Dhaka ০১:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দক্ষিণ কোরিয়ার জয়, এশিয়ার প্রথম সাফল্য

স্পোর্টস ডেস্ক
8 / 100 SEO Score

 

ফিফা বিশ্বকাপে বেশ কয়েকটি এশিয়ার দল প্রতিযোগিতা করছে। এখন পর্যন্ত মাঠে নেমেছে দক্ষিণ কোরিয়া। আর নেমেই জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে তারা। চেক প্রজাতন্ত্রকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছে দলটি। যদিও কষ্ট করতে হয়েছে জয় পেতে।

বৃহস্পতিবার (১২ জুন) মেক্সিকোর গুয়াদালাহারা স্টেডিয়ামে প্রথমার্ধের খেলা শেষ হয় গোলশূন্য সমতায়। দ্বিতিয়ার্ধের ৫৯ মিনিটে এগিয়ে যায় চেক প্রজাতন্ত্র। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে দুই গোল করে নিজেদের জয় নিশ্চিত করে কোরিয়া।

প্রথমার্ধে একাধিক আক্রমণ করেও গোলের দেখা পায়নি দক্ষিণ কোরিয়া। বিশেষ করতে দলটির তারকা সন-হিউং-মিন হাতছাড়া করেন একাধিক সুযোগ। চতুর্থ মিনিটে প্রথমবার বল স্পর্শ করেই অফসাইডের ফাঁদে পড়েন। ৮ মিনিটে লি কাং-ইন এবং সন-হিউং-মিন এক টাচে বল আদান-প্রদান করে ব্যাক থ্রির সামনে কিছু জায়গা তৈরি করেন। এরপর ডান প্রালি জে-সুংকে ফাউল করে থামান লাদিস্লাভ ক্রেইচি। ফ্রি-কিক থেকে দেওয়া ক্রসটি অবশ্য ভালো হয়নি। ১০ মিনিটে কর্নার পেলেও কাজে লাগাতে পারেনি কোরিয়া। লি-জে সাং ১২ মিনিটে পাস দেন সন-হিউং-মিনকে। তবে তিনি বল নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যর্থ হন। ১৪ মিনিটে জে-সাং বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত এক কিক নিলেও সেটি ঠেকিয়ে দেন চেকের গোলকিপার কোভার।

চেক প্রজাতন্ত্রের হয়ে প্যাট্রিক শিক ১৬ মিনিটে নিজের ও দলের প্রথম সুযোগ তৈরি করেন। কিন্তু তাকে আটকে রাখেন কিম মিন-জে। ফলে তিনি শট নেওয়ার সুযোগই পাননি। এরপর ডান দিক থেকে ফ্রি-কিক নেন লি কাং-ইন। তবে শটটি পোস্টের পাশ দিয়ে বাইরে চলে যায়।

২৩ মিনিটে কুলিং ব্রেক দেওয়া হয়। ততক্ষণ পর্যন্ত কোনো দলই গোলের দেখা পায়নি। হাই প্রেসে খেলার চেষ্টা করে চেক প্রজাতন্ত্র। কিন্তু সেই চাপও সামাল দেয় কোরিয়ার রক্ষণভাগের খেলোয়াড়রা।

৩৮ মিনিটে সন হিউং-মিন বক্সের বাইরে থেকে শট নেন, কিন্তু বলটি একটু বেশি উঁচু হয়ে যায় এবং গোলরক্ষক কোভার সহজেই তা ছেড়ে দেন। এরপরও কোরিয়া একাধিক আক্রমণ সাজিয়েও সফল হতে পারেনি।

যোগ করা সময়ে দারুণ সুযোগ পেয়ে আবারও হাতছাড়া করেন কোরিয়ান তারকা সন। দারুণ একটি সুযোগ পেয়েছিলেন ম্যাচে প্রথম গোল করার জন্য, কিন্তু তিনি পা পিছলে পড়ে যান। শট নেওয়ার ভান করে বাম পাশে থাকা লে কাং-ইনকে বল ছেড়ে দেন, এবং আবার রিটার্ন পাস পাওয়ার জন্য সঠিক জায়গায় ছিলেন। তবে ঠিক সেই মুহূর্তে ভারসাম্য হারিয়ে ফেলায় তিনি শট নিতে পারেননি। প্রথমার্ধের খেলা শেষে কোনো দলই গোল করতে পারেনি।

তবে বিরতির পর ৫৯ মিনিটে মিনিটে চেকের অধিনায়ক লাদিস্লাভ ক্রেইচি গোল করে এগিয়ে নেন দলকে। ভ্লাদিমির কুফাল অন্য প্রান্ত থেকে লং থ্রো করেন। আর সেখানে উঠে এসে হেড করেন অধিনায়ক ক্রেইচি। বলটি কাছের পোস্টে জালে পাঠিয়ে দেন তিনি। গোলরক্ষককে এখানে কোনো সুযোগই দেননি তিনি।

