Dhaka ০৮:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে ইরান ‘প্রস্তর যুগে’ ফিরে যাবে: ট্রাম্প

12 / 100 SEO Score

জাতির উদ্দেশে ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে মিত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই ইরান বিরোধী যুদ্ধে জড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার (১ এপ্রিল) এক ভাষণে তিনি দাবি করেন, তেহরানের ওপর ওয়াশিংটনের এই সামরিক পদক্ষেপ মূলত ওই অঞ্চলে মার্কিন মিত্রদের দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টারই প্রতিফলন। ট্রাম্পের এই বক্তব্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর আগের মন্তব্যেরই প্রতিধ্বনি ঘটিয়েছে, যেখানে ইসরায়েলের উদ্বেগকে যুদ্ধের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল।

জ্বালানি শক্তিতে স্বয়ংসম্পূর্ণতার বড়াই করে ট্রাম্প বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের তেল বা অন্য কোনো সম্পদের ওপর আমাদের নির্ভরতা নেই। আমরা সেখানে গিয়েছি কেবল আমাদের বন্ধুদের সাহায্য করতে।’ ৩২ দিনব্যাপী এই যুদ্ধে মার্কিন বাহিনীকে ‘অপ্রতিরোধ্য’ আখ্যা দিয়ে তিনি জানান, কৌশলগত লক্ষ্যগুলো অর্জনের পথে তারা অনেক দূর এগিয়েছেন। তবে হামলা বন্ধের কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা না দিলেও ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, আগামী দুই-তিন সপ্তাহের মধ্যে ইরানকে ‘প্রস্তর যুগে’ পাঠিয়ে দেওয়ার মতো ভয়াবহ আঘাত হানা হবে।

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও আলী লারিজানির গুপ্তহত্যার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘আমরা বলিনি যে শাসন পরিবর্তন করব, কিন্তু বাস্তবে তা ঘটে গেছে।’ বর্তমানে খামেনিপুত্র মোজতবা সর্বোচ্চ নেতার আসনে বসলেও এখন পর্যন্ত তাকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি। ট্রাম্পের মতে, ইরানের নৌ ও বিমানবাহিনী এখন ধ্বংসস্তূপ এবং তাদের শীর্ষ নেতৃত্বের বড় অংশই নিশ্চিহ্ন।

ইসরায়েলসহ সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও বাহরাইনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেও ট্রাম্পের বক্তব্যে ওমানের কোনো উল্লেখ ছিল না। উল্লেখ্য, ওমানই একমাত্র উপসাগরীয় দেশ যারা এই যুদ্ধের নিন্দা জানিয়েছে এবং মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়েছিল। যুদ্ধে এ পর্যন্ত উপসাগরীয় দেশগুলোতে ৩০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও ইসরায়েল তাদের ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিসংখ্যান গোপন রেখেছে।

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের ক্রমবর্ধমান দাম নিয়ে মার্কিন নাগরিকদের কোনো স্বস্তির খবর দিতে পারেননি ট্রাম্প। তবে তিনি একে ‘অস্থায়ী’ সমস্যা হিসেবে অভিহিত করেছেন। হরমুজ প্রণালী প্রসঙ্গে তার দাবি, যুদ্ধ শেষ হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে এবং ইরান নিজেদের পুনর্গঠনের তাগিদেই তেল বিক্রি শুরু করবে।

 

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে ইরান ‘প্রস্তর যুগে’ ফিরে যাবে: ট্রাম্প

Update Time : ০৬:০৪:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬
12 / 100 SEO Score

জাতির উদ্দেশে ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে মিত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই ইরান বিরোধী যুদ্ধে জড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার (১ এপ্রিল) এক ভাষণে তিনি দাবি করেন, তেহরানের ওপর ওয়াশিংটনের এই সামরিক পদক্ষেপ মূলত ওই অঞ্চলে মার্কিন মিত্রদের দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টারই প্রতিফলন। ট্রাম্পের এই বক্তব্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর আগের মন্তব্যেরই প্রতিধ্বনি ঘটিয়েছে, যেখানে ইসরায়েলের উদ্বেগকে যুদ্ধের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল।

জ্বালানি শক্তিতে স্বয়ংসম্পূর্ণতার বড়াই করে ট্রাম্প বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের তেল বা অন্য কোনো সম্পদের ওপর আমাদের নির্ভরতা নেই। আমরা সেখানে গিয়েছি কেবল আমাদের বন্ধুদের সাহায্য করতে।’ ৩২ দিনব্যাপী এই যুদ্ধে মার্কিন বাহিনীকে ‘অপ্রতিরোধ্য’ আখ্যা দিয়ে তিনি জানান, কৌশলগত লক্ষ্যগুলো অর্জনের পথে তারা অনেক দূর এগিয়েছেন। তবে হামলা বন্ধের কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা না দিলেও ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, আগামী দুই-তিন সপ্তাহের মধ্যে ইরানকে ‘প্রস্তর যুগে’ পাঠিয়ে দেওয়ার মতো ভয়াবহ আঘাত হানা হবে।

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও আলী লারিজানির গুপ্তহত্যার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘আমরা বলিনি যে শাসন পরিবর্তন করব, কিন্তু বাস্তবে তা ঘটে গেছে।’ বর্তমানে খামেনিপুত্র মোজতবা সর্বোচ্চ নেতার আসনে বসলেও এখন পর্যন্ত তাকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি। ট্রাম্পের মতে, ইরানের নৌ ও বিমানবাহিনী এখন ধ্বংসস্তূপ এবং তাদের শীর্ষ নেতৃত্বের বড় অংশই নিশ্চিহ্ন।

ইসরায়েলসহ সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও বাহরাইনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেও ট্রাম্পের বক্তব্যে ওমানের কোনো উল্লেখ ছিল না। উল্লেখ্য, ওমানই একমাত্র উপসাগরীয় দেশ যারা এই যুদ্ধের নিন্দা জানিয়েছে এবং মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়েছিল। যুদ্ধে এ পর্যন্ত উপসাগরীয় দেশগুলোতে ৩০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও ইসরায়েল তাদের ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিসংখ্যান গোপন রেখেছে।

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের ক্রমবর্ধমান দাম নিয়ে মার্কিন নাগরিকদের কোনো স্বস্তির খবর দিতে পারেননি ট্রাম্প। তবে তিনি একে ‘অস্থায়ী’ সমস্যা হিসেবে অভিহিত করেছেন। হরমুজ প্রণালী প্রসঙ্গে তার দাবি, যুদ্ধ শেষ হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে এবং ইরান নিজেদের পুনর্গঠনের তাগিদেই তেল বিক্রি শুরু করবে।