সেগুলো সব লিখিত বার্তা। বর্তমানে ইরানের প্রায় সব সিদ্ধান্ত নিচ্ছে দেশটির প্রতিরক্ষাবাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। তবে মোজতবাকে অবহিত না করে সেসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হয় না।

ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিজাদের সাবেক শীর্ষ সচিব এবং মোজতবার ঘনিষ্ঠ রাজনীতিবিদ আবদোলরেজা দাভারি এ প্রসঙ্গে নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেছেন, “মোজতবা যদিও সরকারের শীর্ষে অবস্থান করছেন, তবে অবস্থাগত কারণে তিনি এখন সরকারের সদস্যদের পরামর্শ এবং নির্দেশনার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। ইরানের যাবতীয় সিদ্ধান্ত এখন সামষ্টিকভাবেই নেওয়া হচ্ছে। আইআরজিসির জেনারেলরা বর্তমানে দেশ চালাচ্ছেন।

সূত্র : নিউইয়র্ক টাইমস, এনডিটিভি অনলাইন

 

Tag :

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

পুড়ে গেছে মুখ-ঠোঁট, প্লাস্টিক সার্জারির প্রয়োজন হতে পারে মোজতবার

Update Time : ০৯:৩৮:০৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
12 / 100 SEO Score

 

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথ বাহিনীর হামলার শিকার ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির মুখ এবং ঠোঁট দগ্ধ হয়ে গেছে। এই অবস্থায় তার প্লাস্টিক সার্জারির প্রয়োজন বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা।

মোজতবা খামেনির ঘনিষ্ঠ কয়েকজন কর্মকর্তা এবং ইরানি রাজনীতিবিদ আবদোলরেজা দাভারির বরাত দিয়ে শুক্রবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন-ইসরায়েলি বাহিনীর বোমায় মোজতবার একটি পা উড়ে গেছে, একটি বাহু গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, মুখমণ্ডল এবং ঠোঁট গুরুতরভাবে পুড়ে গেছে, ফলে কথা বলতে কষ্ট হচ্ছে তার। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য মোজতবা খামেনির প্লাস্টিক সার্জারি প্রয়োজন।

ইরানের পরমাণু প্রকল্প ও ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দেশটিতে যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। অভিযানের প্রথম দিনই মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হন ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, তার স্ত্রী এবং মোজতবা খামেনির স্ত্রী এবং সন্তান। মোজতবা নিজে হন গুরুতর আহত।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোতে খবর প্রকাশিত হয়েছিল যে খামেনি আহত হওয়ার ১১ দিন পর রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের আমন্ত্রণ ও উদ্যোগে রুশ সামরিক বাহিনীর একটি বিমানে মোজতবাকে মস্কো নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে নিউিইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে এ তথ্যের কোনো উল্লেখ নেই।

অবশ্য বর্তমানে খামেনি কোথায় চিকিৎসাধীন আছেন— সে সম্পর্কেও কিছু বলেনি দ্য নিউইয়র্ক টাইমস। তবে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরালের গোয়েন্দা নজরদারি এবং সম্ভাব্য থেকে বাঁচাতে খুব গোপন কোনো স্থানে রাখা হয়েছে তাকে।

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বর্তমানে তার চিকিৎসা দেখভালের দায়িত্বে আাছেন ইরানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, ‍যিনি নিজে একজন হার্ট সার্জন।

গুরুতর আহত অবস্থা, কথা বলার অসুবিধা এবং চিকিৎসাধীন থাকার কারণে মোজতবা ভিডিওবার্তা দেওয়া বন্ধ রেখেছেন। বার্তা তিনি দেন, তবে সেগুলো সব লিখিত বার্তা। বর্তমানে ইরানের প্রায় সব সিদ্ধান্ত নিচ্ছে দেশটির প্রতিরক্ষাবাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। তবে মোজতবাকে অবহিত না করে সেসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হয় না।

ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিজাদের সাবেক শীর্ষ সচিব এবং মোজতবার ঘনিষ্ঠ রাজনীতিবিদ আবদোলরেজা দাভারি এ প্রসঙ্গে নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেছেন, “মোজতবা যদিও সরকারের শীর্ষে অবস্থান করছেন, তবে অবস্থাগত কারণে তিনি এখন সরকারের সদস্যদের পরামর্শ এবং নির্দেশনার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। ইরানের যাবতীয় সিদ্ধান্ত এখন সামষ্টিকভাবেই নেওয়া হচ্ছে। আইআরজিসির জেনারেলরা বর্তমানে দেশ চালাচ্ছেন।

সূত্র : নিউইয়র্ক টাইমস, এনডিটিভি অনলাইন