Dhaka ০৭:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
২০৩০ লক্ষ্য নিয়ে রেলের রোডম্যাপ দাউদকান্দিতে চালবোঝাই ট্রাক উল্টে নিহত ৭ শেষ হলো বৈশাখী শোভাযাত্রা, ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ প্ল্যাকার্ডে ভিন্ন বার্তা মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে হরমুজ পার করলো চীনা জাহাজ শুরু বৈশাখী শোভাযাত্রা, চারুকলা থেকে বর্ণিল আয়োজনে মানুষের ঢল ইরানি নারী ফুটবল দলের অধিনায়কের বাজেয়াপ্ত সম্পদ ফেরত দিচ্ছে সরকার আজও সাতসকালে ‘অস্বাস্থ্যকর’ ঢাকার বাতাস রমনার বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ: ‘জাগো আলোক-লগ্নে’ গানে নববর্ষের সূচনা টাঙ্গাইলে আজ ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী বৈশাখী শোভাযাত্রা ঘিরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কড়া নিরাপত্তা

খুলনায়  বিএনপি নেতার মৃত্যু

12 / 100 SEO Score

খুলনা সদরের আলিয়া মাদরাসা ভোটকেন্দ্রের সামনে দুইপক্ষের উত্তেজনা ও হট্টগোলের মাঝে মহিবুজ্জামান কচি নামের এক বিএনপি নেতার মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা ১০ মিনিটে এ ঘটনা ঘটে।

মৃত মহিবুজ্জামান কচি খুলনা মহানগর বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক। নগরের হাজী মহসিন রোড বাই লেনে তার বাড়ি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, সকাল ৮টায় আলিয়া মাদরাসা একাডেমিক ভবন কেন্দ্রের অদূরে সামনে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। এ সময় তার মৃত্যুর খবরটি সামনে আসে।

খুলনা মহানগর বিএনপির সাবেক সহ-দপ্তর সম্পাদক শামসুজ্জামান চঞ্চল ও সদর থানা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইউসুফ হারুন মজনু অভিযোগ করে বলেন, ‘সকাল থেকেই কেন্দ্রে উত্তেজনা ছিল। আলিয়া মাদরাসার অধ্যক্ষ জামায়াতের প্রচারণায় ছিলেন। তাকে বাধা দিলে তিনি মহিবুজ্জামান কচিকে ধাক্কা দিলে তিনি গাছের সঙ্গে মাথায় আঘাত পান। এতেই তার মৃত্যু হয়েছে।’খুলনা আলিয়া মাদরাসার অধ্যক্ষ আব্দুর রহিম মিয়া বলেন, ‘আমি সবুরণনেসা কেন্দ্র থেকে ভোট দিয়ে বাড়ি প্রবেশ করছিলাম। তখন দেখি কয়েকজন‌ মহিলাদের বের করে দিচ্ছে। আমি সবাইকে যেতে বলি। কাউকে ধাক্কা দেইনি।’

খুলনা-২ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য প্রার্থী মো. জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল বলেন, ঘটনা শোনার পর আলিয়া মাদরাসা ক্যাম্পাসে আমি প্রবেশ করেছিলাম। সেখানে শুনলাম ভেতরে ভোটারদের সঙ্গে উত্তেজনা পরিস্থিতি তৈরি ও তাদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। পরে ঘটনাটি বিলম্বিত হয়ে গেছে এবং তিনি অসুস্থ হওয়ার পরই ঘটনাটি (মৃত্যু) ঘটেছে। ঘটনাটি কোনো পূর্বপরিকল্পিত বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নয়। শুনেছি উনি অসুস্থ ছিলেন। উত্তেজনাকর অবস্থার পর তার হার্ট এ্যাটাক হয়।

তিনি বলেন, একটা অভিযোগ যখন দাখিল করেছেন। অভিযোগ মানেই ঘটনাটি সঠিক নয়। তবে অভিযোগের তদন্ত হওয়া দরকার। তদন্তের পর সঠিক বিষয়টি বেরিয়ে আসবে। মৃত্যুর কারণ কি সেটি জানা যাবে। তবে মৃত্যু বেদনাদায়ক। আর আজকের দিনে ঘটনাটি ঘটেছে, এটি আরও বেমি আমাদের জন্য বেদনাদায়ক।

কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার সাইফুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি কেন্দ্রের বাইরে ঘটেছে। এটি আমার বিষয় নয়।

খুলনা-২ আসনের বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, খুলনায় বিএনপিতে বিষাদের ছায়া। সকালে আলিয়া মাদরাসা কেন্দ্রে প্রিন্সিপাল জামায়াত নেতার আঘাতে মহানগর বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক মহিবুজ্জামান কচি নিহত হয়েছে। আমরা অবলিম্বে প্রিন্সিপাল এবং তার সহযোগী মাহবুবের গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি। যারা নির্দেশ দিয়েছেন তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি। জামায়াতের মতো একটি সংগঠন তার কর্মীদের সংযত আচরণ করার পরামর্শ দেব।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান বলেন, ঘটনাটির ভিডিও ফুটেজ আমরা সংগ্রহ করেছি। ভিডিওতে উত্তেজনা দেখা গেছে। তবে তিনি পড়ে গিয়েছিলেন এমন ভিডিও এখনও পায়নি। বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়েছে। শুনেছি আলিয়া মাদরাসার অধ্যক্ষ ভোটদানে উদ্বুদ্ধ করছিলেন। এসময় তর্কবিতর্ক হয়। বিষয়টি আমরা তদন্ত করছি। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য সংগ্রহ করব। তদন্তের পর বিষয়টি বলা সম্ভব হবে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

খুলনায়  বিএনপি নেতার মৃত্যু

Update Time : ০৯:৩৪:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
12 / 100 SEO Score

খুলনা সদরের আলিয়া মাদরাসা ভোটকেন্দ্রের সামনে দুইপক্ষের উত্তেজনা ও হট্টগোলের মাঝে মহিবুজ্জামান কচি নামের এক বিএনপি নেতার মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা ১০ মিনিটে এ ঘটনা ঘটে।

মৃত মহিবুজ্জামান কচি খুলনা মহানগর বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক। নগরের হাজী মহসিন রোড বাই লেনে তার বাড়ি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, সকাল ৮টায় আলিয়া মাদরাসা একাডেমিক ভবন কেন্দ্রের অদূরে সামনে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। এ সময় তার মৃত্যুর খবরটি সামনে আসে।

খুলনা মহানগর বিএনপির সাবেক সহ-দপ্তর সম্পাদক শামসুজ্জামান চঞ্চল ও সদর থানা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইউসুফ হারুন মজনু অভিযোগ করে বলেন, ‘সকাল থেকেই কেন্দ্রে উত্তেজনা ছিল। আলিয়া মাদরাসার অধ্যক্ষ জামায়াতের প্রচারণায় ছিলেন। তাকে বাধা দিলে তিনি মহিবুজ্জামান কচিকে ধাক্কা দিলে তিনি গাছের সঙ্গে মাথায় আঘাত পান। এতেই তার মৃত্যু হয়েছে।’খুলনা আলিয়া মাদরাসার অধ্যক্ষ আব্দুর রহিম মিয়া বলেন, ‘আমি সবুরণনেসা কেন্দ্র থেকে ভোট দিয়ে বাড়ি প্রবেশ করছিলাম। তখন দেখি কয়েকজন‌ মহিলাদের বের করে দিচ্ছে। আমি সবাইকে যেতে বলি। কাউকে ধাক্কা দেইনি।’

খুলনা-২ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য প্রার্থী মো. জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল বলেন, ঘটনা শোনার পর আলিয়া মাদরাসা ক্যাম্পাসে আমি প্রবেশ করেছিলাম। সেখানে শুনলাম ভেতরে ভোটারদের সঙ্গে উত্তেজনা পরিস্থিতি তৈরি ও তাদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। পরে ঘটনাটি বিলম্বিত হয়ে গেছে এবং তিনি অসুস্থ হওয়ার পরই ঘটনাটি (মৃত্যু) ঘটেছে। ঘটনাটি কোনো পূর্বপরিকল্পিত বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নয়। শুনেছি উনি অসুস্থ ছিলেন। উত্তেজনাকর অবস্থার পর তার হার্ট এ্যাটাক হয়।

তিনি বলেন, একটা অভিযোগ যখন দাখিল করেছেন। অভিযোগ মানেই ঘটনাটি সঠিক নয়। তবে অভিযোগের তদন্ত হওয়া দরকার। তদন্তের পর সঠিক বিষয়টি বেরিয়ে আসবে। মৃত্যুর কারণ কি সেটি জানা যাবে। তবে মৃত্যু বেদনাদায়ক। আর আজকের দিনে ঘটনাটি ঘটেছে, এটি আরও বেমি আমাদের জন্য বেদনাদায়ক।

কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার সাইফুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি কেন্দ্রের বাইরে ঘটেছে। এটি আমার বিষয় নয়।

খুলনা-২ আসনের বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, খুলনায় বিএনপিতে বিষাদের ছায়া। সকালে আলিয়া মাদরাসা কেন্দ্রে প্রিন্সিপাল জামায়াত নেতার আঘাতে মহানগর বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক মহিবুজ্জামান কচি নিহত হয়েছে। আমরা অবলিম্বে প্রিন্সিপাল এবং তার সহযোগী মাহবুবের গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি। যারা নির্দেশ দিয়েছেন তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি। জামায়াতের মতো একটি সংগঠন তার কর্মীদের সংযত আচরণ করার পরামর্শ দেব।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান বলেন, ঘটনাটির ভিডিও ফুটেজ আমরা সংগ্রহ করেছি। ভিডিওতে উত্তেজনা দেখা গেছে। তবে তিনি পড়ে গিয়েছিলেন এমন ভিডিও এখনও পায়নি। বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়েছে। শুনেছি আলিয়া মাদরাসার অধ্যক্ষ ভোটদানে উদ্বুদ্ধ করছিলেন। এসময় তর্কবিতর্ক হয়। বিষয়টি আমরা তদন্ত করছি। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য সংগ্রহ করব। তদন্তের পর বিষয়টি বলা সম্ভব হবে।