Dhaka ০৯:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কিংবদন্তি শিল্পী সৈয়দ আব্দুল হাদীর জন্মদিন আজ

বিনোদন ডেস্ক
8 / 100 SEO Score

 

যাদের সুরেলা কণ্ঠে সমৃদ্ধ হয়েছে বাংলা গান, যারা সংস্কৃতির পথ চিনিয়েছেন একাধিক প্রজন্মকে, তাদেরই একজন সৈয়দ আব্দুল হাদী। কিংবদন্তি এই সংগীতশিল্পীর জন্মদিন আজ। ১৯৪০ সালের আজকের দিনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ৮৬তম জন্মদিনে ভক্ত, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সতীর্থদের ভালোবাসায় সিক্ত হচ্ছেন শিল্পী।

আব্দুল হাদীর জন্মদিন উপলক্ষে বিশেষ আয়োজন রেখেছে চ্যানেল আই। সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে প্রচারিত হয়েছে তার গাওয়া কালজয়ী ১২টি গান নিয়ে বিশেষ অনুষ্ঠান ‘গান আছে এখানে’। শাইখ সিরাজের পরিকল্পনায় অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেছেন লুইপা। এতে গানগুলো নতুন করে গেয়েছেন ইমরান, সাব্বির, অপু আনাম এবং আতিক।

দুপুর ১২টা ০৫ মিনিটে রয়েছে সানজিদা রহমানের উপস্থাপনায় বিশেষ তারকা কথন। এতে উপস্থিত থাকবেন সৈয়দ আব্দুল হাদী। তার সঙ্গে আরও থাকবেন গীতিকার রফিকুজ্জমান, শিল্পী মো. খুরশীদ আলম এবং আবিদা সুলতানা। তাদের আড্ডা-আলাপে উঠে আসবে শিল্পীর জীবনের নানা অজানা গল্প।

বিকাল ৫টা ১৫ মিনিটে প্রচারিত হবে প্রামাণ্যচিত্র ‘গল্প আছে এখানে…’। শাইখ সিরাজ নির্মিত এ প্রামাণ্য চিত্রে দিলখোলা আলাপচারিতায় সৈয়দ আব্দুল হাদী বলেছেন তার শৈশব, সংগীত জীবনের সূচনা, বাংলাদেশের সংগীতের বিবর্তন, সমকালীন শিল্পচর্চা এবং আগামী প্রজন্মের শিল্পীদের প্রতি প্রত্যাশার কথা।

উল্লেখ্য, সৈয়দ আব্দুল হাদীর বাবা ছিলেন ইস্ট পাকিস্তান সিভিল সার্ভিস অফিসার। তবে ছিলেন সংগীতানুরাগী। বাবার গ্রামোফোনে গান শুনে শৈশবেই সংগীতের প্রতি আগ্রহী হন তিনি। গাইতে গাইতেই শিখেছেন গান। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাজীবনে পড়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে।

ছাত্রজীবনেই চলচ্চিত্রে গাওয়া শুরু করেন হাদী। ১৯৬৪ সালে সিনেমায় পূর্ণাঙ্গ প্লেব্যাক করেন ‘ডাকবাবু’তে। তারপর অল্প সময়ের ব্যবধানে তিনি হয়ে ওঠেন বাংলা চলচ্চিত্রের অদ্বিতীয় কণ্ঠস্বর। গেয়েছেন অনেক অ্যালবামেও। হাদীর গাওয়া কালজয়ী গানগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘আছেন আমার মোক্তার, আছেন আমার বারিস্টার’, ‘সূর্যোদয়ে তুমি সূর্যাস্তেও তুমি’, ‘একবার যদি কেউ ভালোবাসতো’, ‘এই পৃথিবীর পান্থশালায়’, ‘এমনও তো প্রেম হয়’, ‘কারো আপন হইতে পারলি না অন্তর’, ‘কেউ কোনো দিন আমারে তো কথা দিলো না’, ‘যেও না সাথী’, ‘আমি তোমারই প্রেম ভিখারী’, ‘চোখ বুজিলে দুনিয়া আন্ধার’, ‘তেল গেলে ফুরাইয়া’ ইত্যাদি।

গানের জন্য শ্রেষ্ঠ সংগীতশিল্পী হিসেবে পাঁচবার পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। এছাড়া ২০০০ সালে তিনি ভূষিত হন রাষ্ট্রীয় সম্মাননা একুশে পদকে। কিছুদিন আগে তাকে বিশেষ সম্মাননা দিয়েছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি।

