Dhaka ০৮:৩০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সীমান্ত সম্মেলন: বিএসএফের পুশইন চেষ্টার প্রতিবাদ জানাল বিজিবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
5 / 100 SEO Score

 

ভারতের নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত নিয়ে বিজিবি ও বিএসএফের মহাপরিচালক পর্যায়ের সীমান্ত সম্মেলন শুরু হয়েছে। সম্মেলনে দুই দেশের পক্ষ থেকে বিভিন্ন এজেন্ডা উপস্থাপন করা হয়। মঙ্গলবার সকাল ১১টায় প্রতিনিধি দলের ফটোসেশনের মাধ্যমে বৈঠকের মূল পর্ব শুরু হয়।

এর আগে গত সোমবার বিজিবির ডিজি মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকীর নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল নয়াদিল্লীতে সম্মেলনে অংশ নিতে পৌঁছে। অপরদিকে বিএসএফের প্রধান প্রবীণ কুমারের নেতৃত্বে ১২ সদস্যের প্রতিনিধি দল সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন।

সম্মেলন সূত্র জানায়, মঙ্গলবার সম্মেলনে বিজিবির ডিজি মেজর জেনারেল আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী সাম্প্রতিক সীমান্ত পরিস্থিতি ও এই পরিস্থিতির সমাধান নিয়ে বক্তব্য উত্থাপন করেন। ডিজি সম্প্রতি বিএসএফের পুশইনের চেষ্টা নিয়ে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকার জনগোষ্ঠীদের পরিস্থিতি তুলে ধরেন। এছাড়া সীমান্ত হত্যা নিয়েও উদ্বেগ জানান। এই হত্যার ঘটনা জিরোতে আনার জন্য দুই দেশকে আরো গভীরভাবে কাজ করার অনুরোধ জানান।

বিএসএফের ডিজি প্রবীন কুমার তার বক্তব্যে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিয়ে দুই দেশের অতীতের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ‘চোরাকারবারি, মাদক ব্যবসায়ী দুই দেশের শক্রু। অপরাধীদের কোনো দেশ নেই।’

পরে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিজিবির এডিজি (অপারেশন্স) বৈঠকের এজেন্ডা উত্থাপন করেন। ভারতীয় নাগরিক ও দুষ্কৃতকারী কর্তৃক সীমান্ত হত্যার তথ্য উত্থাপন করেন। সীমান্তে নন-ল্যাথাল (প্রাণঘাতি নয়) অস্ত্র ব্যবহারের প্রসঙ্গটি জোরালোভাবে উত্থাপন করা হয়। বলা হয় নন-ল্যাথাল অস্ত্র ব্যবহারের কথা থাকলেও সীমান্তে বেসামরিক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করা হচ্ছে। পুশইন বন্ধে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে দুই দেশকে একমত হওয়ার আহবান জানানো হয়। এছাড়া অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ, ভারত থেকে বাংলাদেশে বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য, অস্ত্র ও অন্যান্য নিষিদ্ধ পণ্যের চোরাচালান রোধ, মানবপাচার প্রতিরোধ, আন্তর্জাতিক সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে কাঁটাতারের বেড়াসহ অন্যান্য অননুমোদিত অবকাঠামো নির্মাণ বন্ধের এজেন্ডা উত্থাপন করা হয়। বিশেষ করে সম্প্রতি লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্তে জিরোলাইন থেকে ভারতের দেড়শ গজের মধ্যে স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টার বিষয়টি তুলে ধরা হয়। এজন্য ১৯৭৫ সালে দুই দেশের বিডিআর-বিএসএফ মধ্যে সীমান্ত চুক্তি স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া সীমান্ত এলাকায় চলমান বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের নিষ্পত্তির প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়।

