ওপেক ছাড়ল আমিরাত, বাড়ল বিভেদ
পেট্রোলিয়াম উৎপাদনকারী দেশগুলোর জোট ওপেক ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটি ১৯৬৭ সাল থেকে ওপেকের সদস্য ছিল। আজ মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) আনুষ্ঠানিকভাবে আমিরাত ওপেক থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সংবাদমাধ্যম সিমাফোর জানিয়েছে, এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সৌদির সঙ্গে আমিরাতের বিভেদ আরও গভীর হলো। তবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় উপসাগরীয় আরব দেশগুলো হয়ত এ মুহূর্তে এ নিয়ে খুব বেশি ভাবছে না। তারা এখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার আলোচনার দিকেই চেয়ে আছে।
সিমাফোর বলেছে, আমিরাত দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে ওপেক জোট তাদের জন্য তেল উৎপাদনের যে কোটা নির্ধারণ করে রেখেছিল, সেটি তাদের আয়কে বাধাগ্রস্ত করছিল। কারণ ওপেকের বিধিনিষেধের কারণে দেশটি তাদের সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার করে তেল উৎপাদন করতে পারছিল না।
ফলে শুধুমাত্র ভালো সম্পর্ক বজায় রাখার কারণে ওপেকে আর থাকতে চাইছিল না আমিরাত।
ওপেক থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত সৌদির সঙ্গে আমিরাতের সম্পর্কে প্রভাব ফেলবে বলে জানিয়েছে সেমাফোর।
সৌদিকে ওপেকের নেতা হিসেবে দেখা হতো। আর তেল উৎপাদনের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধকে আমিরাত নিজেদের স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ হিসেবেও বিবেচনা করত।
সংবাদমাধ্যমটি বলেছে, আজকে সৌদিতে উপসাগরীয় দেশগুলোর নেতাদের সম্মেলন হয়েছে। কিন্তু এতে অনুপস্থিত ছিলেন আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ। তিনি সম্মেলনে অনুপস্থিত থাকা আবার ওপেক থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা— এ দুটি নির্দেশ করছে সৌদির ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের থেকে তিনি দূরত্ব তৈরি করেছেন। ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আমিরাত অন্য আরও সংগঠন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিতে পারে।
ওপেক থেকে বেরিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে সৌদি ও আমিরাতের মধ্যে দ্বন্দ্ব আরও গভীর হয়েছে বলেও উল্লেখ করেছে সংবাদমাধ্যমটি। সুদান এবং ইয়েমেন নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আগে থেকেই বিভক্তি ছিল।
এরমধ্যে ইরান যুদ্ধ দুই দেশের সম্পর্কে আরও প্রভাব ফেলেছে। এখন দেখা যাচ্ছে তাদের মধ্যে যে ঐক্য ছিল সেটি নাই হয়ে যাচ্ছে। আর আমিরাত এখন যেহেতু নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এরফলে এ বিভেদ আরও গভীর হবে।
সূত্র: সেমাফোর



