গোল হজম করে ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ায় কোরিয়া। ৮ মিনিটের ব্যবধানে ম্যাচে সমতা ফিরিয়ে আনে এশিয়ার দলটি। ম্যাচের ৬৭ মিনিটে হোয়াং ইন-বম গোল করে কোরিয়াকে সমতায় ফেরান। চেকের রক্ষণভাগের দুই খেলোয়াড়ের মাঝে ফাঁকা জায়গা খুঁজে পেয়ে সেটি কাজে লাগান। ভেতরে ঢুকে বাধ্য করেন গোলরক্ষক ও ডিফেন্ডারদের এগিয়ে আসতে। পরে দূরের কোণে চিপ শটে বল পাঠান।

৭৭ মিনিটে অ্যাডাম হ্লোজ্যাক বাম প্রান্তে বক্সের কাছাকাছি ফাউলের শিকার হন। এটি ছিল ডিফেন্সের জন্য আরেকটি বিপদ তৈরি করার সুযোগ। ফ্রি-কিক নেন মিকাল স্যাডিলেক এবং টমাস সৌচেক গোল করলেও তাৎক্ষণিক অফসাইডে সেটি বাতিল করে দেন রেফারি।

৮০ মিনিটে দক্ষিণ কোরিয়া টানা দ্বিতীয় গোল করে ম্যাচে এগিয়ে যায়। ৮০তম মিনিটে দ্বিতীয় গোলটি করেছেন ওহ হিউয়ান-গিউ। দারুণ প্রথম টাচ পাসে বল ওপরে উঠে যায় এবং সেখানে ফাঁকা জায়গায় থাকা প্রথম গোল করা ইন-বম বল পান। তিনি ডান দিক থেকে দ্রুত বল কাট ব্যাক করেন, আর হিউয়ান-গিউ সামনে দৌড়ে এসে কাছের পোস্টে স্লাইড করে বল জালে পাঠিয়ে দেন। অতিরিক্ত সময়ের তৃতীয় মিনিটে মিকাল স্যাডলিকের এর জন্য সুযোগ তৈরি হয়। বক্সের কিনারায় বল কাটব্যাক হয়ে আসলে তিনি প্রথম টাচেই শট নেন, কিন্তু কোরিয়ার ডিফেন্ডার কিম-মিন জে দ্রুত আটকে দেন। ফলে শেষ হয়ে যায় চেকের ম্যাচে ফেরার আশা। ২-১ ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড় দক্ষিণ কোরিয়া।

আগামী ১৮ জুন দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে পরবর্তী ম্যাচে মাঠে নামবে চেক প্রজাতন্ত্র। পরদিন ১৯ তারিখ স্বাগতিক মেক্সিকোর মুখোমুখি হবে দক্ষিণ কোরিয়া।

 

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

দক্ষিণ কোরিয়ার জয়, এশিয়ার প্রথম সাফল্য

Update Time : ০৯:৫৬:২১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬
8 / 100 SEO Score

 

ফিফা বিশ্বকাপে বেশ কয়েকটি এশিয়ার দল প্রতিযোগিতা করছে। এখন পর্যন্ত মাঠে নেমেছে দক্ষিণ কোরিয়া। আর নেমেই জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে তারা। চেক প্রজাতন্ত্রকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছে দলটি। যদিও কষ্ট করতে হয়েছে জয় পেতে।

বৃহস্পতিবার (১২ জুন) মেক্সিকোর গুয়াদালাহারা স্টেডিয়ামে প্রথমার্ধের খেলা শেষ হয় গোলশূন্য সমতায়। দ্বিতিয়ার্ধের ৫৯ মিনিটে এগিয়ে যায় চেক প্রজাতন্ত্র। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে দুই গোল করে নিজেদের জয় নিশ্চিত করে কোরিয়া।

প্রথমার্ধে একাধিক আক্রমণ করেও গোলের দেখা পায়নি দক্ষিণ কোরিয়া। বিশেষ করতে দলটির তারকা সন-হিউং-মিন হাতছাড়া করেন একাধিক সুযোগ। চতুর্থ মিনিটে প্রথমবার বল স্পর্শ করেই অফসাইডের ফাঁদে পড়েন। ৮ মিনিটে লি কাং-ইন এবং সন-হিউং-মিন এক টাচে বল আদান-প্রদান করে ব্যাক থ্রির সামনে কিছু জায়গা তৈরি করেন। এরপর ডান প্রালি জে-সুংকে ফাউল করে থামান লাদিস্লাভ ক্রেইচি। ফ্রি-কিক থেকে দেওয়া ক্রসটি অবশ্য ভালো হয়নি। ১০ মিনিটে কর্নার পেলেও কাজে লাগাতে পারেনি কোরিয়া। লি-জে সাং ১২ মিনিটে পাস দেন সন-হিউং-মিনকে। তবে তিনি বল নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যর্থ হন। ১৪ মিনিটে জে-সাং বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত এক কিক নিলেও সেটি ঠেকিয়ে দেন চেকের গোলকিপার কোভার।

চেক প্রজাতন্ত্রের হয়ে প্যাট্রিক শিক ১৬ মিনিটে নিজের ও দলের প্রথম সুযোগ তৈরি করেন। কিন্তু তাকে আটকে রাখেন কিম মিন-জে। ফলে তিনি শট নেওয়ার সুযোগই পাননি। এরপর ডান দিক থেকে ফ্রি-কিক নেন লি কাং-ইন। তবে শটটি পোস্টের পাশ দিয়ে বাইরে চলে যায়।

