Dhaka ০৫:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাসনাতকে ফোনে জেলা পরিষদ প্রশাসক: ‘টাকা আপনি খাইছেন, এটা বলিনি’

নিজস্ব প্রতিবেদক
8 / 100 SEO Score

 

কুমিল্লা জেলা পরিষদের তহবিল থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়ার সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। অর্থ বরাদ্দ নিয়ে ওই আলোচনার মধ্যে তাদের ৫৩ সেকেন্ডের ফোনালাপের একটি রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে উন্নয়ন কাজের জন্য বরাদ্দ পাওয়া অর্থ হাসনাত আবদুল্লাহ ব্যক্তিগতভাবে নিয়েছেন- এমন বক্তব্য তিনি দেননি বলে দাবি করেছেন জেলা পরিষদের প্রশাসক।

গতকাল শনিবার (৩০ মে) তাদের কথোপকথনের একটি কলরেকর্ড ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

ছড়িয়ে পড়া ৫৩ সেকেন্ডের কলরেকর্ডের শুরুতেই এমপি হাসনাত আবদুল্লাহকে বলতে শোনা গেছে, রাজস্ব খাত থেকে ৫ কোটি, ১০ কোটি টাকা দেবিদ্বারে গেছে.. এসময় মোস্তাক মিয়া বলে ওঠেন, না না, রাজস্ব খাত না, সব খাত মিলাইয়াই আমার জেলা পরিষদের মাধ্যমে আপনার এলাকায় (দেবিদ্বার) গেছে। আমি যেডা বলতে চাইছি যে আপনারা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন করছেন, এখন আপনার উপজেলায় গেছে ১০ কোটি, প্রায় ১০ কোটির কাছাকাছি, ওইখানে (মুরাদনগর) গেছে ১৫ কোটি। তো আমনে টাকা খাইছেন এটা তো আমি বলিনি। তখন হাসনাত আবদুল্লাহ প্রশ্ন করেন, আপনে কী বলছেন? এসময় মোস্তাক মিয়া বলেন, আমি বলছি ডেভেলপমেন্ট ওয়ার্কে আপনারা দুই উপজেলায় নিয়ে গেছেন ২৫ কোটি।

এসময় হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘আপনি এটা বলেননি।’ মোস্তাক মিয়া বলেন, ‘না না এটাই বলছি। মিডিয়াতে হয়তো পুরোটা আসে নাই।’ এ সময় হাসনাত বলেন, ‘আমি আপনার বক্তব্য শুনেছি।’ মোস্তাক বলেন, ‘না না, আমি মিন করতে চাইছি ওইটাই। আমি বলছি আপনার এলাকায় কাজের জন্য নিছেন, কাজ ছাড়া তো হবে না, আপনি খাইছেন এটা তো বলি নাই।’

এর আগে শনিবার (৩০ মে) কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমির হলরুমে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে বক্তব্য দেন জেলা পরিষদের প্রশাসক মোস্তাক মিয়া।

সেখানে তিনি বলেন, ‘জেলা পরিষদের রাজস্বখাত থেকে মুরাদনগরের আসিফ মাহমুদ ১৫ কোটি টাকা নিয়েছেন। আর হাসনাত আবদুল্লাহ নিয়েছেন ১০ কোটি টাকা। এই হলো সমন্বয়কদের অবস্থা। তারা চেয়েছিলেন যে বাংলাদেশে বৈষম্যবিরোধী একটা সমন্বয়ের রাজনীতি, কিন্তু তাদের মধ্যে সেটা ছিল না।’

তার ওই বক্তব্যের অংশ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। পরে হাসনাত আবদুল্লাহ ফোন করে মোস্তাক মিয়ার কাছে বিষয়টি জানতে চান। এ কথোপকথনের কলরেকর্ড ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

হাসনাত আবদুল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, এই বরাদ্দ স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে দেওয়া বিশেষ বরাদ্দ, যেটা জেলা পরিষদের মাধ্যমে ব্যয় হয়েছে। দেবিদ্বারকে ১০ কোটি নয়, ৫ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। যেটা এডিপি প্রকল্পের মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে। জেলা পরিষদের রাজস্বের সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা নাই। তিনি আরও বলেন, রাজস্ব খাত আর বিশেষ বরাদ্দ সম্পর্কে জ্ঞান থাকলে প্রশাসক এই কথা বলতেন না। আর উনি এমনভাবে বলেছেন মনে হচ্ছে টাকা আমরা নিজেরা পকেটে নিয়ে গেছি। অথচ দেবিদ্বারের বিভিন্ন কাজে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে জেলা পরিষদের প্রশাসক মোস্তাক মিয়া বলেন, দুই উপজেলায় ২৫ কোটি টাকা উন্নয়ন কাজের জন্য গেছে। কেউ ব্যক্তিগতভাবে টাকা নিয়ে খেয়ে ফেলেছে এটা বলিনি আমি।

 

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

হাসনাতকে ফোনে জেলা পরিষদ প্রশাসক: ‘টাকা আপনি খাইছেন, এটা বলিনি’

Update Time : ০৬:২০:২১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬
8 / 100 SEO Score

 

কুমিল্লা জেলা পরিষদের তহবিল থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়ার সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। অর্থ বরাদ্দ নিয়ে ওই আলোচনার মধ্যে তাদের ৫৩ সেকেন্ডের ফোনালাপের একটি রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে উন্নয়ন কাজের জন্য বরাদ্দ পাওয়া অর্থ হাসনাত আবদুল্লাহ ব্যক্তিগতভাবে নিয়েছেন- এমন বক্তব্য তিনি দেননি বলে দাবি করেছেন জেলা পরিষদের প্রশাসক।

গতকাল শনিবার (৩০ মে) তাদের কথোপকথনের একটি কলরেকর্ড ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

ছড়িয়ে পড়া ৫৩ সেকেন্ডের কলরেকর্ডের শুরুতেই এমপি হাসনাত আবদুল্লাহকে বলতে শোনা গেছে, রাজস্ব খাত থেকে ৫ কোটি, ১০ কোটি টাকা দেবিদ্বারে গেছে.. এসময় মোস্তাক মিয়া বলে ওঠেন, না না, রাজস্ব খাত না, সব খাত মিলাইয়াই আমার জেলা পরিষদের মাধ্যমে আপনার এলাকায় (দেবিদ্বার) গেছে। আমি যেডা বলতে চাইছি যে আপনারা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন করছেন, এখন আপনার উপজেলায় গেছে ১০ কোটি, প্রায় ১০ কোটির কাছাকাছি, ওইখানে (মুরাদনগর) গেছে ১৫ কোটি। তো আমনে টাকা খাইছেন এটা তো আমি বলিনি। তখন হাসনাত আবদুল্লাহ প্রশ্ন করেন, আপনে কী বলছেন? এসময় মোস্তাক মিয়া বলেন, আমি বলছি ডেভেলপমেন্ট ওয়ার্কে আপনারা দুই উপজেলায় নিয়ে গেছেন ২৫ কোটি।

এসময় হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘আপনি এটা বলেননি।’ মোস্তাক মিয়া বলেন, ‘না না এটাই বলছি। মিডিয়াতে হয়তো পুরোটা আসে নাই।’ এ সময় হাসনাত বলেন, ‘আমি আপনার বক্তব্য শুনেছি।’ মোস্তাক বলেন, ‘না না, আমি মিন করতে চাইছি ওইটাই। আমি বলছি আপনার এলাকায় কাজের জন্য নিছেন, কাজ ছাড়া তো হবে না, আপনি খাইছেন এটা তো বলি নাই।’

এর আগে শনিবার (৩০ মে) কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমির হলরুমে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে বক্তব্য দেন জেলা পরিষদের প্রশাসক মোস্তাক মিয়া।

সেখানে তিনি বলেন, ‘জেলা পরিষদের রাজস্বখাত থেকে মুরাদনগরের আসিফ মাহমুদ ১৫ কোটি টাকা নিয়েছেন। আর হাসনাত আবদুল্লাহ নিয়েছেন ১০ কোটি টাকা। এই হলো সমন্বয়কদের অবস্থা। তারা চেয়েছিলেন যে বাংলাদেশে বৈষম্যবিরোধী একটা সমন্বয়ের রাজনীতি, কিন্তু তাদের মধ্যে সেটা ছিল না।’

তার ওই বক্তব্যের অংশ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। পরে হাসনাত আবদুল্লাহ ফোন করে মোস্তাক মিয়ার কাছে বিষয়টি জানতে চান। এ কথোপকথনের কলরেকর্ড ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

হাসনাত আবদুল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, এই বরাদ্দ স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে দেওয়া বিশেষ বরাদ্দ, যেটা জেলা পরিষদের মাধ্যমে ব্যয় হয়েছে। দেবিদ্বারকে ১০ কোটি নয়, ৫ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। যেটা এডিপি প্রকল্পের মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে। জেলা পরিষদের রাজস্বের সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা নাই। তিনি আরও বলেন, রাজস্ব খাত আর বিশেষ বরাদ্দ সম্পর্কে জ্ঞান থাকলে প্রশাসক এই কথা বলতেন না। আর উনি এমনভাবে বলেছেন মনে হচ্ছে টাকা আমরা নিজেরা পকেটে নিয়ে গেছি। অথচ দেবিদ্বারের বিভিন্ন কাজে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে জেলা পরিষদের প্রশাসক মোস্তাক মিয়া বলেন, দুই উপজেলায় ২৫ কোটি টাকা উন্নয়ন কাজের জন্য গেছে। কেউ ব্যক্তিগতভাবে টাকা নিয়ে খেয়ে ফেলেছে এটা বলিনি আমি।