Dhaka ১২:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারত খুনি রাষ্ট্র, বললেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

12 / 100 SEO Score

 

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, সীমান্তে হত্যা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় ভারতকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। তিনি ভারতকে ‘খুনি রাষ্ট্র’ এবং বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ)কে ‘খুনি বাহিনী’ আখ্যায়িত করে সীমান্ত হত্যার বিচার দাবি করেন।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী কোনো ধরনের রাজনৈতিক নাটক বা ‘জজ মিয়া’ স্টাইল তদন্তের বিরোধিতা করে প্রকৃত খুনিদের চিহ্নিত করার দাবি জানিয়েছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অতীতে সাগর-রুনী হত্যাকাণ্ডের বিচার যেভাবে ঝুলে ছিল, এই হত্যাকাণ্ডের বিচার যেন কোনোভাবেই সেভাবে স্থবির না হয়ে যায়।

বেনাপোল সীমান্তে স্থানীয় শত শত মানুষের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই পরিদর্শনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ভারত ও বিএসএফেরর কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি ভারতকে ‘খুনি রাষ্ট্র’ এবং বিএসএফকে ‘খুনি বাহিনী’ হিসেবে আখ্যায়িত করে সীমান্ত হত্যার বিচার দাবি করেন।

গত ৩১ মে থেকে ২ জুন পর্যন্ত বেনাপোলের বিপরীতে হরিদাসপুর সীমান্ত দিয়ে বিএসএফ-এর জোরপূর্বক লোকজনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর (পুশইন) চেষ্টার ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানান তিনি।

সীমান্তবাসীর দুর্দশার চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, কর্মসংস্থানহীন সীমান্ত এলাকায় মানুষ জীবিকার তাগিদে নয়, বরং পরিস্থিতির শিকার হয়। তিনি সীমান্ত সুরক্ষায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে (বিজিবি) ঢেলে সাজানোর দাবি জানান।

তার ভাষ্যমতে, বিজিবিকে কেবল নামমাত্র অস্ত্রে সীমাবদ্ধ না রেখে আধুনিক ভারী অস্ত্র, পেট্রোলিং কার এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা ও বেতন বাড়াতে হবে।

সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, অপরাধী হলেও বিচারবহির্ভূতভাবে সীমান্তে কাউকে গুলি করে হত্যা করা আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন। সীমান্ত হত্যার প্রতিটি ঘটনার জন্য ভারতকে আন্তর্জাতিক আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর জন্য বর্তমান সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

পরিশেষে তিনি ৭১, ৯০ ও ২৪-এর গণ-আন্দোলনের চেতনা ধারণ করে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, রক্ত দিয়ে হলেও দেশের এক ইঞ্চি ভূখণ্ড বা সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত মেনে নেওয়া হবে না।

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ভারত খুনি রাষ্ট্র, বললেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

Update Time : ০২:৪১:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬
12 / 100 SEO Score

 

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, সীমান্তে হত্যা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় ভারতকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। তিনি ভারতকে ‘খুনি রাষ্ট্র’ এবং বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ)কে ‘খুনি বাহিনী’ আখ্যায়িত করে সীমান্ত হত্যার বিচার দাবি করেন।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী কোনো ধরনের রাজনৈতিক নাটক বা ‘জজ মিয়া’ স্টাইল তদন্তের বিরোধিতা করে প্রকৃত খুনিদের চিহ্নিত করার দাবি জানিয়েছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অতীতে সাগর-রুনী হত্যাকাণ্ডের বিচার যেভাবে ঝুলে ছিল, এই হত্যাকাণ্ডের বিচার যেন কোনোভাবেই সেভাবে স্থবির না হয়ে যায়।

বেনাপোল সীমান্তে স্থানীয় শত শত মানুষের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই পরিদর্শনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ভারত ও বিএসএফেরর কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি ভারতকে ‘খুনি রাষ্ট্র’ এবং বিএসএফকে ‘খুনি বাহিনী’ হিসেবে আখ্যায়িত করে সীমান্ত হত্যার বিচার দাবি করেন।

গত ৩১ মে থেকে ২ জুন পর্যন্ত বেনাপোলের বিপরীতে হরিদাসপুর সীমান্ত দিয়ে বিএসএফ-এর জোরপূর্বক লোকজনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর (পুশইন) চেষ্টার ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানান তিনি।

সীমান্তবাসীর দুর্দশার চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, কর্মসংস্থানহীন সীমান্ত এলাকায় মানুষ জীবিকার তাগিদে নয়, বরং পরিস্থিতির শিকার হয়। তিনি সীমান্ত সুরক্ষায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে (বিজিবি) ঢেলে সাজানোর দাবি জানান।

তার ভাষ্যমতে, বিজিবিকে কেবল নামমাত্র অস্ত্রে সীমাবদ্ধ না রেখে আধুনিক ভারী অস্ত্র, পেট্রোলিং কার এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা ও বেতন বাড়াতে হবে।

সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, অপরাধী হলেও বিচারবহির্ভূতভাবে সীমান্তে কাউকে গুলি করে হত্যা করা আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন। সীমান্ত হত্যার প্রতিটি ঘটনার জন্য ভারতকে আন্তর্জাতিক আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর জন্য বর্তমান সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

পরিশেষে তিনি ৭১, ৯০ ও ২৪-এর গণ-আন্দোলনের চেতনা ধারণ করে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, রক্ত দিয়ে হলেও দেশের এক ইঞ্চি ভূখণ্ড বা সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত মেনে নেওয়া হবে না।