Dhaka ০২:০১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৯ মে ২০২৬, ২৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দ্বন্দ্বে আটকে ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট লড়াই

ক্রীড়া প্রতিবেদক
12 / 100 SEO Score

 

দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক বৈরিতা ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে ভারত-পাকিস্তান দলের ক্রিকেট লড়াই এখন আর নিয়মিত দেখা যায় না। দ্বিপাক্ষিক সিরিজ বন্ধ থাকায় আন্তর্জাতিক আসরেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে বহুল প্রতীক্ষিত এই মহারণ।

কিন্তু সীমান্ত নিয়ে প্রতিবেশী দুই দেশের রাজনৈতিক বৈরিতার কারণে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) এবং এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) খেলা ছাড়া এই দুই দলের মাঠের লড়াইয়ে আজকাল দেখা যাচ্ছেনা। ২০১২ সাল থেকে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলছে না ভারত-পাকিস্তান।

গতকাল (মঙ্গলবার) ভারতীয় ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক চিঠিতে বলা হয়, ‘ভারতে অনুষ্ঠিত বহুপাক্ষিক ইভেন্টে পাকিস্তানি খেলোয়াড় ও দল অংশ নিতে পারবে। তবে দ্বিপাক্ষিক ক্রীড়া ইভেন্টের ক্ষেত্রে ভারতীয় দল পাকিস্তানে অংশ নেবে না।

একইভাবে পাকিস্তানি দলকেও ভারতে খেলতে দেওয়া হবে না। আমরা আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থাগুলোর প্রচলিত নিয়ম এবং আমাদের নিজস্ব ক্রীড়াবিদদের স্বার্থের জন্য পরিচালিত হই।’

অবশ্য আন্তর্জাতিক ইভেন্টেই কেবল পাকিস্তানি অ্যাথলেটদের ভারতে গিয়ে খেলতে দেখা যেত। ভারতীয়রা সে দেশে গিয়ে কোনো প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া থেকে লম্বা সময় ধরে বিরত রয়েছে।

এদিকে, ভারত-পাকিস্তানের মধ্যকার ক্রিকেটীয় সম্পর্ক নিয়ে দর্শকদের ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। কিন্তু পাকিস্তানে খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে অটুট থাকলে ভারতীয় ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তও খুব একটা প্রভাব রাখতে পারবে না।

ভিসা নিয়েও পদক্ষেপ নিয়েছে ভারত। আন্তর্জাতিক ইভেন্ট আয়োজনে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিতের লক্ষ্যে এমন সিদ্ধান্ত জানিয়ে ক্রীড়া মন্ত্রণালয় বলছে, ‘ক্রীড়াবিদ, দলীয় কর্মকর্তা, প্রযুক্তিগত কর্মী এবং আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থার কর্মকর্তাদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করা হবে।

আন্তর্জাতিক ফেডারেশনের কর্মকর্তাদের দায়িত্বকালীন সময়ে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত “মাল্টি-এন্ট্রি ভিসা” অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দেওয়া হবে, যাতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী তাদের সহজ যাতায়াত নিশ্চিত হয়।’

ভারতীয় ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নতুন ঘোষণা এমন এক সময়ে এসেছে, যখন দেশটি নিজেকে একটি বৈশ্বিক ক্রীড়া গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছে। ভারত ২০৩০ সালে কমনওয়েলথ গেমস আয়োজন করবে এবং ২০৩৬ অলিম্পিক ও ২০৩৮ এশিয়ান গেমসের স্বত্ব পেতে জোরালো প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।

এছাড়া ২০২৯ সালে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি এবং ২০৩১ সালে ওয়ানডে বিশ্বকাপও আয়োজন করবে ভারত।

Tag :

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

দ্বন্দ্বে আটকে ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট লড়াই

Update Time : ০৪:১৩:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬
12 / 100 SEO Score

 

দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক বৈরিতা ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে ভারত-পাকিস্তান দলের ক্রিকেট লড়াই এখন আর নিয়মিত দেখা যায় না। দ্বিপাক্ষিক সিরিজ বন্ধ থাকায় আন্তর্জাতিক আসরেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে বহুল প্রতীক্ষিত এই মহারণ।

কিন্তু সীমান্ত নিয়ে প্রতিবেশী দুই দেশের রাজনৈতিক বৈরিতার কারণে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) এবং এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) খেলা ছাড়া এই দুই দলের মাঠের লড়াইয়ে আজকাল দেখা যাচ্ছেনা। ২০১২ সাল থেকে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলছে না ভারত-পাকিস্তান।

গতকাল (মঙ্গলবার) ভারতীয় ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক চিঠিতে বলা হয়, ‘ভারতে অনুষ্ঠিত বহুপাক্ষিক ইভেন্টে পাকিস্তানি খেলোয়াড় ও দল অংশ নিতে পারবে। তবে দ্বিপাক্ষিক ক্রীড়া ইভেন্টের ক্ষেত্রে ভারতীয় দল পাকিস্তানে অংশ নেবে না।

একইভাবে পাকিস্তানি দলকেও ভারতে খেলতে দেওয়া হবে না। আমরা আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থাগুলোর প্রচলিত নিয়ম এবং আমাদের নিজস্ব ক্রীড়াবিদদের স্বার্থের জন্য পরিচালিত হই।’

অবশ্য আন্তর্জাতিক ইভেন্টেই কেবল পাকিস্তানি অ্যাথলেটদের ভারতে গিয়ে খেলতে দেখা যেত। ভারতীয়রা সে দেশে গিয়ে কোনো প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া থেকে লম্বা সময় ধরে বিরত রয়েছে।

এদিকে, ভারত-পাকিস্তানের মধ্যকার ক্রিকেটীয় সম্পর্ক নিয়ে দর্শকদের ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। কিন্তু পাকিস্তানে খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে অটুট থাকলে ভারতীয় ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তও খুব একটা প্রভাব রাখতে পারবে না।

ভিসা নিয়েও পদক্ষেপ নিয়েছে ভারত। আন্তর্জাতিক ইভেন্ট আয়োজনে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিতের লক্ষ্যে এমন সিদ্ধান্ত জানিয়ে ক্রীড়া মন্ত্রণালয় বলছে, ‘ক্রীড়াবিদ, দলীয় কর্মকর্তা, প্রযুক্তিগত কর্মী এবং আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থার কর্মকর্তাদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করা হবে।

আন্তর্জাতিক ফেডারেশনের কর্মকর্তাদের দায়িত্বকালীন সময়ে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত “মাল্টি-এন্ট্রি ভিসা” অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দেওয়া হবে, যাতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী তাদের সহজ যাতায়াত নিশ্চিত হয়।’

ভারতীয় ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নতুন ঘোষণা এমন এক সময়ে এসেছে, যখন দেশটি নিজেকে একটি বৈশ্বিক ক্রীড়া গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছে। ভারত ২০৩০ সালে কমনওয়েলথ গেমস আয়োজন করবে এবং ২০৩৬ অলিম্পিক ও ২০৩৮ এশিয়ান গেমসের স্বত্ব পেতে জোরালো প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।

এছাড়া ২০২৯ সালে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি এবং ২০৩১ সালে ওয়ানডে বিশ্বকাপও আয়োজন করবে ভারত।