Dhaka ০৭:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জামিন পেয়েও মুক্তি পাননি জুলাই হত্যা মামলার বারকাত

নিজেস্ব প্রতিবেদক
12 / 100 SEO Score

 

জুলাই আন্দোলন চলাকালে নীলক্ষেত এলাকায় ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াদুদ হত্যা মামলায় অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবুল বারকাতকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। অন্য একটি মামলায় জামিন পেলেও নতুন এই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশের কারণে তার কারামুক্তি আপাতত অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

রোববার (১৪ জুন) ঢাকার আদালত এ সংক্রান্ত আবেদন মঞ্জুর করেন।এর ফলে দুদকের একটি মামলায় জামিন পাওয়ার পরও তার কারামুক্তি আপাতত আটকে গেছে।

আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মাজহারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আদালত শুনানি শেষে অধ্যাপক আবুল বারকাতকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।

গত বছর ১০ জুলাই ধানমণ্ডির বাসা থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ অধ্যাপক আবুল বারকাতকে গ্রেপ্তার করে। এরপর জনতা ব্যাংক থেকে অ্যাননটেক্স গ্রুপের নামে ২৯৭ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল।

গত ৭ জুন ওই মামলায় আপিল বিভাগ থেকে তিনি জামিন পান। তবে মুক্তি পাওয়ার আগেই আব্দুল ওয়াদুদ হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করে ডিবি পুলিশ।

রোববার এই আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিকালে আবুল বারকাতকে আদালতে হাজির করা হয়। তার আইনজীবী শাহীনুর ইসলাম তাকে গ্রেপ্তার না দেখানোর আবেদন করলেও আদালত তা নাকচ করে দেন।

আবুল বারকাতের আরেক আইনজীবী বাবুল মিয়া জানান, এখন কারামুক্ত হতে হলে তাকে এই নতুন মামলায় জামিন পেতে হবে। বিষয়টি নিয়ে আগামীকাল সোমবার জামিন শুনানির দিন ধার্য রয়েছে।

মামলার এজাহার ও পুলিশের আবেদন সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেলে নিউ মার্কেটের নীলক্ষেত এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে গুলিতে ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াদুদ নিহত হন। এই ঘটনায় তার শ্যালক আব্দুর রব নিউ মার্কেট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন, যেখানে শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদেরসহ মোট ১৩০ জনকে আসামি করা হয়।

পুলিশের আবেদনের প্রেক্ষিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ঘটনার দিন সকাল ১১টা থেকে ১২টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও দলীয় সমর্থকদের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার জন্য অধ্যাপক আবুল বারকাত আর্থিক সহায়তা ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছিলেন।

Tag :

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জামিন পেয়েও মুক্তি পাননি জুলাই হত্যা মামলার বারকাত

Update Time : ০৬:০৬:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
12 / 100 SEO Score

 

জুলাই আন্দোলন চলাকালে নীলক্ষেত এলাকায় ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াদুদ হত্যা মামলায় অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবুল বারকাতকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। অন্য একটি মামলায় জামিন পেলেও নতুন এই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশের কারণে তার কারামুক্তি আপাতত অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

রোববার (১৪ জুন) ঢাকার আদালত এ সংক্রান্ত আবেদন মঞ্জুর করেন।এর ফলে দুদকের একটি মামলায় জামিন পাওয়ার পরও তার কারামুক্তি আপাতত আটকে গেছে।

আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মাজহারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আদালত শুনানি শেষে অধ্যাপক আবুল বারকাতকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।

গত বছর ১০ জুলাই ধানমণ্ডির বাসা থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ অধ্যাপক আবুল বারকাতকে গ্রেপ্তার করে। এরপর জনতা ব্যাংক থেকে অ্যাননটেক্স গ্রুপের নামে ২৯৭ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল।

গত ৭ জুন ওই মামলায় আপিল বিভাগ থেকে তিনি জামিন পান। তবে মুক্তি পাওয়ার আগেই আব্দুল ওয়াদুদ হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করে ডিবি পুলিশ।

রোববার এই আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিকালে আবুল বারকাতকে আদালতে হাজির করা হয়। তার আইনজীবী শাহীনুর ইসলাম তাকে গ্রেপ্তার না দেখানোর আবেদন করলেও আদালত তা নাকচ করে দেন।

আবুল বারকাতের আরেক আইনজীবী বাবুল মিয়া জানান, এখন কারামুক্ত হতে হলে তাকে এই নতুন মামলায় জামিন পেতে হবে। বিষয়টি নিয়ে আগামীকাল সোমবার জামিন শুনানির দিন ধার্য রয়েছে।

মামলার এজাহার ও পুলিশের আবেদন সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেলে নিউ মার্কেটের নীলক্ষেত এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে গুলিতে ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াদুদ নিহত হন। এই ঘটনায় তার শ্যালক আব্দুর রব নিউ মার্কেট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন, যেখানে শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদেরসহ মোট ১৩০ জনকে আসামি করা হয়।

পুলিশের আবেদনের প্রেক্ষিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ঘটনার দিন সকাল ১১টা থেকে ১২টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও দলীয় সমর্থকদের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার জন্য অধ্যাপক আবুল বারকাত আর্থিক সহায়তা ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছিলেন।