Dhaka ০৯:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আমদানি ঋণে ফরওয়ার্ড রেট সুবিধা চালু বাংলাদেশ ব্যাংকের

নিজস্ব প্রতিবেদক
12 / 100 SEO Score

 

এখন থেকে বিদেশি মুদ্রায় আমদানি ঋণ গ্রহণকারীরা ব্যাংকের সঙ্গে ফরওয়ার্ড রেট চুক্তি করতে পারবেন, যার মাধ্যমে ভবিষ্যতের জন্য আগাম সুদের হার নির্ধারণ করে নেওয়া যাবে।আমদানি ঋণে সুদের হার ওঠানামাজনিত ঝুঁকি কমাতেই এই নতুন সুবিধা চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে সুদের হারের পরিবর্তনের কারণে আমদানিকারকদের ব্যয় অনিশ্চয়তা কমবে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, সরবরাহকারী ঋণ ও ক্রেতা ঋণের আওতায় ইউজেন্স ভিত্তিক আমদানির ক্ষেত্রে এ সুবিধা প্রযোজ্য হবে। অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলো বিদেশি মুদ্রায় আমদানি ঋণ গ্রহণকারীদের সঙ্গে এ ধরনের চুক্তি করতে পারবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডভিত্তিক সুদের হার, বিশেষ করে এসওএফআর-এর ওঠানামার কারণে আমদানিকারকদের যে অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে হয়, তা কমাতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে আমদানিকারকেরা আগাম সুদের হার নির্ধারণ করে অর্থায়ন ব্যয় সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারবেন।

সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে, ফরওয়ার্ড রেট চুক্তি কেবল ঝুঁকি প্রশমন বা হেজিংয়ের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যাবে। এটি অবশ্যই প্রকৃত আমদানি লেনদেনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে হবে এবং কোনো ধরনের ফটকাবাজি বা অরক্ষিত অবস্থান গ্রহণের সুযোগ থাকবে না।

নতুন ব্যবস্থায় ভবিষ্যতের নির্দিষ্ট সময়ের জন্য একটি সুদের হার নির্ধারণ করা যাবে। পরবর্তীতে চুক্তিকৃত হার ও সংশ্লিষ্ট সময়ের প্রচলিত মানদণ্ডভিত্তিক সুদের হারের মধ্যে পার্থক্যের ভিত্তিতে আর্থিক নিষ্পত্তি সম্পন্ন হবে।

ব্যাংকগুলোর জন্যও বেশ কিছু ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ ধরনের চুক্তি থেকে সৃষ্ট ঝুঁকি একই দিনে সমান্তরাল লেনদেনের মাধ্যমে সম্পূর্ণভাবে সমন্বয় করতে হবে, যাতে ব্যাংকগুলো নিজেদের হিসাবে কোনো বাজারঝুঁকি বহন না করে।

এছাড়া মূল্য নির্ধারণে ব্যাংকের মার্জিন সর্বোচ্চ ১০ ভিত্তি পয়েন্ট বা বেসিস পয়েন্টের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে।

একইসঙ্গে কোনো ব্যাংকের মোট ফরওয়ার্ড রেট চুক্তির পরিমাণ তার গত ১২ মাসের গড় মাসিক বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাহের ২৫ শতাংশের বেশি হতে পারবে না বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সার্কুলার অনুযায়ী আন্তর্জাতিক মানসম্মত চুক্তি কাঠামোর ব্যবহার, দৈনিক বাজারমূল্যায়ন এবং শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। চুক্তির আগাম সমাপ্তির ক্ষেত্রে প্রচলিত বাজারদরে নিষ্পত্তি এবং সংশ্লিষ্ট সব দলিল সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

আমদানি ঋণে ফরওয়ার্ড রেট সুবিধা চালু বাংলাদেশ ব্যাংকের

Update Time : ১২:৩২:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
12 / 100 SEO Score

 

এখন থেকে বিদেশি মুদ্রায় আমদানি ঋণ গ্রহণকারীরা ব্যাংকের সঙ্গে ফরওয়ার্ড রেট চুক্তি করতে পারবেন, যার মাধ্যমে ভবিষ্যতের জন্য আগাম সুদের হার নির্ধারণ করে নেওয়া যাবে।আমদানি ঋণে সুদের হার ওঠানামাজনিত ঝুঁকি কমাতেই এই নতুন সুবিধা চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে সুদের হারের পরিবর্তনের কারণে আমদানিকারকদের ব্যয় অনিশ্চয়তা কমবে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, সরবরাহকারী ঋণ ও ক্রেতা ঋণের আওতায় ইউজেন্স ভিত্তিক আমদানির ক্ষেত্রে এ সুবিধা প্রযোজ্য হবে। অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলো বিদেশি মুদ্রায় আমদানি ঋণ গ্রহণকারীদের সঙ্গে এ ধরনের চুক্তি করতে পারবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডভিত্তিক সুদের হার, বিশেষ করে এসওএফআর-এর ওঠানামার কারণে আমদানিকারকদের যে অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে হয়, তা কমাতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে আমদানিকারকেরা আগাম সুদের হার নির্ধারণ করে অর্থায়ন ব্যয় সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারবেন।

সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে, ফরওয়ার্ড রেট চুক্তি কেবল ঝুঁকি প্রশমন বা হেজিংয়ের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যাবে। এটি অবশ্যই প্রকৃত আমদানি লেনদেনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে হবে এবং কোনো ধরনের ফটকাবাজি বা অরক্ষিত অবস্থান গ্রহণের সুযোগ থাকবে না।

নতুন ব্যবস্থায় ভবিষ্যতের নির্দিষ্ট সময়ের জন্য একটি সুদের হার নির্ধারণ করা যাবে। পরবর্তীতে চুক্তিকৃত হার ও সংশ্লিষ্ট সময়ের প্রচলিত মানদণ্ডভিত্তিক সুদের হারের মধ্যে পার্থক্যের ভিত্তিতে আর্থিক নিষ্পত্তি সম্পন্ন হবে।

ব্যাংকগুলোর জন্যও বেশ কিছু ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ ধরনের চুক্তি থেকে সৃষ্ট ঝুঁকি একই দিনে সমান্তরাল লেনদেনের মাধ্যমে সম্পূর্ণভাবে সমন্বয় করতে হবে, যাতে ব্যাংকগুলো নিজেদের হিসাবে কোনো বাজারঝুঁকি বহন না করে।

এছাড়া মূল্য নির্ধারণে ব্যাংকের মার্জিন সর্বোচ্চ ১০ ভিত্তি পয়েন্ট বা বেসিস পয়েন্টের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে।

একইসঙ্গে কোনো ব্যাংকের মোট ফরওয়ার্ড রেট চুক্তির পরিমাণ তার গত ১২ মাসের গড় মাসিক বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাহের ২৫ শতাংশের বেশি হতে পারবে না বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সার্কুলার অনুযায়ী আন্তর্জাতিক মানসম্মত চুক্তি কাঠামোর ব্যবহার, দৈনিক বাজারমূল্যায়ন এবং শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। চুক্তির আগাম সমাপ্তির ক্ষেত্রে প্রচলিত বাজারদরে নিষ্পত্তি এবং সংশ্লিষ্ট সব দলিল সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।