বৈঠক সূত্র জানায়, উত্থাপন করা এজেন্ডাগুলোর মধ্যে তিনবিঘা করিডোর দিয়ে পাটগ্রাম থেকে দহগ্রাম পর্যন্ত অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল স্থাপন, আগরতলা থেকে আখাউড়াগামী ৪টি খালের বর্জ্য ও পানি নিষ্কাশনের জন্য ইটিপি স্থাপন, মুহুরীর চর এলাকায় স্থায়ী সীমান্ত পিলার নির্মাণ, আন্তঃসীমান্ত নদীগুলোর তীর সংরক্ষণ কার্যক্রম, আঞ্চলিক বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সম্ভাব্য অবস্থান, তাদের কর্মকা্ল সম্পর্কিত তথ্য আদান-প্রদান ও সন্ত্রাসীদের তালিকা জমা দেওয়া হয়। এছাড়া আকাশসীমা লঙ্ঘন করে অবৈধ ড্রোন ও হেলিকপ্টার উড্ডয়ন বন্ধ, ভারতীয় গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাংলাদেশ ও সীমান্তবর্তী অঞ্চল সম্পর্কে নেতিবাচক অপপ্রচার বন্ধ এবং উভয় বাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন ফলপ্রসূ উদ্যোগ গ্রহণের প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়।

পরে বিএসএফের পক্ষ থেকে বেশ কয়েকটি এজেন্ডা উত্থাপন করা হয়। এগুলো হলো বাংলাদেশি নাগরিকদের মাধ্যমে বিএসএফ সদস্য ও ভারতীয় বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা বন্ধ করার প্রস্তাব দেয়া হয়। ৪ হাজার ১৫৬ কিলোমিটার সীমান্তে গত ৬ মাসে বাংলাদেশী নাগরিক দ্বারা বেশ কয়েকজন বিএসএফ সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন বলে বলা হয়। এছাড়া ভারতের সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে বাংলাদেশ থেকে সন্ত্রাসী ও অপরাধীরা প্রবেশ করে চুরি, ডাকাতি ও লুটপাট চালায় বলে অভিযোগ করা হয়। ভারতের সীমান্তে যেসব উন্নয়নমূলক কাজ বিজিবির বাধার মুখে বন্ধ হয়ে আছে, ওইসব কাজ পুনরায় শুরু করার জন্য বিজিবির সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন। এছাড়া আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমন, ভারতে অপরাধীদের প্রবেশ রোধ, বাংলাদেশে থাকা ভারতীয় বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া, সীমান্ত অবকাঠামো উন্নয়ন, দুই বাহিনীর মধ্যে আস্থা বাড়ানোর পদক্ষেপ এবং সংস্কার-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে একাধিক এজেন্ডা বৈঠকে উত্থাপন করা হয় বিএসএফের পক্ষ থেকে।

 

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

সীমান্ত সম্মেলন: বিএসএফের পুশইন চেষ্টার প্রতিবাদ জানাল বিজিবি

Update Time : ০৪:৫৮:২৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
5 / 100 SEO Score

 

ভারতের নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত নিয়ে বিজিবি ও বিএসএফের মহাপরিচালক পর্যায়ের সীমান্ত সম্মেলন শুরু হয়েছে। সম্মেলনে দুই দেশের পক্ষ থেকে বিভিন্ন এজেন্ডা উপস্থাপন করা হয়। মঙ্গলবার সকাল ১১টায় প্রতিনিধি দলের ফটোসেশনের মাধ্যমে বৈঠকের মূল পর্ব শুরু হয়।

এর আগে গত সোমবার বিজিবির ডিজি মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকীর নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল নয়াদিল্লীতে সম্মেলনে অংশ নিতে পৌঁছে। অপরদিকে বিএসএফের প্রধান প্রবীণ কুমারের নেতৃত্বে ১২ সদস্যের প্রতিনিধি দল সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন।

সম্মেলন সূত্র জানায়, মঙ্গলবার সম্মেলনে বিজিবির ডিজি মেজর জেনারেল আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী সাম্প্রতিক সীমান্ত পরিস্থিতি ও এই পরিস্থিতির সমাধান নিয়ে বক্তব্য উত্থাপন করেন। ডিজি সম্প্রতি বিএসএফের পুশইনের চেষ্টা নিয়ে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকার জনগোষ্ঠীদের পরিস্থিতি তুলে ধরেন। এছাড়া সীমান্ত হত্যা নিয়েও উদ্বেগ জানান। এই হত্যার ঘটনা জিরোতে আনার জন্য দুই দেশকে আরো গভীরভাবে কাজ করার অনুরোধ জানান।

বিএসএফের ডিজি প্রবীন কুমার তার বক্তব্যে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিয়ে দুই দেশের অতীতের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ‘চোরাকারবারি, মাদক ব্যবসায়ী দুই দেশের শক্রু। অপরাধীদের কোনো দেশ নেই।’

