Dhaka ০৮:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
8 / 100 SEO Score

 

জর্ডানের একটি কৌশলগত সামরিক ঘাঁটিতে দূরপাল্লার শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর ‘আইআরজিসি’ মহাকাশ শাখা দাবি করেছে যে মার্কিন সেনাদের অবস্থান করা ওই ঘাঁটিতে তাদের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে আঘাত হেনেছে।

এই হামলায় মার্কিন বিমান বাহিনীর অত্যাধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের হ্যাঙ্গার এবং একটি প্রধান কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছে। বুধবার (১০ জুন) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার লাইভে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

আইআরজিসি তাদের এক বিশেষ বিবৃতিতে দাবি করেছে যে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো উক্ত ঘাঁটির প্রধান চারটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে আঘাত হেনেছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই আক্রমণটি ছিল মূলত যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ববর্তী হামলার জবাবে নেওয়া ইরানের এক বৃহত্তর পাল্টা সামরিক অভিযানের চূড়ান্ত ধাপ।

এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে তারা মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলজুড়ে অবস্থিত মার্কিন বিমান ও নৌঘাঁটির মোট ২১টি লক্ষ্যবস্তুতে একযোগে হামলা চালিয়েছে এবং একই সময়ে ইরানের আকাশসীমায় অনুপ্রবেশ করা আমেরিকার একটি ‘এমকিউ-৯’ ড্রোনও সফলভাবে ভূপাতিত করেছে।

বিবৃতির শেষাংশে আইআরজিসি মার্কিন প্রশাসনকে কড়া ভাষায় সতর্ক করে বলেছে যে ওয়াশিংটনের পরবর্তী যেকোনো ধরনের সামরিক পদক্ষেপের জবাবে তাদের সশস্ত্র বাহিনী আরও ‘বিধ্বংসী ও চূড়ান্ত’ প্রতিক্রিয়া জানাতে পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে। এর বাইরে তারা স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে দুই পক্ষের মধ্যকার বর্তমান সংঘাতময় পরিস্থিতি যদি আরও উত্তপ্ত ও বিপজ্জনক রূপ নেয়, তবে তার সম্পূর্ণ দায়ভার এককভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকেই বহন করতে হবে।

ইরানের এই ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র অভিযানের মধ্যেই পার্শ্ববর্তী দেশ কুয়েতের সেনাবাহিনী এক জরুরি বার্তা প্রকাশ করেছে। কুয়েত সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফ জানিয়েছে যে দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বর্তমানে ‘আকাশপথে আসা শত্রুপক্ষের লক্ষ্যবস্তু’ প্রতিহত করার কাজে নিয়োজিত রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া একটি বিশেষ পোস্টে কুয়েতি সেনাবাহিনী দেশের সাধারণ বাসিন্দাদের সার্বিক নিরাপত্তা ও সুরক্ষাসংক্রান্ত সকল সরকারি নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলার জন্য জরুরি আহ্বান জানিয়েছে।

কুয়েত সরকারের পক্ষ থেকে সাধারণ নাগরিকদের প্রতি আরও অনুরোধ জানানো হয়েছে যে তারা যেন যুদ্ধের এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে যেকোনো ধরনের বিভ্রান্তি এড়াতে এবং সঠিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্যের জন্য শুধুমাত্র অনুমোদিত সরকারি সূত্রের ওপরই পূর্ণ নির্ভর করেন। মধ্যপ্রাচ্যের এই আকস্মিক ও বহুমুখী সামরিক সংঘাতের ফলে পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা চরম হুমকির মুখে পড়েছে।

 

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

Update Time : ০৪:৩২:৫৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
8 / 100 SEO Score

 

জর্ডানের একটি কৌশলগত সামরিক ঘাঁটিতে দূরপাল্লার শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর ‘আইআরজিসি’ মহাকাশ শাখা দাবি করেছে যে মার্কিন সেনাদের অবস্থান করা ওই ঘাঁটিতে তাদের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে আঘাত হেনেছে।

এই হামলায় মার্কিন বিমান বাহিনীর অত্যাধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের হ্যাঙ্গার এবং একটি প্রধান কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছে। বুধবার (১০ জুন) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার লাইভে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

আইআরজিসি তাদের এক বিশেষ বিবৃতিতে দাবি করেছে যে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো উক্ত ঘাঁটির প্রধান চারটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে আঘাত হেনেছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই আক্রমণটি ছিল মূলত যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ববর্তী হামলার জবাবে নেওয়া ইরানের এক বৃহত্তর পাল্টা সামরিক অভিযানের চূড়ান্ত ধাপ।

এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে তারা মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলজুড়ে অবস্থিত মার্কিন বিমান ও নৌঘাঁটির মোট ২১টি লক্ষ্যবস্তুতে একযোগে হামলা চালিয়েছে এবং একই সময়ে ইরানের আকাশসীমায় অনুপ্রবেশ করা আমেরিকার একটি ‘এমকিউ-৯’ ড্রোনও সফলভাবে ভূপাতিত করেছে।

বিবৃতির শেষাংশে আইআরজিসি মার্কিন প্রশাসনকে কড়া ভাষায় সতর্ক করে বলেছে যে ওয়াশিংটনের পরবর্তী যেকোনো ধরনের সামরিক পদক্ষেপের জবাবে তাদের সশস্ত্র বাহিনী আরও ‘বিধ্বংসী ও চূড়ান্ত’ প্রতিক্রিয়া জানাতে পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে। এর বাইরে তারা স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে দুই পক্ষের মধ্যকার বর্তমান সংঘাতময় পরিস্থিতি যদি আরও উত্তপ্ত ও বিপজ্জনক রূপ নেয়, তবে তার সম্পূর্ণ দায়ভার এককভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকেই বহন করতে হবে।

ইরানের এই ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র অভিযানের মধ্যেই পার্শ্ববর্তী দেশ কুয়েতের সেনাবাহিনী এক জরুরি বার্তা প্রকাশ করেছে। কুয়েত সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফ জানিয়েছে যে দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বর্তমানে ‘আকাশপথে আসা শত্রুপক্ষের লক্ষ্যবস্তু’ প্রতিহত করার কাজে নিয়োজিত রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া একটি বিশেষ পোস্টে কুয়েতি সেনাবাহিনী দেশের সাধারণ বাসিন্দাদের সার্বিক নিরাপত্তা ও সুরক্ষাসংক্রান্ত সকল সরকারি নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলার জন্য জরুরি আহ্বান জানিয়েছে।

কুয়েত সরকারের পক্ষ থেকে সাধারণ নাগরিকদের প্রতি আরও অনুরোধ জানানো হয়েছে যে তারা যেন যুদ্ধের এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে যেকোনো ধরনের বিভ্রান্তি এড়াতে এবং সঠিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্যের জন্য শুধুমাত্র অনুমোদিত সরকারি সূত্রের ওপরই পূর্ণ নির্ভর করেন। মধ্যপ্রাচ্যের এই আকস্মিক ও বহুমুখী সামরিক সংঘাতের ফলে পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা চরম হুমকির মুখে পড়েছে।