২৩ মিনিটে কুলিং ব্রেক দেওয়া হয়। ততক্ষণ পর্যন্ত কোনো দলই গোলের দেখা পায়নি। হাই প্রেসে খেলার চেষ্টা করে চেক প্রজাতন্ত্র। কিন্তু সেই চাপও সামাল দেয় কোরিয়ার রক্ষণভাগের খেলোয়াড়রা।

৩৮ মিনিটে সন হিউং-মিন বক্সের বাইরে থেকে শট নেন, কিন্তু বলটি একটু বেশি উঁচু হয়ে যায় এবং গোলরক্ষক কোভার সহজেই তা ছেড়ে দেন। এরপরও কোরিয়া একাধিক আক্রমণ সাজিয়েও সফল হতে পারেনি।

যোগ করা সময়ে দারুণ সুযোগ পেয়ে আবারও হাতছাড়া করেন কোরিয়ান তারকা সন। দারুণ একটি সুযোগ পেয়েছিলেন ম্যাচে প্রথম গোল করার জন্য, কিন্তু তিনি পা পিছলে পড়ে যান। শট নেওয়ার ভান করে বাম পাশে থাকা লে কাং-ইনকে বল ছেড়ে দেন, এবং আবার রিটার্ন পাস পাওয়ার জন্য সঠিক জায়গায় ছিলেন। তবে ঠিক সেই মুহূর্তে ভারসাম্য হারিয়ে ফেলায় তিনি শট নিতে পারেননি। প্রথমার্ধের খেলা শেষে কোনো দলই গোল করতে পারেনি।

তবে বিরতির পর ৫৯ মিনিটে মিনিটে চেকের অধিনায়ক লাদিস্লাভ ক্রেইচি গোল করে এগিয়ে নেন দলকে। ভ্লাদিমির কুফাল অন্য প্রান্ত থেকে লং থ্রো করেন। আর সেখানে উঠে এসে হেড করেন অধিনায়ক ক্রেইচি। বলটি কাছের পোস্টে জালে পাঠিয়ে দেন তিনি। গোলরক্ষককে এখানে কোনো সুযোগই দেননি তিনি।

গোল হজম করে ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ায় কোরিয়া। ৮ মিনিটের ব্যবধানে ম্যাচে সমতা ফিরিয়ে আনে এশিয়ার দলটি। ম্যাচের ৬৭ মিনিটে হোয়াং ইন-বম গোল করে কোরিয়াকে সমতায় ফেরান। চেকের রক্ষণভাগের দুই খেলোয়াড়ের মাঝে ফাঁকা জায়গা খুঁজে পেয়ে সেটি কাজে লাগান। ভেতরে ঢুকে বাধ্য করেন গোলরক্ষক ও ডিফেন্ডারদের এগিয়ে আসতে। পরে দূরের কোণে চিপ শটে বল পাঠান।

৭৭ মিনিটে অ্যাডাম হ্লোজ্যাক বাম প্রান্তে বক্সের কাছাকাছি ফাউলের শিকার হন। এটি ছিল ডিফেন্সের জন্য আরেকটি বিপদ তৈরি করার সুযোগ। ফ্রি-কিক নেন মিকাল স্যাডিলেক এবং টমাস সৌচেক গোল করলেও তাৎক্ষণিক অফসাইডে সেটি বাতিল করে দেন রেফারি।

৮০ মিনিটে দক্ষিণ কোরিয়া টানা দ্বিতীয় গোল করে ম্যাচে এগিয়ে যায়। ৮০তম মিনিটে দ্বিতীয় গোলটি করেছেন ওহ হিউয়ান-গিউ। দারুণ প্রথম টাচ পাসে বল ওপরে উঠে যায় এবং সেখানে ফাঁকা জায়গায় থাকা প্রথম গোল করা ইন-বম বল পান। তিনি ডান দিক থেকে দ্রুত বল কাট ব্যাক করেন, আর হিউয়ান-গিউ সামনে দৌড়ে এসে কাছের পোস্টে স্লাইড করে বল জালে পাঠিয়ে দেন। অতিরিক্ত সময়ের তৃতীয় মিনিটে মিকাল স্যাডলিকের এর জন্য সুযোগ তৈরি হয়। বক্সের কিনারায় বল কাটব্যাক হয়ে আসলে তিনি প্রথম টাচেই শট নেন, কিন্তু কোরিয়ার ডিফেন্ডার কিম-মিন জে দ্রুত আটকে দেন। ফলে শেষ হয়ে যায় চেকের ম্যাচে ফেরার আশা। ২-১ ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড় দক্ষিণ কোরিয়া।

আগামী ১৮ জুন দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে পরবর্তী ম্যাচে মাঠে নামবে চেক প্রজাতন্ত্র। পরদিন ১৯ তারিখ স্বাগতিক মেক্সিকোর মুখোমুখি হবে দক্ষিণ কোরিয়া।