পরে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিজিবির এডিজি (অপারেশন্স) বৈঠকের এজেন্ডা উত্থাপন করেন। ভারতীয় নাগরিক ও দুষ্কৃতকারী কর্তৃক সীমান্ত হত্যার তথ্য উত্থাপন করেন। সীমান্তে নন-ল্যাথাল (প্রাণঘাতি নয়) অস্ত্র ব্যবহারের প্রসঙ্গটি জোরালোভাবে উত্থাপন করা হয়। বলা হয় নন-ল্যাথাল অস্ত্র ব্যবহারের কথা থাকলেও সীমান্তে বেসামরিক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করা হচ্ছে। পুশইন বন্ধে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে দুই দেশকে একমত হওয়ার আহবান জানানো হয়। এছাড়া অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ, ভারত থেকে বাংলাদেশে বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য, অস্ত্র ও অন্যান্য নিষিদ্ধ পণ্যের চোরাচালান রোধ, মানবপাচার প্রতিরোধ, আন্তর্জাতিক সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে কাঁটাতারের বেড়াসহ অন্যান্য অননুমোদিত অবকাঠামো নির্মাণ বন্ধের এজেন্ডা উত্থাপন করা হয়। বিশেষ করে সম্প্রতি লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্তে জিরোলাইন থেকে ভারতের দেড়শ গজের মধ্যে স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টার বিষয়টি তুলে ধরা হয়। এজন্য ১৯৭৫ সালে দুই দেশের বিডিআর-বিএসএফ মধ্যে সীমান্ত চুক্তি স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া সীমান্ত এলাকায় চলমান বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের নিষ্পত্তির প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়।

বৈঠক সূত্র জানায়, উত্থাপন করা এজেন্ডাগুলোর মধ্যে তিনবিঘা করিডোর দিয়ে পাটগ্রাম থেকে দহগ্রাম পর্যন্ত অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল স্থাপন, আগরতলা থেকে আখাউড়াগামী ৪টি খালের বর্জ্য ও পানি নিষ্কাশনের জন্য ইটিপি স্থাপন, মুহুরীর চর এলাকায় স্থায়ী সীমান্ত পিলার নির্মাণ, আন্তঃসীমান্ত নদীগুলোর তীর সংরক্ষণ কার্যক্রম, আঞ্চলিক বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সম্ভাব্য অবস্থান, তাদের কর্মকা্ল সম্পর্কিত তথ্য আদান-প্রদান ও সন্ত্রাসীদের তালিকা জমা দেওয়া হয়। এছাড়া আকাশসীমা লঙ্ঘন করে অবৈধ ড্রোন ও হেলিকপ্টার উড্ডয়ন বন্ধ, ভারতীয় গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাংলাদেশ ও সীমান্তবর্তী অঞ্চল সম্পর্কে নেতিবাচক অপপ্রচার বন্ধ এবং উভয় বাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন ফলপ্রসূ উদ্যোগ গ্রহণের প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়।

পরে বিএসএফের পক্ষ থেকে বেশ কয়েকটি এজেন্ডা উত্থাপন করা হয়। এগুলো হলো বাংলাদেশি নাগরিকদের মাধ্যমে বিএসএফ সদস্য ও ভারতীয় বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা বন্ধ করার প্রস্তাব দেয়া হয়। ৪ হাজার ১৫৬ কিলোমিটার সীমান্তে গত ৬ মাসে বাংলাদেশী নাগরিক দ্বারা বেশ কয়েকজন বিএসএফ সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন বলে বলা হয়। এছাড়া ভারতের সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে বাংলাদেশ থেকে সন্ত্রাসী ও অপরাধীরা প্রবেশ করে চুরি, ডাকাতি ও লুটপাট চালায় বলে অভিযোগ করা হয়। ভারতের সীমান্তে যেসব উন্নয়নমূলক কাজ বিজিবির বাধার মুখে বন্ধ হয়ে আছে, ওইসব কাজ পুনরায় শুরু করার জন্য বিজিবির সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন। এছাড়া আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমন, ভারতে অপরাধীদের প্রবেশ রোধ, বাংলাদেশে থাকা ভারতীয় বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া, সীমান্ত অবকাঠামো উন্নয়ন, দুই বাহিনীর মধ্যে আস্থা বাড়ানোর পদক্ষেপ এবং সংস্কার-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে একাধিক এজেন্ডা বৈঠকে উত্থাপন করা হয় বিএসএফের পক্ষ থেকে।