 

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

কিংবদন্তি শিল্পী সৈয়দ আব্দুল হাদীর জন্মদিন আজ

Update Time : ০৮:৪১:৫৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬
8 / 100 SEO Score

 

যাদের সুরেলা কণ্ঠে সমৃদ্ধ হয়েছে বাংলা গান, যারা সংস্কৃতির পথ চিনিয়েছেন একাধিক প্রজন্মকে, তাদেরই একজন সৈয়দ আব্দুল হাদী। কিংবদন্তি এই সংগীতশিল্পীর জন্মদিন আজ। ১৯৪০ সালের আজকের দিনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ৮৬তম জন্মদিনে ভক্ত, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সতীর্থদের ভালোবাসায় সিক্ত হচ্ছেন শিল্পী।

আব্দুল হাদীর জন্মদিন উপলক্ষে বিশেষ আয়োজন রেখেছে চ্যানেল আই। সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে প্রচারিত হয়েছে তার গাওয়া কালজয়ী ১২টি গান নিয়ে বিশেষ অনুষ্ঠান ‘গান আছে এখানে’। শাইখ সিরাজের পরিকল্পনায় অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেছেন লুইপা। এতে গানগুলো নতুন করে গেয়েছেন ইমরান, সাব্বির, অপু আনাম এবং আতিক।

দুপুর ১২টা ০৫ মিনিটে রয়েছে সানজিদা রহমানের উপস্থাপনায় বিশেষ তারকা কথন। এতে উপস্থিত থাকবেন সৈয়দ আব্দুল হাদী। তার সঙ্গে আরও থাকবেন গীতিকার রফিকুজ্জমান, শিল্পী মো. খুরশীদ আলম এবং আবিদা সুলতানা। তাদের আড্ডা-আলাপে উঠে আসবে শিল্পীর জীবনের নানা অজানা গল্প।

বিকাল ৫টা ১৫ মিনিটে প্রচারিত হবে প্রামাণ্যচিত্র ‘গল্প আছে এখানে…’। শাইখ সিরাজ নির্মিত এ প্রামাণ্য চিত্রে দিলখোলা আলাপচারিতায় সৈয়দ আব্দুল হাদী বলেছেন তার শৈশব, সংগীত জীবনের সূচনা, বাংলাদেশের সংগীতের বিবর্তন, সমকালীন শিল্পচর্চা এবং আগামী প্রজন্মের শিল্পীদের প্রতি প্রত্যাশার কথা।

উল্লেখ্য, সৈয়দ আব্দুল হাদীর বাবা ছিলেন ইস্ট পাকিস্তান সিভিল সার্ভিস অফিসার। তবে ছিলেন সংগীতানুরাগী। বাবার গ্রামোফোনে গান শুনে শৈশবেই সংগীতের প্রতি আগ্রহী হন তিনি। গাইতে গাইতেই শিখেছেন গান। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাজীবনে পড়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে।

ছাত্রজীবনেই চলচ্চিত্রে গাওয়া শুরু করেন হাদী। ১৯৬৪ সালে সিনেমায় পূর্ণাঙ্গ প্লেব্যাক করেন ‘ডাকবাবু’তে। তারপর অল্প সময়ের ব্যবধানে তিনি হয়ে ওঠেন বাংলা চলচ্চিত্রের অদ্বিতীয় কণ্ঠস্বর। গেয়েছেন অনেক অ্যালবামেও। হাদীর গাওয়া কালজয়ী গানগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘আছেন আমার মোক্তার, আছেন আমার বারিস্টার’, ‘সূর্যোদয়ে তুমি সূর্যাস্তেও তুমি’, ‘একবার যদি কেউ ভালোবাসতো’, ‘এই পৃথিবীর পান্থশালায়’, ‘এমনও তো প্রেম হয়’, ‘কারো আপন হইতে পারলি না অন্তর’, ‘কেউ কোনো দিন আমারে তো কথা দিলো না’, ‘যেও না সাথী’, ‘আমি তোমারই প্রেম ভিখারী’, ‘চোখ বুজিলে দুনিয়া আন্ধার’, ‘তেল গেলে ফুরাইয়া’ ইত্যাদি।

গানের জন্য শ্রেষ্ঠ সংগীতশিল্পী হিসেবে পাঁচবার পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। এছাড়া ২০০০ সালে তিনি ভূষিত হন রাষ্ট্রীয় সম্মাননা একুশে পদকে। কিছুদিন আগে তাকে বিশেষ সম্মাননা দিয়েছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি।