Dhaka ০৮:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চক্ষু স্বাস্থ্যসেবায় মেগা প্রকল্প সরকারের

নিজস্ব প্রতিবেদক
12 / 100 SEO Score

 

দেশে ছানি রোগে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী বা অন্ধ হয়ে পড়া প্রায় ১০ লাখ মানুষের দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে আনতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বিনামূল্যে ও স্বল্পমূল্যে ছানি অপারেশনের দেশব্যাপী কর্মসূচির পাশাপাশি চক্ষু স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার এবং বৈশ্বিক পর্যায়ে নেতৃত্বের অংশ হিসেবেও কাজ করছে বাংলাদেশ।

সোমবার (৬ জুলাই) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে অন্ধত্ব প্রতিরোধবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর দ্য প্রিভেনশন অব ব্লাইন্ডনেস (আইএপিবি)-এর প্রধান নির্বাহী পিটার হল্যান্ডের সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।

ড. এম এ মুহিত বলেন, বর্তমানে দেশে প্রায় ১০ লাখ মানুষ ছানি অপারেশনের অভাবে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী বা অন্ধত্বের শিকার। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে আনা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ব্যক্তিগতভাবে এ উদ্যোগের প্রতি আন্তরিক। সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যয় কমাতে চলতি বাজেটে ছানি অপারেশনের পর ব্যবহৃত কৃত্রিম লেন্সের ওপর আরোপিত কর হ্রাস করা হয়েছে। ফলে ছানি অপারেশনের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে এবং দরিদ্র মানুষের জন্য চিকিৎসাসেবা আরও সহজলভ্য হবে।

নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য বৈশ্বিক চক্ষু স্বাস্থ্য সম্মেলন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং নীতিনির্ধারকদের অংশগ্রহণে প্রথমবারের মতো এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ সেখানে সহ-আয়োজক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্মেলনে অংশগ্রহণের বিষয়ে ইতিবাচক থাকলেও একই সময়ে কমনওয়েলথ রাষ্ট্রপ্রধানদের বৈঠক থাকায় তিনি উপস্থিত হতে না পারলে সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশের পক্ষে দায়িত্ব পালন করবে।

তিনি বলেন, গ্রামাঞ্চলের অনেক শিশু নিয়মিত চোখ পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চশমার অভাবে দৃষ্টিজনিত সমস্যায় ভুগছে, যা তাদের শিক্ষা ও স্বাভাবিক বিকাশে বাধা সৃষ্টি করছে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন এবং আইএপিবিকে শিশুদের চোখ পরীক্ষা ও চশমা বিতরণ কার্যক্রমে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন। সংস্থাটি এ বিষয়ে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।লেন্সের মূল্য হ্রাস, ব্যাপক পরিসরে ছানি অপারেশন কর্মসূচি এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সহযোগিতার মাধ্যমে দেশের চক্ষু স্বাস্থ্যসেবায় ইতিবাচক ও দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন আসবে।

এ সময় আইএপিবির প্রধান নির্বাহী পিটার হল্যান্ড বলেন, আগামী ২ নভেম্বর অ্যান্টিগায় অনুষ্ঠিতব্য বৈশ্বিক চক্ষু স্বাস্থ্য সম্মেলন বিশ্বনেতাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হবে। সেখানে বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীরা নিজ নিজ দেশের চক্ষু স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে নতুন প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করবেন।

বাংলাদেশকে বৈশ্বিক চক্ষু স্বাস্থ্যসেবায় অন্যতম পথপ্রদর্শক উল্লেখ করে তিনি বলেন, দৃষ্টিশক্তি সুরক্ষাবিষয়ক জাতিসংঘের প্রথম ঐতিহাসিক প্রস্তাব উত্থাপনে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। দীর্ঘদিন ধরেই এ খাতে দেশের অবদান আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত।

পিটার হল্যান্ড আরও বলেন, নতুন সরকারের নেতৃত্বে সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার অংশ হিসেবে চক্ষু স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থা ছানি অপারেশনের মানোন্নয়ন, সাধারণ মানুষের কাছে চশমা পৌঁছে দেওয়া এবং চক্ষু স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণে কাজ করছে।

Tag :

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

চক্ষু স্বাস্থ্যসেবায় মেগা প্রকল্প সরকারের

Update Time : ০৬:৫৬:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬
12 / 100 SEO Score

 

দেশে ছানি রোগে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী বা অন্ধ হয়ে পড়া প্রায় ১০ লাখ মানুষের দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে আনতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বিনামূল্যে ও স্বল্পমূল্যে ছানি অপারেশনের দেশব্যাপী কর্মসূচির পাশাপাশি চক্ষু স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার এবং বৈশ্বিক পর্যায়ে নেতৃত্বের অংশ হিসেবেও কাজ করছে বাংলাদেশ।

সোমবার (৬ জুলাই) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে অন্ধত্ব প্রতিরোধবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর দ্য প্রিভেনশন অব ব্লাইন্ডনেস (আইএপিবি)-এর প্রধান নির্বাহী পিটার হল্যান্ডের সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।

ড. এম এ মুহিত বলেন, বর্তমানে দেশে প্রায় ১০ লাখ মানুষ ছানি অপারেশনের অভাবে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী বা অন্ধত্বের শিকার। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে আনা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ব্যক্তিগতভাবে এ উদ্যোগের প্রতি আন্তরিক। সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যয় কমাতে চলতি বাজেটে ছানি অপারেশনের পর ব্যবহৃত কৃত্রিম লেন্সের ওপর আরোপিত কর হ্রাস করা হয়েছে। ফলে ছানি অপারেশনের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে এবং দরিদ্র মানুষের জন্য চিকিৎসাসেবা আরও সহজলভ্য হবে।

নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য বৈশ্বিক চক্ষু স্বাস্থ্য সম্মেলন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং নীতিনির্ধারকদের অংশগ্রহণে প্রথমবারের মতো এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ সেখানে সহ-আয়োজক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্মেলনে অংশগ্রহণের বিষয়ে ইতিবাচক থাকলেও একই সময়ে কমনওয়েলথ রাষ্ট্রপ্রধানদের বৈঠক থাকায় তিনি উপস্থিত হতে না পারলে সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশের পক্ষে দায়িত্ব পালন করবে।

তিনি বলেন, গ্রামাঞ্চলের অনেক শিশু নিয়মিত চোখ পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চশমার অভাবে দৃষ্টিজনিত সমস্যায় ভুগছে, যা তাদের শিক্ষা ও স্বাভাবিক বিকাশে বাধা সৃষ্টি করছে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন এবং আইএপিবিকে শিশুদের চোখ পরীক্ষা ও চশমা বিতরণ কার্যক্রমে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন। সংস্থাটি এ বিষয়ে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।লেন্সের মূল্য হ্রাস, ব্যাপক পরিসরে ছানি অপারেশন কর্মসূচি এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সহযোগিতার মাধ্যমে দেশের চক্ষু স্বাস্থ্যসেবায় ইতিবাচক ও দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন আসবে।

এ সময় আইএপিবির প্রধান নির্বাহী পিটার হল্যান্ড বলেন, আগামী ২ নভেম্বর অ্যান্টিগায় অনুষ্ঠিতব্য বৈশ্বিক চক্ষু স্বাস্থ্য সম্মেলন বিশ্বনেতাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হবে। সেখানে বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীরা নিজ নিজ দেশের চক্ষু স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে নতুন প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করবেন।

বাংলাদেশকে বৈশ্বিক চক্ষু স্বাস্থ্যসেবায় অন্যতম পথপ্রদর্শক উল্লেখ করে তিনি বলেন, দৃষ্টিশক্তি সুরক্ষাবিষয়ক জাতিসংঘের প্রথম ঐতিহাসিক প্রস্তাব উত্থাপনে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। দীর্ঘদিন ধরেই এ খাতে দেশের অবদান আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত।

পিটার হল্যান্ড আরও বলেন, নতুন সরকারের নেতৃত্বে সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার অংশ হিসেবে চক্ষু স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থা ছানি অপারেশনের মানোন্নয়ন, সাধারণ মানুষের কাছে চশমা পৌঁছে দেওয়া এবং চক্ষু স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণে কাজ করছে।